জামালগঞ্জে কৃষি জমির মাটি কেটে নষ্ট করার অভিযোগ

আমির হোসেন,সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা : সুনামগঞ্জ পূর্ব শত্রুতার জের ধরে জামালগঞ্জে আব্দুল মতলিব (৬০) নামের এক কৃষকের ধানি জমির মাটিকেটে গর্ত করে নষ্ট করে দেয়ার অভিযোগ ওঠেছে শেরমস্তপুর গ্রামের মঞ্জুর আলী নামের এক প্রভাবশালী ভূমিখেকোর বিরোদ্ধে।
এঘটনায় কৃষক আব্দুল মতলিবের স্ত্রী আলেয়া বেগম বাদী হয়ে একই উপজেলার শেরমস্তপুর গ্রামের ভূমিখেকো মঞ্জুর আলী, শাহ আলম, মঈনুদ্দিন, জসিম উদ্দিন, মুসলিম উদ্দিনসহ সেরমস্তপুর গ্রামের ১১ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত ৭০ জনকে আসামি করে জামালগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সুত্রে জানাযায়, কৃষক আব্দুল মতলিব ১৯৮৫ ইং সালে হারুন উর রশিদ নামের ভূমি মালিকের কাছ থেকে সেরমস্তপুর মৌজায় ৭ বিঘা জমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে ওই জমি ক্রয় সূত্রে মালি হয়ে দীর্ঘদিন যাবত ধান চাষ করে আসছেন । কিন্তু কয়েক বছর ধরে সেরমস্তপুর গ্রামের প্রভাবশালী মঞ্জুর আলী সহ একটি ভূমিখেকো চক্র বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি সহ জমিটি জোরপূর্বক ভোগদখল করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৭ ডিসেম্বর সকালে সেরমস্তপুর গ্রামের প্রভাবশালীর মঞ্জুর আলী, শাহ আলম, মঈনুদ্দিন, জসিম উদ্দিন, মুসলিম উদ্দিনের নেতৃত্বে গ্রামের কিছু সংখ্যক মানুষ কৃষি জমিতে গাছের চারা লাগানোর জন্য অবৈধ ভাবে শতশত গভীর গর্ত করেন। এতে জমিনটি ধান চাষের অনুপোযোগী হয়ে পড়ে। প্রভাবশালীদের নেতৃত্বে কয়েশ গর্ত করে জমি চাষাবাদের অনুপোযোগি করা হয়৷ কৃষক মতলিব মিয়া বলেন, জোর পূর্বক তার ধানি জমিতে গর্ত করে জমি নষ্ট করা হয়েছে। এতে কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে তার। মতলিব মিয়ার স্ত্রী আলেয়া বেগম বলেন, সেরমস্তপুর গ্রামের মঞ্জুর আলী, শাহ আলম, মঈনুদ্দিন, জসিম উদ্দিন, মুসলিম উদ্দিনের নেতৃত্বে ৬০/ ৭০ জন মানুষ তাদের হালচাষ করা জমিতে শতশত গর্তকরে জমি নষ্ট করে দিয়েছে। স্থানীয় কৃষক ময়না মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন যাবত জমিতে ফসল ফলিয়ে আসছেন কৃষক মতলিব মিয়া। সম্প্রতি জমি অন্যায় ভাবে দখল করতে কিছু প্রভাবশালী মরিয়া হয়ে ওঠে। মতলিব মিয়া জেন জমির দখল ছেড়ে চলে যায় এজন্য শতশত গর্ত করেছে প্রভাবশালীরা। রেজাউল ইসলাম বলেন, ১৭ তারিখ সকালে অনেক মানুষ জমিতে অবৈধভাবে মাটি কেটে জমিন নষ্ট করে দিয়েছে। শ্যামল মিয়া বলেন, অসহায় মতলিব মিয়ার জমিজামা অবৈধ ভাবে দখল করতে এলাকার প্রভাবশালী চক্র এক হয়েছে। সেরমস্তপুর গ্রামের ইউপি সদস্য ছমির আলী বলেন, জোরপূর্বক জমিতে গর্ত করা হয়নি। কৃষি জমিটি মসজিদ মাদ্রাসার সম্পত্তি গর্ত করে গাছের চারা লাগানোর হবে। সাচনা বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া বলেন, জমি চিহ্নিত না করায় সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ দেব বলেন, কৃষি জমি নষ্ট করার কারো কোন অধিকার নেই যারা করেছেন তাদের বিরোদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।




