ঘিওরে কবরস্থান থেকে ৯টি কঙ্কাল চুরি
ঘিওর (মানিকগঞ্জ)প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার একটি কবরস্থান থেকে নয়টি লাশের কঙ্কাল চুরির ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা কবর খুঁড়ে লাশগুলো চুরি করে নিয়ে যায়।
বুধবার রাতের কোনো এক সময় উপজেলার বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের বড় ধুলন্ডী গ্রামের জান্নাতুল বাকী কবরস্থানে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ফজরের নামাজের পর ধুলন্ডী গ্রামের বাসিন্দা কবরস্থান কমিটির কোষাধ্যক্ষ মো: আবুল হোসেন কবরস্থান পরিষ্কার করতে যান। এ সময় তিনি খেয়াল করেন, কয়েকটি কবর খোঁড়া। সেগুলো থেকে লাশগুলো তুলে নেয়া হয়েছে। এরমধ্যে একটি লাশ পুরোপুরি পঁচে না যাওয়ায় লাশের কিছু অংশ ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। এ দৃশ্য দেখে আবুল হোসেন তৎক্ষণাৎ বিষয়টি ওই কবরস্থান ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও সম্পাদককে জানান।
তারা পুলিশকে খবর দিলে বৃহস্পতিবার সকাল নয়টার দিকে ঘটনাস্থলে শিবালয় সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূরজাহান লাবনী, ঘিওর উপজেলা কমিশনার ভূমি মো: মোহসেন উদ্দিন, ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বিপ্লব, বালিয়াখোড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল আওয়াল খানসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত হন।
চুরি যাওয়া লাশেল মধ্যে একটি বড় ধুলন্ডী গ্রামের মো: হাশেম মোল্লার ছেলে সেলিম মোল্লার। তিনি দুই মাস আগে মারা যান। সেলিম মোল্লার দুই শিশু ছেলেকে নিয়ে তার বড় ভাই মো: পান্নু মোল্লা কবরস্থানে আসেন। এ সময় তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন। পান্নু মোল্লা বিলাপ করতে করতে বলেন, মরেও শান্তি পেল না ভাইটি। লাশ চুরির মতো এই জঘন্য অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তি চান তিনি। এ সময় অন্যান্য মৃতদের স্বজনদের আহাজারিতে এক হদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।
কবরস্থান কমিটির কোষাধ্যক্ষ মো: আবুল হোসেন নিশ্চিত করে বলেন, ছাকেলা বেগম, আয়শা বিবি, সেলিম মোল্লা, নাজমা বেগম, আব্দুল মজিদ, বরকত আলী, কাশেম বেপারী, রফিক শেখ ও আকবর খানের কবর খুঁড়ে লাশগুলো চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। তারা ধুলন্ডী, বড় ধুলন্ডী ও মহাদেবপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
এ বিষয়ে কবরস্থান ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো: আকতার হোসেন খান বলেন, কবর থেকে কঙ্কাল চুরি হওয়ার ঘটনা নিন্দনীয়। এ ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত সময়ের মধ্যে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার অনুরোধ করছি।
স্থানীয় বালিয়াখোড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল আওয়াল খান বলেন, ২০১৬ সালে বড় ধুলন্ডী গ্রামে কবরস্থানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চুরি যাওয়া নয়টি লাশ দুই মাস থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দাফন করা হয়েছিল।
ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বিপ্লব জানান, কঙ্কাল চুরির বিষয়টি শোনার পর ঘটনাস্থলে এসেছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূরজাহান লাবনী বলেন, দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ শুরু করে দিয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। বাকি কবরগুলোর নিরাপত্তা নিয়েও তারা শঙ্কায় রয়েছেন।



