
নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পৌষের শীতের কারণে লোকজন ভোট কেন্দ্রে আসতে একটু বিলম্ব করছে। ঠান্ডা কেটে গেলে নিশ্চয়ই ভোটার উপস্থিতি বাড়বে।
সকাল সোয়া নয়টার দিকে বহদ্দারহাট এখলাচুর রহমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন বুথের সামনে ভোটারদের লম্বা লাইন।

এসময় ওই কেন্দ্রে মুখোমুখি হন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোসলেম উদ্দিন ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবু সুফিয়ান। এ সময় দু’জনকে কোলাকুলি করতে দেখা যায়। উভয় প্রার্থীই ভোটার উপস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে সাড়ে ৯টায় মুরাদপুর সরকারি দৃষ্টি ও বাকশ্রবণ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় পুরো কেন্দ্রই ফাঁকা। কেন্দ্রটিতে প্রথম আধা ঘণ্টায় ভোট পড়েছে মাত্র ১১টি।
সকাল ১০টা ২০ মিনিটে মোহরা মীর্জা আহমদ ইস্পাহানী স্মৃতি বিদ্যালয় কেন্দ্র গিয়ে দেখা যায় একই ধরনের দৃশ্য।
কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং অফিসার জানান, প্রথম এক ঘণ্টায় সেখানে ১৬জন ভোটার ভোট দিয়েছেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বোয়ালখালীর পশ্চিম গোমদন্ডী আট নম্বর ওয়ার্ডের গোলদার পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল দেখার মতো। প্রতিটি বুথেই দেখা গেছে দীর্ঘ লাইন।
এ কেন্দ্রে ভোট দিয়ে বের হয়ে ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ আলী আহমদ বলেন, ‘গত কয়েকটি নির্বাচন দেখে মনে হয়েছিল জীবনে আর কখনো ভোট দিতে পারবো না। অনেক বছর পর আজ ভোট দিতে পারলাম- অনেক খুশি লাগছে।’

এ উপনির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ নির্বাচনে ৬ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোট ১৭০টি ভোটকেন্দ্রের এক হাজার ১৯৬টি কক্ষে ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৯৮৮ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
নির্বাচনে মোট ৫৮টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনে কেন্দ্রের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, এপিবিএন, আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যের সমন্বয়ে ১৪টি মোবাইল ফোর্স, ৬টি স্ট্রাইকিং ফোর্স, র্যাবের ৬টি টহল দল এবং ৫ প্লাটুন বিজিবি নিয়োজিত রয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রে নির্ধারিত পুলিশ ও আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।
রিটার্নিং ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, সকাল ৯টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। আশা করি সুন্দর ও সুষ্ঠু একটি নির্বাচন উপহার দিতে পারবো।
প্রিসাইডিং অফিসার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নির্বাচনী অপরাধ আমলে নিতে ১৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও দুজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি নির্বাচনী পরিবেশ পর্যবেক্ষণে ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম নিয়োজিত রয়েছে বলে জানান তিনি।
সুত্র : দেশ রূপান্তর




