
ভারতের ‘ধর্মগুরু’ ডেরা সাচা সৌদার প্রধান গুরমিত রাম রহিম সিংহকে গত ২৫ আগস্ট আদালত ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত করার পরই সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পাঁচকুলা। জানা গেছে, সেদিনের সহিসংতার পুরো ঘটনাটাই ছিল ধর্ষক বাবার ‘পালিতা কন্যা’ হানিপ্রীত ইনসানের মস্তিষ্কপ্রসূত। পুলিশের কাছে এমনই দাবি করেছে ডেরা সাচা সৌদার পাঁচ সমর্থক। এমনকি সেই সংঘর্ষের জন্যে নাকি ‘পাপা কি পরী’ ১.২৫ কোটি টাকা অনুমোদনও করেছিলেন। এই সংক্রান্ত গোপন বৈঠকটি হয় সিরসায় গত ১৭ আগস্ট।
প্রসঙ্গত, গত ২৫ অগাস্ট পাঁচকুলায় সংঘর্ষে মদত দেওয়ার জন্যে যে ৪৩জন ডেরা অনুগামী পুলিশের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় ছিলেন, তাদের মধ্যে সবচেয়ে শীর্ষে নাম ছিল হানির। একমাসের ওপর পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে গা ঢাকা দিয়েছিলেন হানিপ্রীত। অবশেষে গত ৩ অক্টোবর তাকে গ্রেফতার করা হয়।
সূত্রের খবর, ডেরার যে পাঁচ সমর্থক রাকেশ, চামকৌর সিংহ, ড্যান সিংহ, দিলাওয়ার এবং সুরিন্দর সিংহ হানির পরিকল্পনার বিষয়ে পুলিশকে গোপনে জানিয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের বক্তব্য ভিডিওগ্রাফ করে রাখা হয়েছে। এমনকি ডেরার সমস্ত অর্থনৈতিক আদানপ্রদান দেখভালের দায়িত্বেও ছিলেন হানি।
তবে ১৭ আগস্টের বৈঠকে শুধু সংঘর্ষের পরিকল্পনা নয়, পুলিশ হেফাজত থেকে রাম রহিমকে কীভাবে ছাড়িয়ে নিয়ে আসা যায়, সেই ছকও কষা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন ওই ডেরা অনুগামীরা। সেদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন গুরমিতের ব্যক্তিগত সচিব রাকেশ কুমার আরোরা এবং ডেরার প্রধান নিরাপত্তা আধিকারিক প্রীতম। পরে বিশেষ তদন্তকারী দলের অফিসাররা তাদের গ্রেফতার করেন।
হরিয়ানা পুলিশ সূত্রের খবর, হানিপ্রীতের ওপর ন্যারকো পরীক্ষাও করা হতে পারে। কারণ ক্রমাগত জেরার মুখেও কার্যত নিজের বক্তব্যে অটল থাকছেন পাপা কি পরী। এমনকি তিনি জেরায় দাবি করেছেন, ডেরার টাকা-পয়সা সংক্রান্ত বিষয় তিনি কিছুই জানেন না। উল্টে একাধিকবার নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন হানিপ্রীত। যদিও তার সেই দাবি মানতে নারাজ পুলিশ।
পুলিশ কমিশনার এ.এস চাওলা জানিয়েছেন হানিপ্রীতকে অবশ্যই জেরা করা হবে। বুধবারই পাঁচকুলার এক আদালতে হানিপ্রীতকে পেশ করা হলে, তাকে ছয় দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে




