
গোপালগঞ্জে বিরল প্রজাতির ৪টি গন্ধগোকুলের বাচ্চা উদ্ধার করেছে এলাকাবাসী।
বুধবার (১২ জুন) বিকেলে সদর উপজেলার ঘোষেরচর মধ্যপাড়া থেকে গোপালগঞ্জ বন বিভাগ ওই বাচ্চাগুলো উদ্ধার করে তাদের হেফাজতে নেয়।
বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) দুপুরে খুলনা বন্যপ্রানী রক্ষা, উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে ওই গন্ধগোকুলের বাচ্চাগুলো হস্তান্তর করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া প্রাণিগুলোর বৈজ্ঞানিক নাম Asian Palm Civet বলে জানিয়েছেন খুলনা বন্যপ্রানী রক্ষা, উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের ফরেস্টার মোঃ মামুন আর রশীদ।
গোপালগঞ্জ বন বিভাগের ফরেস্টার ও ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম খান খুলনা বন্যপ্রানী রক্ষা, উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের ফরেস্টার মোঃ মামুন আর রশীদের কাছে এসব প্রানীদেরকে হস্তান্তর করেন। খবর পেয়ে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনা থেকে ৬ সদস্যের একটি দল উদ্ধার হওয়া বাচ্চাগুলো নিতে গোপালগঞ্জে আসেন।
খুলনা বন্যপ্রাণি রক্ষা, উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের ফরেস্টার মোঃ মামুন আর রশীদ জানান, উদ্ধার হওয়া প্রাণিগুলো গন্ধগোকুলের বাচ্চা। বাচ্চাগুলো বয়স ২৫ থেকে ৩০ দিন হবে। এগুলো খুলনা বন্যপ্রাণি রক্ষা, উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে লালন পালন করার পর বড় হওয়ার পর উপযুক্ত পরিবেশে ছেড়ে দেয়া হবে।
তিনি আরও জানান, গন্ধগোকুল একটি নেশাচর প্রাণি। এরা জনবহুল এলাকার তালসহ বিভিন্ন গাছে থাকে। রাতের বেলা আহার শিকারে বের হয়। সাধারণত কবুতর ও মুরগীর বাচ্চা শিকার করে এরা বেঁচে থাকে।
গোপালগঞ্জ বন বিভাগের ফরেস্টার ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম খান জানান, উদ্ধার হওয়ায় প্রাণিগুলো শহরতলীর ঘোষেরচর মধ্যপাড়া এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।
উল্লেখ্য, সদর উপজেলার ঘোষেরচর মধ্যপাড়া গ্রামের একটি তাল গাছে ভিন্ন সুরের প্রাণির ডাক শুনতে পায় অপূর্ব দাসসহ কয়েকজন কিশোর। পরে ৫/৬ জন বন্ধু মিলে ওই তাল গাছ থেকে ৪টি গন্ধগোকুলের বাচ্চা নিচে নামিয়ে আনে।
এ সময় বাচ্চাগুলোকে দেখার জন্য স্থানীয়রা ভীড় জমায়। পরে সংবাদ পেয়ে গোপালগঞ্জ বন বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই চারটি গন্ধগোকুলের বাচ্চা উদ্ধার করে নিজ হেফাজতে নিয়ে আসেন।




