চট্টগ্রামের লালখান হতে বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে
ঢাকার বাইরে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম শহরের লালখান বাজার হতে শাহ আমানত বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে করা হচ্ছে। নতুন অর্থবছরের সূচনার একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়নে ৩ হাজার ২৫০ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয় হবে।
প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মঙ্গলবার শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ২০১৭-১৮ নতুন অর্থবছরের প্রথম একনেক সভায় প্রকল্পগুলো অনুমোদন দেয়া হয়। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংএ অনুমোদিত প্রকল্পগুলো সম্পর্কে সাংবাদিকদের জানান। মন্ত্রী জানান, সভায় মোট ৬ হাজার ৩৯৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট ৯টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সরকারি তহবিল থেকে ৫ হাজার ৯০০ কোটি টাকা, বাস্তবায়নকারী সংস্থা থেকে ৫৭ কোটি ৩ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৪৩০ কোটি ৪২ লাখ টাকা যোগান দেয়া হবে।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক শহর। দেশের আমদানি রপ্তানি বাণিজ্য সিংহভাগই চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে সম্পন্ন হয়ে থাকে। বর্তমানে এ শহরে প্রায় ৪০ লক্ষাধিক লোক বসবাস করছে। প্রতি বছর প্রায় ১ লাখ জনসংখ্যা নতুন করে যোগ হচ্ছে। ক্রমর্বধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে মহানগরীতে দিনদিন যানজট তীব্র হচ্ছে। গুরুত্বর্পূণ জংশনগুলোতেও যানজট বৃদ্ধি পাচ্ছে। বন্দর নগরী চট্টগ্রামের এ ধরনের সমাস্যা সমাধান এবং অন্তর্জাতিক মানের শহররূপে গড়ে তোলার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম শহরে লালখান বাজার হতে শাহ আমানত বমিানবন্দর পর্যন্ত এলভিটেডে এক্সপ্রসেওয়ে নির্মানের প্রস্তাব করা হয়। জুলাই, ২০১৭ হতে জুন, ২০২০ পর্যন্ত মেয়াদে গৃহায়ন ও গণর্পূত মন্ত্রণালয়রে আওতায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এটি বাস্তবায়ন করবে।
প্রকল্পের আওতায় ১৬.৫ কিলোমিটার বিশিষ্ট ফ্লাইওভার নির্মাণ, রোড মেইন্টেন্যান্স-৪ লাখ সাগে ১২হাজার বর্গমিটার, রোড মার্কিং ১১ হাজার ৫৫১.২০ বর্গমিটার; ১২ কি.মি. দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট ২৪টি র্যাম্প নির্মাণ; বৈদ্যুতিক পোল স্থানান্তর ৩হাজারটি; পরামর্শক নিয়োগ; জমি অধিগ্রহণ ১৩৮.০০ কাঠা; স্থাপনা ক্ষতিপূরণ বাবদ ২০৯৬.৪৬ বর্গমিটার; এলইডি লঅইট স্থাপন ২৫০০টি; ২টি ডাবল কেবিন পিক-আপ, মাইক্রোবাস ১টি, পাজেরো জিপ ১টি ও ৫টি মোটর সাইকেল ক্রয়; ওয়াসা/গ্যাস লাইন স্থানান্তরের কাজ রয়েছে।
একনেকের বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত একটি প্রকল্প উপস্থাপন করা হলে সেটি অনুমোদন না দিয়ে ফেরত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, কেরাণীগঞ্জ ও ঢাকায় বিচ্ছিন্নভাবে না করে সমন্বিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়টির উন্নয়ন করতে হবে। এজন্য ৭ দিনের মধ্যে জমি খুঁজতে হবে। যত টাকা লাগে তা দেয়া হবে। এছাড়া নদী ড্রেজিং এ ভারতের সঙ্গে যৌথ নদী কমিশন আলোচনা করে ভারতের কাছ থেকে টাকা নেওয়া যায় কিনা, তা ভাবতে হবে। তাছাড়া যেসব জেলায় এক্সপ্রেসওয়ে করা হবে সেসব জেলায় টোল ভিত্তিক করার কথাও বলা হয়।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হচ্ছে-চট্টগ্রাম শহরের লালখান বাজার হতে শাহ আমানত বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্প, ৮৬৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে পাঁচদোনা-ডাঙ্গা-ঘোড়াশাল সড়ক উন্নয়ন ইসলামপুর খেয়াঘাট প্রকল্প, ৭৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। জামালপুর জেলার তিনটি পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও এনভায়রমেন্টাল স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নতীকরণ প্রকল্প, ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ পাওয়ার সিস্টেম রিয়ায়েবিলিটি এন্ড ইফিসিয়েন্সি ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্প, ৫০০ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নরসিংদী জেলার অন্তর্ভুক্ত আড়িয়াল খাঁ নদী, হাড়িদোয়া নদী, ব্রহ্মপুত্র নদ, পাহাড়িয়া নদী, মেঘনা শাখা নদী ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্র শাখা নদ পুনঃখনন প্রকল্প, ৪৬৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয়ে সীমান্ত নদী তীর সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্প, ৩৩৮ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ব্যয়ে কৃষি শুমারি ২০১৮ প্রকল্প, ১০১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয়ে পাইকগাছা কৃষি কলেজ স্থাপন, খুলনা প্রকল্প এবং ২১২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন এন্ড এ্যালায়েড সায়েন্সে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, দিনাজপুর ও রংপুর এর সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্প।




