খেলা

চ্যাম্পিয়ন জার্মানির লজ্জাজনক বিদায়

অপেক্ষাকৃত দুর্বল দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নের মতো খেলতে পারলোনা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন জার্মানি। বারবারই হোচট খেয়েছে কোরিয়ান সীমানায়। তাতেই কপাল পুড়লো জার্মানির। সারা ম্যাচে একটি গোলের দেখা না পাওয়া জার্মানি পুড়লো হতাশায়। বরং অতিরিক্ত সময়ে কোরিয়া ২ গোল করে জার্মানির পরাজয় আরো সুনিশ্চিত করলো। শেষ ষোলোয় যাওয়ার পথে আরো বড় বাধা হয়ে দাড়ালো গ্রুপের অন্য ম্যাচে থাকা সুইডেন।
তারা ৩-০ গোলে হারালো আগেই ছয় পয়েন্ট পাওয়া মেক্সিকোকে। তাতে ৬ পয়েন্ট নিয়ে তিন গোল ব্যাবধানে এগিয়ে থেকে গ্রুপ সেরা সুইডেন। সমান পয়েন্ট নিয়ে মেক্সিকো রানার্স আপ। বিদায় নিলো জার্মানি ও দক্ষিণ কোরিয়া।
কাজানে প্রথমার্ধে জার্মানি যেভাবে খেলল তেমনটা দ্বিতীয়ার্ধেও অব্যাহত থাকলো। গ্যালারিভর্তি দর্শকদের হৈ হুল্লোড়ে আনন্দদায়ক উল্লাস করতে পারেনি একবারও। শুধু আফসোসেরই শব্দ উচ্চারিত হলো পুরোটা সময় জুড়ে। শেষ ষোল নিশ্চিত করার ম্যাচে জার্মানরা চ্যাম্পিয়নের মতো খেলতে পারেনি। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা ৫টি পরিবর্তন নিয়েও প্রাধান্য বিস্তার করে খেলতে পারেনি। তাতে ‘এফ’ গ্রুপের শেষ ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্য। ওদিকে একাতেরিনবার্গে গ্রুপ লিডার মেক্সিকোর বিপক্ষে সুইডেনের ম্যাচের প্রথমার্ধের ফলও তাই।
১৯৯০ বিশ্বকাপ থেকে সবসময়ই গ্রুপপর্বেও শেষ ম্যাচটা জিতেছে জার্মানি। শুরু থেকেই আক্রমণে তারা। দক্ষিণ কোরিয়া এসময় রক্ষনাত্মক ভুমিকায়। মাঝে মাঝে আক্রমনে যাচ্ছিল এশিয়ার দেশটি। ১৪ মিনিটে জার্মানির প্রথম আক্রমণ। কিন্তু রেয়াস বায়ে ওয়ের্নারকে বল না দিয়ে ডানে গোরেজকাকে দিলেন। ওই ক্রস কোরিয়ান রক্ষণে লেগে কর্নারে পরিণত।
১৯ মিনিটে ফ্রি-কিকের পর বিপদ ঘটতে যাচ্ছিল জার্মানির। জাংয়ের শট গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়ার ধরতে গিয়ে ঠিক মতো পারলেন না। বলের ফ্লাইট মিস করলেন। বক্সের ৬ গজের মধ্যেই বল। ফিরে আসা ওই বলকে সন জালে জড়ানোর চেষ্টা করেও ব্যার্থ। ৩৯ মিনিটে কোরিয়ার ভুলে এগিয়ে যেতে পারতো জার্মানি। কিম একটি সুযোগ উপহার দিলেন প্রতিপক্ষকে। ওয়েরনারের শট প্রতিপক্ষেও খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে বাইরে।
বিরতির পর আটঘাট বেধে নামলেও সুবিধা করতে পারেনি কোন দলই। তবে আক্রমনে অনেকগুন বেশি এগিয়ে ছিল মুলার বাহিনী। রক্ষনভাগের কৌশলেই মুলত পিছিয়ে যাচ্ছিল জার্মানির ফরোয়ার্ডরা। মাঝে মাঝে পাল্টা আক্রমনে জার্মানিকে কিছুটা কাপিয়ে দিচ্ছিল কোরিয়া। কিন্তু গোল নামক বস্তুটি থেকে দুরেই ছিল। অবশেষে নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা সময়ে (৯০+২) কিম ইয়ং গোন জটলা থেকে গোল করেন। কিন্ত অফসাইডের সিগন্যাল। তবে ভিএআর পদ্ধতিতে জয়ী হয় কোরিয়া (১-০)।
এসময় জার্মানি কীপার সহ উপরে উঠে আসলে ৯০+৬ মিনিটে অতি চালাকিতে কোরিয়ার ডিফেন্ডার জু বল সজোরে উড়িয়ে মারেন জার্মানি সিমানায়। সন হিউয়েং মিন দৌড়ে এসে বল জড়ান জালে (২-০)। তাতেই হৃদয় ভাঙ্গে জার্মানির। তিন ম্যাচে এক জয় নিয়ে উল্লাসে ফেটে পড়ে কোরিয়া।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button