শিরোনাম

কুমিল্লায় প্রাইভেটকারে দেড় কোটি টাকা, রহস্য খূঁজছে পুলিশ

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে একটি প্রাইভেটকারের ভেতরে তল্লাশী তালিয়ে ২টি ব্যাগে থাকা ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা উদ্ধার নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিনভর এ ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেফতার করা গেলেও টাকার রহস্য বের করতে পারে পুলিশ।
দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশের একটি টহলদল দাউদকান্দি উপজেলার বলদাখাল থেকে চাঁদপুর সড়কের পদুয়া ইউনিয়নের কয়রাপুর লোহার ব্রিজ নামক স্থান থেকে গত বুধবার গভীর রাতে তাদেরকে গ্রেফতার করে। বৃহস্পতিবার বিকালে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। এ ব্যাপারে সিআইডি তদন্ত শুরু করেছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম।
গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছেন, চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোপাটি গ্রামের কানুলাল কর্মকারের ছেলে তমাল কর্মকার (২৫), একই গ্রামের মৃত চন্দন কর্মকারের ছেলে অন্তু কর্মকার, চাঁদপুর সদর উপজেলার পশ্চিম বিঘনদী গ্রামের মৃত শুকুর বেপারির ছেলে ও প্রাইভেটকারের চালক সেলিম বেপারি এবং চাঁদপুর সদর উপজেলার গোল্ডেন টাওয়ার মহিলা কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা সম্ভুনাথ কর্মকারের ছেলে সুকদেব কর্মকার।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দাউদকান্দি উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের শ্রীরায়েরচর সড়কে বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে কয়রাপুর লোহার ব্রিজ নামক স্থানে থানার এএসআই মো. মোশাররফ হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে রাস্তায় টহল দিচ্ছিলেন। টহল দল একটি প্রাইভেটকারের (ঢাকা মেট্রো-গ ১৯-১০৮১) গতিবিধি সন্দেহজনক দেখে প্রাইভেটকারটি আটক করে। পরে পুলিশ প্রাইভেটকারের আরোহীদের নামিয়ে এতে তল্লাশী চালায় এবং দুইটি ব্যাগ দেখতে পায়।
এসময় ব্যাগে কি রয়েছে পুলিশ জানতে চাইলে তারা বলে ব্যাগে স্বর্ণ বিক্রির টাকা রয়েছে। প্রাইভেটকারটি তল্লাশী করলে দুটি ব্যাগের মধ্যে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা আছে বলে আটককৃতরা পুলিশকে জানায়। এ সময় স্বর্ণ বিক্রির কোন রশিদ বা কাগজপত্র দেখাতে না পারায় এএসআই মো. মোশাররফ হোসেন বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে থানার ওসিকে অবগত করেন। পরে ওসির নির্দেশে টহল দল প্রাইভেটকারসহ তাদেরকে থানায় নিয়ে যায়।
সন্ধ্যায় দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা ঢাকায় স্বর্ণ বিক্রি করা টাকা। এসব টাকা নিয়ে তারা চাঁদপুরে যাচ্ছিল। তবে তারা এসব টাকার কোনো রশিদ কিংবা বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। তাই টাকাগুলো কার, কোথায় থেকে এসেছে, মানিলন্ডারিং-এর সাথে জড়িত আছে কিনা- এসব ব্যাপারে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে বিষয়টি মানিলন্ডারিংয়ের অপরাধ বলে প্রতীয়মান হওয়ায় সিআইডিকে অবহিত করা হয়েছে। আইনের বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদেরকে ফৌজদারী কার্যবিধির ৫৪ ধারায় আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনা সিআইডি তদন্ত করছে। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য নথি সিআইডিতে প্রেরণ করা হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button