শিরোনাম

কাল বৃহস্পতিবার থেকে ফেনী লকডাউন

আগামিকাল ২৬ মার্চ, বৃহস্পতিবার থেকে ফেনী লকডাউন। শুধু ঔষধের দোকান এবং অতিপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান খোলা থাকবে। এছাড়া বাকি সবকিছু বন্ধ থাকবে। সংক্রমণরোধে সামাজিক দূরুত্ব বাজায় রাখতে বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল থেকে প্রশাসনের সহায়তায় মাঠে থাকবে সেনাবাহিনী।
বুধবার, ২৫ মার্চ সকালে মুঠোফোনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ফেনী জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজজামান। তিনি জানান, ফেনীর টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে অস্থায়ী ক্যাম্প করে সেনাবাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছেন। ওই স্থান থেকে তারা জেলার বিভিন্ন স্পটে টহল জোরদার করবেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত এই লকডাউন চলবে। এ সময়ের মধ্যে ফেনী জেলায় থেকে কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না এবং সেখান থেকে বেরও হতে পারবেন না।
মানুষ যাতে অতি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হতে না পারে সেটি নিশ্চিত করতে রাস্তায় পুলিশি টহল থাকবে। অতি প্রয়োজন ছাড়া কাউকে রাস্তায় পাওয়া গেলে জেল-জরিমানা করা হবে বলে জানান তিনি।
সিভিল সার্জন ডা. মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, ফেনীতে ১৪৬ প্রবাসীসহ ৫২১ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ২১ জনের হোম কোয়ারেন্টিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় মৌখিকভাবে তাদের ছাড়পত্র দিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। গত কয়েকদিনে জেলায় মোট ১২৬ জনের কোয়ারেন্টিন শেষ হয়েছে। বিমানবন্দরের তথ্যানুযায়ী ফেনীতে ৫ হাজার ৩০০ জন প্রবাসী দেশে ফিরেছেন। এদের মধ্যে ৪৮০ প্রবাসী ও তাদের পরিবারের সদস্যসহ সবাইকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। বাকি বিদেশফেরতদের তথ্যানুযায়ী খুঁজে না পাওয়ায় তাদের হোম কোয়ারেন্টিনের আওতায় আনা সম্ভাব্য হয়নি।
তিনি জানান, হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তিদের জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় চেয়ারম্যান এবং মেম্বারদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দেখভালের জন্য। সিভিল পোশাকে পুলিশও কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তিদের পর্যবেক্ষণ করছেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রবাসীদের হোম কোয়ারেন্টিন মানার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যারা এ নির্দেশনা মানবেন না তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ফেনীর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ৩০ শয্যা, ফেনী ট্রমা সেন্টারের ৩০ শয্যা, সোনাগাজীর মঙ্গলকান্দি ২০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০ শয্যাসহ পাঁচটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচ শয্যা করে মোট ১০৫ শয্যার আইসোলেশন কর্নার করা হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে ফেনী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ সম্পর্কিত এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজজামান।
সভায় তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের মূলমন্ত্র যার যার ঘরে থাকুন করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ করুন। তার জন্য সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত। সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে এর মানে হচ্ছে এই ছুটির মধ্যে সব কর্মকর্তা, কর্মচারী সবাই বাসায় থাকবেন।
করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে কুমিল্লা সেনানিবাস ২৮ মিডিয়াম রেজিমেন্ট আর্টিলারি অধিনায়ক লে. কর্ণেল আসিফ আজমিন বলেন, এটি এখন আমাদের জাতীয় ভাবে সকলে এক সঙ্গে মোকাবেলার সময় এসেছে। আমরা সবাই এক যোগে সেটি মোকাবেলা করবো। আপনারা দয়া করে এর ব্যত্যয় ঘটাবেন না ।
বক্তব্য রাখেন- পুলিশ সুপার খোন্দকার নুরুন্নবী, জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. সাজ্জাদ হোসেন, পৌর মেয়র হাজি আলাউদ্দিন।
এ সময় জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, বিভিন্ন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, চিকিৎসক ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button