খেলাশিরোনাম

গ্রেফতার করা হবে, কখনও ভাবেননি প্লাতিনি

দীর্ঘ জেরার পরে ছাড়া পেলেন ফ্রান্সের কিংবদন্তি ফুটবলার মিশেল প্লাতিনি। বিপুল অর্থের বিনিময়ে ২০২২ বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব কাতারকে পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগের তদন্ত চলছে ফ্রান্সে। যেখানে নাম জড়িয়েছে প্লাতিনির।
মঙ্গলবার (১৮ জুন) প্যারিসে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
তিন বারের ব্যালন ডি’ওর জয়ী ফুটবলারের আইনজীবী অবশ্য দাবি করেন, এটা গ্রেফতার নয়। জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্য যাচাই করার জন্য তাকে ডাকা হয়েছিল।
কিন্তু প্লাতিনি স্বয়ং জানিয়েছেন যে, তাকে গ্রেফতারই করা হয়েছিল এবং সেটা তার কাছে চূড়ান্ত অপমানের এবং একই সঙ্গে বেদনার।
প্লাতিনি অতীতে দাবি করেছিলেন, কাতারকে অনৈতিকভাবে বিশ্বকাপের দায়িত্ব দেওয়া হয়ে থাকলেও তা তার অজ্ঞাতসারে হয়েছে।
বুধবার (১৯ জুন) পুলিশ হেফাজত থেকে ছাড়া পাওয়ার খবর জানিয়ে প্লাতিনির আইনজীবী জানিয়েছেন, তার মক্কেলকে অভিযুক্ত করা হয়নি আর জিজ্ঞাসাবাদ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে অতিরঞ্জিত খবর প্রকাশ করা হচ্ছে।
প্লাতিনির বয়স এখন ৬৩। প্যারিসের পশ্চিম শহরতলি নঁতের পুলিশ হেফাজত থেকে মুক্ত হয়ে বেরিয়ে আসার সময় কিংবদন্তি ফুটবলারকে রীতিমতো বিধ্বস্ত দেখিয়েছে।
বাড়ি ফেরার গাড়িতে ওঠার আগে সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি বলে যান, পুরো ব্যাপারটা মিটতে বহুক্ষণ লেগেছে। আসলে তাদের এত প্রশ্ন ছিল যে, সময় লাগারই কথা। আমাকে ইউরো ২০১৬, রাশিয়া এবং কাতার বিশ্বকাপ আর ফিফা নিয়ে নানা প্রশ্ন করা হয়।
কাতারকে বিশ্বকাপ দেওয়ার পক্ষে যে বাইশ জন ভোট দিয়েছিলেন প্লাতিনিও তাদের একজন। প্লাতিনিসহ এই বাইশ জনের ১৬ জনই এই মুহূর্তে বিশ্বকাপ পাইয়ে দেওয়া সংক্রান্ত দুর্নীতিতে জড়িত থাকায় নির্বাসিত অথবা অভিযুক্ত। তবে কেউই এখনও দোষী সাব্যস্ত হননি।
সাবেক উয়েফা প্রেসিডেন্ট প্লাতিনির মতোই তদন্ত চলছে সাবেক ফিফা প্রেসিডেন্ট শেপ ব্লাটারের বিরুদ্ধেও। দু’জনই এই মুহূর্তে নির্বাসনে রয়েছেন।
ফরাসি অর্থ দফতরের ভূমিকায় প্লাতিনি মারাত্মক হতাশ। টানা বহু ঘণ্টা জেরার পরে বেরিয়ে এসে বলেছেন যে তিনি ভেবেছিলেন সাক্ষী হিসাবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আবার ডাকা হতে পারে। যেমন হয়েছিল ঠিক দেড় বছর আগে। কিন্তু গ্রেফতারের ঘটনা তার কাছে অপ্রত্যাশিত।
তিনি পরিষ্কার বলেন, এই ঘটনায় মানসিক ভাবে বড় আঘাত পেয়েছি। কারণ এটা আমার ভাবনার বাইরে ছিল। তাছাড়া তাদের সাহায্য করার জন্য এতদিনে আমি সব কিছু করেছি। তবে তাদের (ফরাসি পুলিশ) উপর রাগ পুষে রাখতে চাই না। তারা তাদের কাজ করেছে। কী আর করা যাবে। আমিও চেষ্টা করেছি তাদের সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button