জাপানিরা কেমন : পর্ব –২৫ )
ইঞ্জিনীয়ার মিঃ সুজুকি আমাদের আড্ডার অন্যতম প্রবীণ সদস্য। বয়স তাঁর বিরাশি বৎসর।
জাপানের খ্যাতনামা একটি কোম্পানিতে তিনি মেকানিক্যাল ইঞ্জিনীয়ার পদে কর্মরত ছিলেন। রিটায়ার্ড হওয়ার পর বর্তমানে ফটোগ্রাফিকে অন্যতম হবি হিসাবে নিয়েছেন। ক্যামেরা নিয়ে প্রতি বৎসর নেপাল ভ্রমনে যান। বাংলাদেশেও দু’বার গিয়েছেন। সঙ্গে তিনি দুটি ক্যামেরা রাখেন। তবে নেপান যেতে তিনি ভালবাসেন। তাঁর টার্গেট হল নেপালের উপজাতিদের ফটো নেওয়া এবং তাদের জীবন যাত্রার উপর ধারণা নেওয়া। বিগত পাঁচ বৎসর যাবত তাঁকে চিনি। তিনি অত্যান্ত বন্ধুবৎসল উজ্জ্বল চরিত্রের একজন ভদ্রলোক। তাঁর এ বয়সেও তিনি বেশ স্বাস্থ্যবান। নিজের দেহবলের উপর আস্থা আছে। সর্বোচ্চ তিন মাসের সময় নিয়েও নেপাল গিয়েছিলেন। তখন তিনি সারা নেপাল ঘুরে পার্শবর্তি ভারতের সিকিম রাজ্যে ভ্রমনে গিয়েছিলেন। সিকিম এলাকার প্রগতির শ্লথগতি দেখে অবাক হয়েছেন। কিন্তু সিকিমের লোকজন খুব ভাল বলেছেন। অন্যান্য সময়ে তিনি এক মাসের জন্য নেপালে গিয়ে থাকেন। হিমালয় পর্বতের বিভিন্ন উচ্চতায় বিভিন্ন উপজাতির লোকেরা প্রচন্ড শীতের মধ্যেও খালি পায়ে কিভাবে জীবনযাপন করছে তা তিনি মনোযোগ দিয়ে দেখেন। উপজাতিদের ফটো তুলে জাপানের সাইতামা এলাকার বিভিন্ন শহরে ফটো প্রদর্শনিতে দেন। এতে তাঁর কোন উপার্জন হয়না, তবে তিনি আত্মতৃপ্তি লাভ করেন। প্রদর্শনতিতে যখন ফটো দেন তখন তিনি আমাদের সবাইকে যেতে বলেন। যতবার আমরা গিয়েছি ততবার লাঞ্চ টাইমে তিনি নিকটস্ত রেষ্টুরেন্টে নিয়ে গিয়ে আপ্যায়ন করেছেন। এমনতর চরিত্রের একজন মানুষ জাপান প্রবাস জীবনে পাওয়া সৌভাগ্যের কথা। তাঁর বড় বোনের বয়স পঁচাশি বৎসর। বেশ সুন্দর স্বাস্থ্য, কিন্তু তিনি বিয়ে করেন নি। জাপানে বিয়ে না করা পুরুষ মহিলার সংখ্যা বেশ বেড়ে গিয়েছে। তার বিরূপ প্রভাব গিয়ে সরকারের উপর পড়েছে। কারণ, শিশুর সংখ্যা ব্যাপক ভাবে কমে গেছে। ফলে অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

একদিন মিঃ সুজুকির বড় বোনকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, “ এ পর্যন্ত আপনি বিয়ে করে সংসার ধর্ম করেন নি। মানবজাতির সচরাচর জীবন যাত্রা যেমন হয় তা থেকে নিজেকে সরিয়ে রেখেছেন। আপনার কি মনে হয় না যে আপনি আপনার জীবনের অনেক মূল্যবান অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন?”
তিনি মৃদু হেসে জবাব দিয়েছিলেন, “ নাহ্, সে রকম ভাবনা করা থেকে বিরত থাকি। তবে আমার কোন অসুবিধা হয় না!”
সহজ জবাব দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর মতো এবং তাঁর বয়সের অনেক অবিহাহিত মহিলাকে দেখেছি এ দেশে।
তন্মধ্যে ওগোছে শহরের পাহাড়ি এলাকাতে দাইদো আয়া নামে পঁচাশি বৎসর বয়সের একজন মহিলার সাক্ষাৎ পেয়েছিলাম। তিনিও অবিবাহিতা ছিলেন এবং একজন সখের পেইন্টার ছিলেন। তারঁ অংকিত কিছু পেইন্টিং দেখার সুযোগ আমার হয়েছে। বলাই বাহুল্য যে প্রত্যেকটি পেইন্টিং ওয়ার্ক তাঁর অসাধারণ ছিল। যারা তার পেইটিং ওয়ার্ক গুলি দেখেছে সবাই কিনতে চেয়েছে, কিন্তু তিনি বিক্রয় করেন নি। পাহাড়ি এলাকায় ঘর করে মিঃ ওরিও নামে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্তন এক সৈনিকের সাথে মহিলা থাকতেন। ওরিও র বয়স সত্তর। মনেপ্রাণে তিনি একজন কমিউনিষ্ট। তিনিও বিয়ে করেন নি! তার হাতে তৈরী কাপড় নামিদামি ডিপার্মেন্ট ষ্টোরে বিক্রয় করেন। মহিলার সাথে তার কখন কোথায় দেখা হয়েছে জিজ্ঞাসা করে জানতে ইচ্ছা হয়েছিল। কিন্তু তা করিনি। এ তো যার যার ব্যক্তিগত ব্যাপার।
মহিলার প্রত্যেকটি পেইন্টিং ওয়ার্কে পাহাড়ের প্রাকৃতিক দৃশ্যগুলি স্থান পেয়েছে। জীব জানুয়ার, লতাপাতা ও পাখিও তার সৃষ্ট পেইন্টিং গুলিতে স্থান পেয়েছে। তিনি প্রফেশন্যাল পেইন্টার ছিলেন না। কিন্তু তার কাজগুলি ছিল প্রকৃত প্রফ্রেশন্যাল পেইন্টারদের কাজের সমকক্ষ বা আরো উচ্চ মানের!
যাক সে কথা। একবার মিঃ সুজুকি র প্রদর্শনি দেখতে গিয়ে সুরেশ নামে একজন নেপালি লোকের সাথে পরিচয় হয়েছিল। সুজুকি যখন নেপালে গিয়েছিলেন তখন এ লোকের সাথে পরিচয় হয়েছে। লোকটির বয়স চল্লিশের কোঠায়। আকৃতিতে বেটে ও দেহের বর্ণ কালো। বহু বৎসর পূর্বে জাপান এসে জাপানের ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্স করেছেন। তারপর কোন কর্মসংস্থান না হওয়াতে নেপালে ফিরে যান। কিছুক্ষণ কথা বলে বুঝলাম যে জাপানিদের মেন্টালিটির উপর তার ভাল ধারণা রয়েছে। নেপালে তার পরিচিত জাপানি টুরিষ্ট গেলে তাদের দুভাষীর কাজ করেন। এটাই এখন তার পেশা। কিন্তু সে টুরিষ্ট গাইড হিসাবে স্বীকৃত কোন দুভাষী নয়। জাপান – নেপালি ভাষা কথপোকথনের একটি চমৎকার বই লিখেছেন সুরেশ। সেদিন তার সাথে আমাদের সাথে সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে আলাপ আলোচনা হয়েছে। আমাদের চেনা জানাদের মধ্যে মিসেস হায়াশি নামে ষাট বৎসর বয়সের একজন মহিলা গিয়েছিলেন। তিনি আমাদের নিকটবর্তি পার্বত্য শহর তোকিগাওয়া শহরের বাসিন্দা। নেপাল সম্পর্কে বিভিন্ন ধারণা পেয়ে তিনিও পরের বৎসর দুসাপ্তাহের জন্য নেপাল ভ্রমনে গিয়েছিলেন। তার মুখে নেপাল ভ্রমন অভিজ্ঞতার গল্প শুনেছি। আজকের লেখাতে হায়াশির সে ভ্রমন অভিজ্ঞতার কথা লিখব।তিনি বিধবা ও ৪০ বৎসর বয়সের একটি কন্যা সন্তানের জননি।আর্থিক অবস্থা ভাল। তার মেয়েটি অবিবাহিতা এ বয়সেও সে বিবাহ করেনি। ফুল টাইম কাজ না করলেও পার্ট টাইম কাজ করে এবং তার বয় ফ্রেন্ড নিয়ে এ যাবত লিভ টুগেদার করছে। তবে সে তার মা এর সাথে থাকে না। টোকিওতে আলাদা একটি ফ্লাটে থাকে।

নেপাল যাওয়ার পূর্বে হায়াশি সুরেশের মাধ্যমে কাঠমুন্ডুতে হোটেল রিজারভেশন করেন। কিন্তু তার যাওয়ার কথা যেদিন – সেদিন তিনি যেতে পারেন নি। দুদিন পরে গিয়ে সেই হোটেলে উঠেন। তাকে এয়ারপোর্ট থেকে সুরেশ রিসিভ করেন। হোটেলে চেক ইন হয়ে রুমে যাওয়ার পর সুরেশ বলল “,আপনি তো দু’দিন দেরী করে এসেছেন। হোটেলের সে দু’দিনের ক্যান্সেলেশন এর টাকা আমি দিয়েছি। হায়াসি বড় নম্র স্বভাবের মাহিলা। সঙ্গে সঙ্গে তিনি সুরেশের হাতে দুদিনের হোটেল ভাড়া দিয়ে দিলেন। সুরেশ কোন এমাউন্টের কথা বলেন নি। যে রেইটে হোটেল রিজার্ভেশন করেছিলেন সে রেইটের হিসাবে সব টাকাই তিনি সুরেশকে দিয়েছিলেন। প্লেন জার্নিতে ক্লান্ত বিধায় কাউন্টারে গিয়ে তিনি নিজ হাতে পেমেন্ট করেন নি। উদৃত বাকি টাকাও তাকে ফেরিত দেয়নি এবং কোন রিসিপ্টও দেয় নি! পরে তিনি জানতে পেরেছেন যে হোটেলটি রুম ক্যান্সেলেশনের জন্য কোন টাকা নেয় না। দুদিন পরে হায়াশি যাবেন তা সুরেশ মুখে বলে দিতে পারতো। হয়তো সে বলেছেও – কিন্তু জাপানিদের মেন্টালিটি সে জানে এবং সে সুবাদে মিথ্যা বলে অতিরিক্ত কিছু টাকা হাতিয়ে নিল। এমন কাজ করতে পেরেছে শুধু তার চাতুর্যের কারণে। কারণ সে জাপানে যখন ছিল তখন জাপানীদের মেন্টালিটি ভাল মতো জেনে গিয়েছে।
সত্যিকারের একজন টুরিষ্ট হতে হলে উৎকৃষ্ট চরিত্রের লোক হতে হয়। ভাল লোকের ভান করে বিদেশি টুরিষ্টদের ঠকানো বড় লজ্জাজনক এবং এমন হলে দেশের ভাবমুর্তি নষ্ট হয়। দেশের পর্যটন শিল্পের দুর্নাম হয়। নেপালের ফরেন রেভেনিউ উপার্জনের একমাত্র পন্থা হল দেশটির পর্যটন শিল্প। উল্লেখ করার মতো রপ্তানিযোগ্য তেমন কিছু নেই। শুনেছি একজন এভারেষ্ট আরোহিদের কাছাথেকে নাকি সরকার এক মিলিয়ন ইয়েনের সমান বা আরো বেশি অর্থ নেয়। তা রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত। তাছাড়া বাংলাদেশের তুলনায় নেপালের পর্যটন কোর্পোরেশন দশগুণ উন্নত হবে এবং বিদেশি টুরিষ্ট সমাগমও অনেক বেশি। নেপাল সরকার এদিকে নজর রেখেছে। নেপালে রয়েছে ঢাকার চেয়ে উন্নত মানের অনেক হোটেল ও বিনোদন কেন্দ্র। হেলিকপটার ভাড়া নিয়ে এভারেষ্ট এর কাছে গিয়ে দেখার ব্যবস্থাও আছে। হিমালয়ের পাদদেশে রয়েছে অসংখ্য ছোট বড় হোটেল। গুগল সার্চ দিলে নেপালের পর্যটন কত উন্নত এবং আধুনিক তা বুঝা যায়। বিভিন্ন শহরে প্লেনে বা বাসেকরে যেতে কতো ভাড়া দিতে হবে তাও নির্দিষ্ট করে সময় উল্লেখ করে দেখানো হয়েছে। শুধু তা নয়, নেপালের ট্যাক্সির ভাড়া মিটারে যা আসবে তা দিলে হবে। সরকার কড়াভাবে ট্যাক্সি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ করেছে। অতিরিক্ত ভাড়া চাইলে পুলিশ ধরে নিয়ে যাবে। উল্লেখযোগ্য যে বাংলাদেশ সরকার স্বাধীনতার পর কয়েকবার এটেম্পট্ নিয়েও ট্যাক্সি আর সি এন জি চালিত ট্রাইরিক্সাতে মিটারের ব্যবস্থা করতে পারেনি। এ থেকেই সরকারে দুর্বলতার প্রমাণ পাওয়া যায়! কিন্তু নেপাল সরকার সেদেশে তা স্থাপিত করেছে।
মিসেস হায়াশি যখন নেপাল গেলেন তার এক সাপ্তাহ পূর্বেই মিঃ সুজুকি তার মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে নেপাল গিয়েছেন। নেপালি দুভাষীর মাধ্যমে নেপাল গিয়ে ফোনে সুজুকির সাথে হায়াশি যখন যোগাযোগ করেন। তখন সুজুকি রয়েছেন কাঠমুন্ডু থেকে ১৮২ কিলোমিটার দূরে পোকারা টুরিষ্ট স্পটে। সেখান থেকে নাকি এভারেষ্ট খালি চোখে দেখা যায়!

পর্যটক হিসাবে হায়াশির এটা প্রথম বিদেশ ভ্রমন নয়। তিনি কেনিয়া সহ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ ঘুরেছেন। সঙ্গে তার মেয়েটিও গিয়েছে। বিভিন্ন দেশ ভ্রমনের মাধ্যমে তিনি সেসব দেশের কালচার সম্পর্কেও অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তবে এটাই তার প্রথম নেপাল ভ্রমন। এবার সঙ্গে তার মেয়েটি যায়নি। হায়াশির ইচ্ছা বাসে করে তিনি লুম্বিনি যাবেন। কারণ বাসে গেলে মাঝ পথে ছোট বড় শহর গ্রাম দেখা যায়। জাপানিরা বৌদ্ধধর্মের উপর শ্রদ্ধাশীল জাতি – যদিও ধর্মরীতি ধর্ম পালন করে না। বৌদ্ধদের বিখ্যাত স্থান হল লুম্বিনি। এখানে খৃষ্টপূর্ব ৬২৩ সালে গৌতম বৌদ্ধ জন্মগ্রহণ করেন। খৃষ্টপূর্ব ২৪৯ সালে সম্রাট অশোক সেখানে একটি পিলার স্থাপন করেন। লুম্বিনি যাওয়ার ব্যাপারে সুরেশকে বলাতে সে একটি ট্যাক্সি ভাড়াকরে নিয়ে এল। হায়াশি বিস্মিত হলেন, কারণ তিনি জানেন যে ট্যাক্সি ভাড়া অনেক বেশি। বাসে করে গেলে মাত্র ১২ ডলার ভাড়া, আর প্লেনে গেলে ১৬৫ ডলার। সুরেশ ট্যাক্সি ডেকে এনে সেও সঙ্গে গেল। হোটেলে এক সাপ্তাহ থাকার পর সুরেশ তাকে বলল, “হোটেল ভাড়া অতিরিক্ত, পেয়িং গেষ্ট হিসাবে আপনি আমার ঘরে থাকতে পারেন। আমার ঘরে হোটেলের মতোই ব্যবস্থা রয়েছে!”
নতুন কিছুর উপর ধারণা নেয়া হায়াশির স্বভাব। তিনি পেইং গেষ্ট হয়ে সুরেশের ঘরে গিয়ে অবাক। সত্যই সে অনেক অর্থ ব্যয় করে ঘরটি সাজিয়েছে। দামি দামি ফার্নিচার আর ব্রান্ডের দামি জিনিসপত্র দিয়ে ঘরটি ভরে রেখেছে। টিভি, এ/সি থেকে সবই নতুন। হায়াশি ভাবল, শুধু গাইডের কাজ করে এতোটাকা উপার্জন করা তার পক্ষে কেমনে সম্ভব হল! তারপর পোকারাতেও তাকে সুরেশ নিয়ে গিয়েছিল। তাও ট্যাক্সি করে। হায়াশি অনেক দূরে কোথাও গেলে ট্যাক্সি নেয়া পছন্দ করেন না। কিন্তু সেদিন সুরেশ সম্ভবত ইচ্ছা করেই তার মতামতের ধার ধারেনি।
বিভিন্ন স্পট থেকে দামি জিনিষ কিনে নিয়ে ফিরলে সুরেশের পরিবার সেগুলির দিকে লুলোপ দৃষ্টিতে দেখে। সেগুলি ঘেটে ঘেটে দেখে বলে, ‘খুব সুন্দর!’
হায়াশি জিজ্ঞাসা করে, তুমি চাও এটা?
বলে, ‘হ্যাঁ, দিবেন?’
হায়াশি সঙ্গে সঙ্গে যেটি চায় সেটি দিয়ে দেয়। এভাবে অনেক জিনিস যা সে নিজের জন্য কিনেছিল তা থেকে দিয়ে এসেছে!
ফিরে আসার দিন হায়াশি সুরেশকে টাকা দেয়ার সময় চমকে গেল। হিসাব করে দেখলো যে যদি তিনি হোটেলে থাকতেন – তাহলে অনেক কম খরচে থাকতে পারতেন!
হায়াশির মতো মহিলাও জাপানে রয়েছে। তবে সংখ্যায় খুবই কম।
তিনি একদিন বাসাতে এসে আমার স্ত্রীকে বললেন, ‘ সর্বমোট এক মিলিয়ন ইয়েনের উপর নেপালে ব্যয় করে এসেছেন!
(চলবে)




