চরাঞ্চলজুড়ে ভুট্টা ক্ষেত, পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষকরা

নাসির উদ্দিন, হরিরামপুর প্রতিনিধি : চরাঞ্চলের অধিকাংশ প্রান্তিক কৃষক রবি মৌসুমে কয়েক বছর ধরে আগাম জাতের হাইব্রিড ভুট্টা চাষ করে লাভবান হচ্ছেন।
মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের চরাঞ্চলের আজিমনগর, সুতালড়ি ও লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নেই ভুট্টা চাষ হয়েছে প্রায় ৮০ ভাগ। চরাঞ্চলে দোঁআশ মাটির এবং ফসলী মাঠ নদী বিধৌত হওয়ায় মাটি খুব উর্বর। তাই ভুট্টার অধিক ফলন হয়ে থাকে। সরেজমিনে ইউনিয়নের মাঠগুলো ঘুরে ভুট্টা চাষের এই দৃশ্য দেখা গেছে। যেখানেই চোখ যায় শুধু বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে ভুট্টা ক্ষেত দেখা যায়।। এতে উৎপাদনের খরচের চেয়ে তুলনামূলক অনেকটাই বেশি লাভবান হওয়ায় আগের চেয়ে সম্প্রতি ভুট্টা চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা। এতে করে শুধু উপজেলার চরাঞ্চলের ৩টি ইউনিয়নেই ভুট্টার চাষ হয়েছে শতকরা ৮০ ভাগ।
কৃষক মিজানুর বলেন, চার একর ভুট্টা চাষ করছি, কাজের লোকের দাম বেশি, ভুট্টা বীজ এর দাম বেশি, সারের দাম বেশি, ডিজেলের দাম বেশি,কীটনাশক দাম বেশি, সরকার যদি আমাদের জন্য দাম কমিয়ে দিতো, আমাদের জন্য ভালো হতো। আবহাওয়া খারাপ হলে আমাদের কপাল মন্দ। কিছু দিন আগে বৃষ্টি হয়েছে এতে ভুট্টা ক্ষেতের জন্য অনেক ভালো হয়েছে।
বাসেদেপুর গ্রামের কৃষক আলাউদ্দিন বলেন, অন্য অন্য ফসল এর তুলনায় ভুট্টা চাষের জন্য খরচ কম এবং লাভজনক হওয়ায় আমি এ বছর ১০ বিঘা জমিতে ভুট্টার আবাদ করেছি। আবহাওয়া ভালো থাকলে গত বছরের ন্যায় চলতি বছরেও ভুট্টার বেশি ফলন হবে বলে আমি মনে করি।
কৃষক মোস্তফা বলেন, গত বছর আমি ভুট্টা চাষ করে বিঘা প্রতি ৪৪ মণ হারে ফলন হয়েছে। ৯৯০ টাকা মণ দরে ভুট্টা বিক্রি করেছি। ভুট্টা চাষে খরচ কম হওয়ায় আমি খুব লাভবান হয়েছি।
পাটগ্রাম চরের কৃষক রবিউল বলেন, আমি এ বছর ৫২ শতকের ৩০ বিঘা জমিতে ভুট্টা লাগাইছি। এতে আমার প্রতি বিঘায় ৩০ হাজার টাকা করে খরচ হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে না পরলে প্রতি বিঘায় গড়ে ৬০ মণ ভুট্টা পাওয়া যাবে। যদি ১ হাজার টাকা মণ বিক্রি করতে পারি তাহলেও প্রতি বিঘায় ৩০ হাজার টাকা লাভ হবে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে এ উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের বিভিন্ন অঞ্চলে এ পর্যন্ত ভুট্টার আবাদ হয়েছে ৩ হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে শুধু চরাঞ্চলেই আবাদ হয়েছে প্রায় ২ হাজার হেক্টরের অধিক। মোট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৩৪১ হেক্টর জমি আর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২ হাজার ৪০৮ টন। তবে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করতে পারে বলেও সূত্র জানায়।




