বিবিধশিরোনাম

ছেঁউড়িয়ায় বাউল সাধক ভক্তের ঢল

লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস
কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলার ছেঁউড়িয়া লালন আখড়াবাড়ি এখন গম গম করছে সাধু ভক্ত অনুসারীসহ সর্বস্তরের মানুষের পদচারণায়। বাউল সম্রাট মহামতি ফকির লালন সাঁইয়ের ১২৭তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে প্রতিবারের মতো এবারও এসেছেন তারা। দিনক্ষণ ঠিক রেখে কোনো প্রকার নিমন্ত্রণ ছাড়াই এখানে সমবেত হচ্ছেন হাজার হাজার লালন ভক্ত। সফেদ লুঙ্গি, পাঞ্জাবি আর শাড়ি পরিহিত ভক্তের সমাগমে ছেঁউড়িয়া আখড়াবাড়ির চারপাশ শুধু সাদা আর সাদা। উত্সবের উদ্বোধনী দিনে গতকাল আখড়াবাড়ির মূল আঙিনা ও কালীগঙ্গা নদীর তীরে ভবের হাটে বসে ভজন সাধনে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন আগত বাউল ভক্ত সাধুরা। হাতে একতারা দোতরা খঞ্জনি, তবলা আর হারমোনিয়াম নিয়ে গলা ছেড়ে গাইছেন ধ্যানী গান। গান শেষে সাধুগুরুরা শিষ্যদের গানের মর্মকথা ব্যাখ্যা করে শোনাচ্ছেন। শিষ্যরা অত্যন্ত ভাবগম্ভীর পরিবেশে গুরুসাধুদের কথা শুনছেন। খণ্ড-খণ্ড স্থানে গান পরিবেশনের সময় দর্শক-জনতাও নেচে-গেয়ে গানের সাথে সাথে তাল দিচ্ছেন। দর্শক-শ্রোতারা কখনো পিন-পতন নীরবতায় গান শুনছেন আবার কখনো গানের তালের সাথে সাথে করতালি দিয়ে মুখর হয়ে উঠছেন।
লালন অনুসারী আবদুল হাকিম শাহ বলেন, সাঁইজির বাণীতে দীক্ষা পেয়েছি সত্যের পথে চলার। সমাজের সকল মানুষ যদি লালন সাঁইজির বাণী অনুসরণ করেন, তাহলে সমাজে হানাহানি বন্ধ হবে, মানুষ আলোর পথ খুঁজে পাবে, সত্যের পথে চললে সাদা মনের মানুষ হবে। এভাবে আমরা প্রকৃত মানুষ খুঁজে পাবো। তাইতো সাঁইজি বলেছেনঃ সত্য বল সু-পথে চল, ওরে আমার মন।
উত্সব উপলক্ষে অন্যান্যবারের মতো এবারও লালন একাডেমির আয়োজনে মূল মাজারের সামনে মরাকাঁলী নদীর তীরে বসেছে লালন মেলা। এতে স্থান পেয়েছে কুটির শিল্পজাত নানা সামগ্রী, লালনের প্রতিকৃতি, একতারা, গলার মালা, হস্ত শিল্প পণ্যসহ হরেক রকম জিনিসপত্র। আর অন্যান্য জিনিসের পাশাপাশি কাঠের তৈরি লালনের আবক্ষ মূর্তি বেশ বিক্রি হচ্ছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button