sliderশিরোনাম

চট্টগ্রাম সমিতিতে হাসিনা মার্কা কোন নির্বাচন আয়োজন করতে দেওয়া হবে না

প্রেস বিজ্ঞপ্তি: আজ ১০ নভেম্বর ২০২৫ইং সোমবার তোপখানা রোডস্থ বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ ভবনে চট্টগ্রাম সমিতি-ঢাকার আহ্বায়ক কমিটির এক বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম সমিতির আহ্বায়ক সাবেক ছাত্রনেতা এম এ হাশেম রাজুর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাবেক ছাত্রনেতা ফরিদ উদ্দিন খানের পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সমিতি উপদেষ্টা পরিষদের আহ্বায়ক সুপ্রীম কোর্টের প্রখ্যাত আইনজ্ঞ মোঃ আব্দুল মোমিন চৌধুরী বলেন, গত ১৭ বছর ধরে খুনি হাসিনার সহচর সাবেক মন্ত্রী ফ্যাসিস্ট হাসান মাহমুদ, ফ্যাসিস্ট মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, ফ্যাসিস্ট সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, অর্থ পাচারের গডফাদার এস আলম, ফ্যাসিস্ট বিপ্লব বড়ুয়া, গিয়াস খান, মোজাম্মেল হিরু, রাহুল বড়ুয়া, আঃ মাবুদসহ আওয়ামী খুনি, সন্ত্রাসী, ফ্যাসিবাদীদের প্রত্যক্ষ মদদে মুসলিম-জামাল-উজ্জল-নাসির গংরা চট্টগ্রাম সমিতি দখল করে রাখে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও খুনি হাসিনার অর্থ যোগানদাতা চিটাগাং বিল্ডার্স এন্ড মেশিনারী লিমিটেড এর চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাছির উদ্দীন এবং এস আলমের দখলকৃত আল আরাফা ইসলামী ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক জয়নাল আবেদীন জামাল এস আলম গ্রুপ কে নামমাত্র জামানতে শত শত কোটি টাকা ঋণের নামে আত্মসাৎ করে দুবাই, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করেছে। ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার খুনি হাসিনার পতনের পর জয়নাল আবেদীন জামাল আওয়ামী লীগের রং পাল্টিয়ে জামায়াতে ইসলামীতে অনুপ্রবেশের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এদের ব্যাপারে সকলকে সতর্ক হতে হবে। অবিলম্বে এদেরকে আইনের আওতায় আনতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, গত তিনদশক ধরে চট্টগ্রাম সমিতি-ঢাকা পতিত সরকারের কিছু লোক দখল করে আইনের কোন অনুমোদন না নিয়ে, ধাপ্পাবাজি করে চট্টগ্রাম সমিতির শতকোটি টাকার উপরে লুট করেছে। লুট অব্যাহত রাখার জন্য তথাকথিত নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে, ঐ নির্বাচনের কোন আইনগত ভিত্তি নাই। সমিতির সদস্যদের বিভ্রান্ত করার জন্য এবং তহবিল তছরূপ থেকে বাঁচার জন্য এই তথাকথিত নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে। চট্টগ্রাম সমিতি-ঢাকা সদস্যবৃন্দকে এ ব্যাপারে সর্তক হয়ে তাদের প্রতিরোধের আহ্বান জানাচ্ছি।

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সমিতির আহ্বায়ক সাবেক ছাত্রনেতা এম এ হাশেম রাজু বলেন, চট্টগ্রাম সমিতি-ঢাকার ১১৩ বছরের গৌরবকে গত দুই দশকে যারা কলঙ্কিত করেছে তাদেরকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। তারা গত ১৭ বছরে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করে চট্টগ্রামবাসীর অধিকারকে ভুলুন্ঠিত করেছে। আজ সময় এসেছে প্রতিরোধের। চট্টগ্রাম সমিতি কোনো ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়, এটি চট্টগ্রামবাসীর অধিকার। আমরা নীরব থাকব না। যারা ঐতিহ্য লুণ্ঠন করেছে, তাদের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ কিন্তু দৃঢ় আন্দোলন গড়ে তুলব। যেকোন মূল্যে তাদেরকে বিচারের আওতায় আনা হবে।

এসময় সদস্য সচিব ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাবেক ছাত্রনেতা ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, বর্তমান ভোটার তালিকা দিয়ে কখনো সুষ্ঠু এবং গ্রহণ যোগ্য নির্বাচন হবে না। কারন গত ২০ বছরে কমপক্ষে দুই হাজারের কাছাকাছি ভোটার চট্টগ্রাম কিল্ডার্স এর কর্মচারী। এই গুলো মালিক পক্ষ টাকা দিয়ে চট্টগ্রাম সমিতিতে প্রভাব বজায় রাখার জন্য ভোটার করেছে। এরা চট্টগ্রাম সমিতিকে ব্যবসায়িক হাব হিসেবে ব্যবহার করে, সচিব, আমলা, প্রশাসন থেকে সুযোগ সুবিধা নিয়ে ব্যবসা সম্প্রসারণ করে। এছাড়াও একদিকে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসরদের ভোটার করা হয়েছে আর বিএনপি-জামায়াত-হেফাজত পন্থীদের ভোটার করা হয়নি বা তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাই স্বচ্ছতার সহিত নতুন ভাবে ভোটার তালিকা প্রণয়ন করে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এদেশে তাদের হাসিনা মার্কা কোন নির্বাচন আর করতে দেওয়া হবে না।

অন্যান্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন উপদেষ্টা মন্ডলীর যুগ্ম আহ্বায়ক আজীবন সদস্য মীর দোস্ত মোহাম্মদ খান, আজীবন সদস্য ডা. সেলিনা আক্তার, আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক নাছির মিজান, যুগ্ম সদস্য সচিব মোবিনুল ইসলাম, মোঃ নাছির উদ্দিন, অর্থ কমিটির আহ্বায়ক এ্যাডভোকেট নাজিম উদ্দিন, অভ্যর্থনা কমিটির আহ্বায়ক শাহজাহান মন্টু, শৃঙ্খলা কমিটির আহ্বায়ক মনজুর মোর্শেম মামুন, যুগ্ম আহ্বায়ক মুফতি মাওলানা জসিম উদ্দিন, সদস্য ইঞ্জি. কে এম ইমতিয়াজ, তথ্য ও গবেষনা সেলের আহ্বায়ক কে এম আক্কাস প্রমুখ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button