জাতীয়শিরোনাম

কোটা বাতিলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভার আগামী বৈঠকে

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা তুলে দিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে করা কমিটির সুপারিশ উঠবে মন্ত্রিসভার আগামী বৈঠকে। আর মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের পর এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব (বিধি) আবুল কাশেম মহিউদ্দিন ঢাকাটাইমসকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘কোটা নিয়ে কমিটির দেয়া সুপারিশ প্রধানন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আমাদের কাছে এসেছে। মন্ত্রিসভা বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য আমরা সেটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়েও দিয়েছি। আশা করছি আগামী মন্ত্রিসভা বৈঠকে সেটি অনুমোদনের জন্য উঠবে।’
সরকারি চাকরিতে নিয়োগের মোট ৫৬ শতাংশ হয় কোটায়। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জন্য, ১০ শতাংশ করে জেলা ও নারী কোটা, পাঁচ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কোটা এবং এক শতাংশ সংরক্ষিত আছে প্রতিবন্ধীদের জন্য।
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর মুক্তিযোদ্ধা কোটার আওতায় সন্তানদেরকেও আনা হয়। এরপর জামায়াত-শিবিরের অনুসারীরা এই কোটা বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে নামার চেষ্টা করে। সে সময় এবং এরপর আরও তিন দফা সে চেষ্টা ভণ্ডুল হয়। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংক্ষণ পরিষদের ব্যানারে কোটা সংস্কার করে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবিতে আন্দোলন শুরু করে।
গত ৮ থেকে ১১ এপ্রিল নানা ঘটনার পর ১১ এপ্রিল সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেন কোনো কোটা থাকবে না। তবে গত ১২ জুলাই প্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংরক্ষণের বিষয়ে উচ্চ আদালতের রায় রয়েছে। এখন এটি বাতিল হলে তিনি আদালত অবমাননায় পড়বেন।
কোটা সংস্কার নিয়ে আন্দোলনের প্রেক্ষিতে এ বিষয়ে সুপারিশ দিতে গত ২ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন হয়। কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। তবে নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন দিতে না পারার পর তিন মাস সময় বাড়ানো হয়।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে সব কোটা তুলে দেয়ার সুপারিশ তারা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠিয়েছেন।
কোটা পর্যালোচনা কমিটির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আবুল কাশেম মহিউদ্দিন ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমরা জাস্ট সুপারিশটাই মন্ত্রিসভা বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য পাঠিয়েছি। সেখানে নতুন করে কিছু যুক্ত করা হয়নি। এখন মন্ত্রিসভা যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটার উপর ভিত্তি করেই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।’
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন কর্মকর্তা ঢাকাটাইমসকে জানিয়েছেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী এখন নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। আগামী ১ অক্টোবর (সোমবার) সকাল ৯টায় তিনি দেশে পৌঁছাবেন। ওইদিন মন্ত্রিসভা বৈঠক হবে কি না সেটি এখনও নিশ্চিত নয়। তাই ১ অক্টোবর না হলে পরবর্তী মন্ত্রিসভা বৈঠক হবে আগামী ৮ অক্টোবর।
আগামী ডিসেম্বরের শেষে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে অক্টোবরেই হচ্ছে নির্বাচনকালীন সরকার। আর ওই সরকার কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। ফলে কোটা বাতিলের মতো সিদ্ধান্ত এর আগেই নিতে হবে।
ঢাকাটাইমস/

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button