sliderরাজনীতিশিরোনাম

জুলাই সনদের খসড়ায় লিখিত মতামত দিয়েছে এবি পার্টি

পতাকা ডেস্ক: বুধবার ২০ আগস্ট জুলাই জাতীয় সনদে খসড়া লিখিত মতামত জমা দিয়েছে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি। লিখিত মতামতে এবি পার্টি বলছে, আমরা লক্ষ্য করেছি যে, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবিত সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ সমন্বিত খসড়া (সংশোধিত) এ আমাদের মতামতের বেশকিছু প্রতিফলন ঘটেছে। অর্থাৎ, প্রারম্ভিক বক্তব্য এবং ১-৪ নম্বর অনুচ্ছেদে আমাদের মতামতগুলো অনেকাংশে প্রতিফলিত হয়েছে। ফলে উল্লিখিত ১-৪ নম্বর অনুচ্ছেদে আমাদের কোন আপত্তি নেই।
এতে আরও বলা হয়, অনুচ্ছেদ ৫(১) থেকে (২০) পর্যন্ত কোন আপত্তি নেই। (খ) অনুচ্ছেদ ২১- আইনসভা এবি পার্টি এক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভার পক্ষে হলেও জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার স্বার্থে আমরা আমাদের অবস্থান পরিবর্তন করে দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা ব্যবস্থা প্রবর্তনের পক্ষে একমত পোষণ করেছিলাম- এই শর্তে যে, নিম্নকক্ষের নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষের ১০০ (একশত) জন সদস্য নির্বাচিত হবেন। যদি উচ্চকক্ষে এ পদ্ধতির প্রচলন না হয় তাহলে আমরা বাংলাদেশের সংসদীয় নির্বাচনে (নিম্নকক্ষে) অধিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে প্রাথমিকভাবে ১০০টি আসনে সংখ্যানুপাতিক (পিআর) নির্বাচন ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করছি। এই পদ্ধতিতে জাতীয়ভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে আসন বণ্টন করা যেতে পারে। যা একটি প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্র গড়ে তুলার সূচনা তৈরি করবে বলে আমরা মনে করি।

এতে বলা হয়, (গ) অনুচ্ছেদ ২২-২৯ পর্যন্ত কোন আপত্তি নেই। (ঘ) অনুচ্ছেদ ৩০- প্রধান বিচারপতি নিয়োগ : অনুচ্ছেদ ৩০(৩) এর বিষয়ে আমরা আপত্তি জানিয়েছিলাম। আমরা জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করে বলেছিলাম যে, এটি আইনের দর্শনের পরিপন্থি। কারণ, অভিযুক্ত কোন ব্যক্তিকে যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত নির্দোষ বলে বিবেচনা করাই আইনসম্মত। এ বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে আলোচনা করার কথা থাকলেও তা আর আলোচ্যসূচিতে আসেনি। সেজন্য, অনুচ্ছেদ ৩০(৩) এর বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ রাখছি। (ঙ) অনুচ্ছেদ ৩১-৮৪ পর্যন্ত আমাদের কোনো আপত্তি নেই।

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকারনামায় লিখিত মতামতে দলটি বলছে, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকারনামার অনুচ্ছেদ-৮ এ উল্লিখিত প্রস্তাবের সঙ্গে আমরা দৃঢ়ভাবে একমত পোষণ করছি। তবে, আমরা মনে করি যে, যেসব প্রস্তাব/সুপারিশ অবিলম্বে বাস্তবায়নযোগ্য এবং যেসব প্রস্তাব/সুপারিশ অবিলম্বে বাস্তবায়নযোগ্য নয় তার একটি সুস্পষ্ট তালিকা প্রস্তুত করা প্রয়োজন। অন্যথায় এ বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ, সংশয় ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হতে পারে।
অধিকন্তু, জুলাই সনদের সাংবিধানিক মর্যাদা ও আইনি ভিত্তি দেওয়া এবং জুলাই সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের তৃতীয় পর্বের বৈঠক অনতিবিলম্বে শুরু হওয়া প্রয়োজন। কারণ, আমরা দাবি করছি যে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন জুলাই সনদের উপর ভিত্তি করে অনুষ্ঠিত হবে।

গণভোটের আয়োজন:
জুলাই জাতীয় সনদে উল্লিখিত সংবিধান সংক্রান্ত সংস্কারের পরিপূর্ণ বাস্তবায়নের নিমিত্তে গণভোটের আয়োজন করা যায় কি না সে বিষয়ে সরকার বিদ্যমান সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৬ এর অধিক্ষেত্র অনুযায়ী পরামর্শ চাইতে পারে। বিবেচনা ও বিশ্লেষণ করে আপিল বিভাগ যদি এই মর্মে সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, “Doctrine of Necessity” এর আলোকে সংবিধান সংস্কার বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের ম্যান্ডেট (এখতিয়ার) নির্ধারণ প্রশ্নে এই প্রজাতন্ত্রের নাগরিকদের অভিপ্রায় সুস্পষ্টকরনের জন্য একটি গণভোট আয়োজন জরুরি তবে গণভোট আয়োজনে কোনো বাধা থাকবে না। গণভোটে সংবিধান সংস্কার বিষয়ে হ্যাঁ সূচক ফলাফল নির্ধারিত হলে আইনগত (Legality) ও রাজনৈতিক বৈধতার (Political Legitimacy) আর কোন পথ রুদ্ধ থাকবে না।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button