চকরিয়ায় বন্যার অবনতি : তিন লাখ মানুষ পানিবন্দী

পতাকা ডেস্ক : টানা বষর্ণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় মারাত্মক বন্যা দেখা দিয়েছে। একই সাথে জেলার বিভিন্ন স্থানে নিম্নাঞ্চল প্লাবিতসহ বেশ কয়েকটি পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। মহেশখালী উপজেলায় পাহাড় ধসে নিহত হয়েছে এক ব্যক্তি। চকরিয়ায় উপজেলার ১৯টি ইউনিয়নের মধ্যে ১২টি ইউনিয়ন বন্যায় তলিয়ে গেছে। এতে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে কয়েক লাখ মানুষ।
চকরিয়া পৌরএলাকা বন্যার পানিতে তিন থেকে চার ফুট নিচে তলিয়ে গেছে। জেলার অন্যতম প্রধান নদী মাতামুহুরীতে বন্যার পানির প্রবল স্রোতে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে মাতামুহুরী ব্রিজ। অবস্থা এরকম থাকলে যে কোনো মুহূর্তে ব্রিজটির একটি অংশ ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
অপরদিকে চকরিয়ায় গত তিনদিনের অবিরাম ভারী বর্ষণ ও মাতামুহুরী নদীতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে উপজেলার কমপক্ষে ১২টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। চকরিয়া পৌরসভার নামারচিরিঙ্গা, হালকাকারা, কোচপাড়া, দিগরপানখালীসহ বিভিন্ন এলাকা তলিয়ে গেছে বানের পানিতে। খোদ পৌরসভাতেই অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
এছাড়া কাকারা ইউনিয়নের প্রপার কাকারা পয়েন্টের মাতামুহুরী নদীতীরের ভাইরগ্যাতলায় ৪টি বসতবাড়ি নদীতে তলিয়ে গেছে। চিরিঙ্গা-কাকারা-মাঝেরফাঁড়ি সড়কের প্রপার কাকারা পয়েন্টের সড়কের বিশাল অংশ নদীতে তলিয়ে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা।
পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দিগরপানখালী পয়েন্টে তীব্র ভাঙনের কবলে পড়ে সোমবার সকাল থেকে আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত ১৫টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম। দিগরপানখালী সড়ক কাম বেড়িবাঁধটি যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে বিশাল এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কাকারা ইউনিয়নের প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, নদীতীরের প্রপার কাকারা পয়েন্টটি বন্যার সময় মাতামুহুরী নদীর ভাঙন রোধ করতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ৬৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। কিন্তু এই জরুরী কাজ যথাসময়ে বাস্তবায়ন না হওয়ায় এই দুর্দশা ভোগ করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।
চকরিয়া ডুলাহাজারা ইউনিয়নের পাগলির বিলস্থ ছড়াখালের একটি বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ছে। এতে বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বলে ডুলাহাজারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: নুরুল আমিন জানান।
এদিকে উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর, কৈয়ারবিল, লক্ষ্যারচর, বরইতলী, হারবাং, পশ্চিম বড়ভেওলা, পূর্ববড় ভেওলা, ভেওলা মানিকচর, কোনখালী, ঢেমুশিয়া, ডুলাহাজারাসহ উপজেলার ১২ ইউনিয়নের অন্তত ৩ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধিরা নিশ্চিত করেছেন।
চকরিয়া পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী জানান, ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে পৌরসভার একাধিক নিম্নাঞ্চল। পৌর এলাকায় কয়েক হাজার বসতঘরে পানি ঢুকে পড়ার কারণে লোকজন দুর্ভোগে পড়েছে।
উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর ইউপি চেয়ারম্যান আজিমুল হক আজিম বলেন, ভারী বর্ষণের কারণে ইউনিয়নের শতাধিক পরিবারের বসতঘর প্লাবিত হয়ে পড়েছে।
বরইতলী ইউপি চেয়ারম্যান জালাল আহমদ সিকদার বলেন, ভারী বৃষ্টিপাতে মাতামুহুরী নদীতে গতকাল সকাল থেকে পানি প্রবাহ বেড়েছে। ইউনিয়নের গোবিন্দপুর, ডেইঙ্গাকাটা, রসুলাবাদসহ একাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়ে গেছে। এলাকার দুর্গত জনসাধারণ বর্তমানে পানিবন্দি হয়ে পড়ার কারণে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।
কানাখালী ইউপি চেয়ারম্যান দিদারুল হক সিকদার ও বিএমচর ইউপি চেয়ারম্যান এসএম জাহাংগীর আলম বলেন, ভারী বর্ষণের ফলে মাতামুহুরী নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ায় নদীর তীরবর্তী নীচু এলাকার লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে পানি। এ অবস্থার কারনে দুই ইউনিয়নের শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
চিরিঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান জসীম উদ্দিন জানান, চিংড়ি জোনের শত শত চিংড়ি প্রকল্প পানিতে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
এ ব্যাপারে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: সাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘মাতামুহুরী নদীতে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে বিভিন্ন ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এলাকায় জরুরী খাবারসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। বন্যার বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
সুত্র: নয়া দিগন্ত




