slider

গুরুদাসপুরে কলেজের শ্রেণিকক্ষ দখল করে প্রাইভেট পড়ান সভাপতি

নাটোর প্রতিনিধি : ক্লাস চলাকালীন সময়ে গুরুদাসপুরের নাজিরপুর কলেজের শ্রেণি কক্ষ দখল করে প্রাইভেট পড়ানোর অভিযোগ ওঠেছে ওই প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোবারক আলীর বিরুদ্ধে। অধ্যক্ষের অনুরোধ উপেক্ষা করে প্রভাব খাটিয়ে প্রায় চার বছর ধরে তিনি এই বাণিজ্য করছেন।

মোবরক আলী গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ডিগ্রী কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি এবং লক্ষীপুর গ্রামের মৃত ওমর আলীর ছেলে। তিনি নাজিরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। সেখানে ছাত্রীর সাথে যৌন কেলেঙ্কারীর দায়ে তাকে চাকুরিচ্যুত করা হয়। পরে তিনি ওই কলেজের সদস্য এবং প্রায় দেড় বছর আগে সভাপতির দায়িত্বে আসেন। এর আগে মোবারক আলী একই কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য ছিলেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উচ্চ মাধ্যমিক (এসএসসি) পরীক্ষার জন্য সরকারি নির্দশনা মোতাবেক সব ধরণের প্রাইভেট-কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকার কথা। অথচ সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা নাকরে মোবারক আলী প্রভাব খাটিয়ে কলেজের একটি শ্রেণি কক্ষ দখল করে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে সকাল ১০ টা পর্যন্ত ২ ঘন্টা ব্যাপী প্রাইভেট বাণিজ্য করছেন তিনি।

সরেজমিনে রোববার সকাল ৯ টায় কলেজে গিয়ে দেখা যায়- সকাল ৯ টা থেকে কলেজের রুটিন পাঠদান শুরু হলেও কলেজের পশ্চিম পাশের ভবনের একটি কক্ষ দখল করে ইংরেজি বিষয়ে প্রাইভেট পড়াচ্ছেন সভাপতি মোবারক আলী। এসময় প্রাইভেট পড়ানোর ছবি তুলতে গেলে সাংবাদিকদের বাধা দেন সভাপতি মোবার কআলী।

নাজিরপুর ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) আমিনুল ইসলাম রতন জানান, মোবারক আলী দীর্ঘদিন ধরে কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য ছিলেন। তখন থেকেই কলেজের শ্রেণিকক্ষ দখল করে প্রাইভেট পড়ান। বছর দেড়েক আগে মোবারক আলী কলেজের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বাধানিষেধ করলেও প্রভাব খাটিয়ে প্রাইভেট পড়ানো বন্ধ করছেন না মোবারক আলী। এতে করে কলেজে পাঠদান ব্যহত হচ্ছে।
এবিষয়ে নজিরপুর কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি মোবারক আলী প্রাইভেট পড়ানোর বিষয়টি স্বীকার করে জানান, তিনি উর্ধতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই কলেজের শ্রেণি কক্ষে প্রাইভেট পড়াচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, কলেজের একটি শ্রেণি কক্ষ দখল করে কলেজ চলাকালীন সময়ে প্রাইভেট পড়ান মোবারক আলী। একারণে কলেজের রুটিন পাঠদান ব্যহত হলেও মোবারক আলী প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হওয়ায় কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পাননা। তারা কলেজে প্রাইভেট বাণিজ্য বন্ধের দাবি জানান।

গুরুদাসপুর মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সেলিম আক্তার জানান, নাজিরপুর কলেজের শ্রেণি কক্ষ দখল করে সভাপতির প্রাইভেট পড়ানোর বিষয়টি তিনি জানেন না। তবে খোঁজ নিয়ে খুব দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button