
ওবায়দুল হক (৭২) ও তার স্ত্রী পক্ষাঘাতগ্রস্ত জাহানারা বেগম (৬৮) গুলশান-১-এর ৭ নম্বর সড়কের একটি বাড়ির পঞ্চম তলায় থাকতেন। হঠাৎ বুধবার দিবাগত গভীর রাতে তাদের শোবার ঘরে আগুন ধরে যায়। আবদ্ধ কক্ষে ধোঁয়ায় তারা নিথর হয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।
এই দম্পতির একমাত্র সন্তান (মেয়ে) যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী। তাদের দেখাশোনা করতেন দুই গৃহকর্মী। গতকাল যখন তাদের শোবার ঘরে আগুন ধরে যায়, তখন কক্ষটির দরজা-জানালা বন্ধ ছিল।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, গতকাল দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে গুলশান ১ নম্বরের ৭ নম্বর সড়কের এ-৪ নম্বর ফ্ল্যাটে ওবায়দুল-জাহানারা দম্পতির শোবার ঘরে হঠাৎ আগুন ধরে যায়। এ সময় ওই দম্পতি ঘুমিয়ে ছিলেন। তাদের কক্ষের দরজা-জানালা বন্ধ ছিল। পাশের কক্ষে থাকা গৃহকর্মীদের চিৎকার শুনে পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা ঘুম থেকে জেগে ওঠেন। তারা ফ্ল্যাটে ঢোকার দরজা ভাঙলে দুই গৃহকর্মী বাইরে বেরিয়ে আসেন। এরপর ওবায়দুল-জাহানারা দম্পতির কক্ষের দরজা বাইরে থেকে ভেঙে ফেললেও পুরো ফ্ল্যাট ধোঁয়াচ্ছন্ন হয়ে পড়ায় তাদের উদ্ধার করতে পারেননি তারা। জাহানারা পক্ষাঘাতগ্রস্ত ও ওবায়দুল অসুস্থ ছিলেন।
অভিযানে যুক্ত তেজগাঁও ফায়ার স্টেশনের পরিদর্শক জহিরুল ইসলাম আজ বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, খবর পাওয়ার ১০ মিনিটের মধ্যেই ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট সেখানে পৌঁছায়। তারা দেখতে পায়, কক্ষের চেয়ার-টেবিল, কাঠের আলমারি ও বিছানার একপাশে আগুন জ্বলছে। জাজিমের অন্য পাশে নিথর পড়ে ছিলেন ওবায়দুল-জাহানারা দম্পতি। এ সময় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিভিয়ে ওবায়দুল-জাহানারা দম্পতিকে উদ্ধার করে গুলশানের বেসরকারি ইউনাইটেড হাসপাতালে পাঠান। কিছুক্ষণ পর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যান।
তাদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়। ওবায়দুল একসময় ঠিকাদারি পেশার সাথে জড়িত ছিলেন।
ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক জহিরুল বলেন, দম্পতি বিষাক্ত ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। তাদের শোবার ঘরে মোবাইল ফোন চার্জ দেয়া হচ্ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেখান থেকে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে।
গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বি এম ফরমান আলী প্রথম আলোকে বলেন, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গ থেকে ময়নাতদন্ত শেষে ওবায়দুল-জাহানারা দম্পতির লাশ দাফনের জন্য তাদের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীতে নিয়ে গেছেন স্বজনেরা। এ ব্যাপারে গুলশান থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।




