কালের সাক্ষী রাজার হাটের শত বছরের তেঁতুল গাছটি সংরক্ষন করার অনুরোধ

হানিফ খান, দাউদকান্দি (কুমিল্লা) : প্রবাদ আছে তেঁতুল গাছ সবচেয়ে বেশি অক্সিজেন দিয়ে থাকে, কিন্তু এর বপন, পরিচর্যা, সংরক্ষণ কতটুকু হয়? ভিটামিন সি সমৃদ্ধ তেঁতুলে আচার সহ নানাহ রুচিসম্মত খাবার তৈরি হয়। বিভিন্ন রোগপ্রতিরোধক হিসেবেও কার্যকর। বিশেষ করে মা বোন-বৌ- ঝিদের অনেক প্রিয় তেঁতুল। তরকারি রান্নায় খাটাইতেও তেঁতুলের স্বাধ লোভনীয়। কিন্তু জীবন সংরক্ষণের জন্য তেঁতুল গাছ আজ প্রায় বিলুপ্ত হতে চলেছে, কদাচিৎ আকর্ষণীয় এ গাছ দেখা গেলেও তা কেটে নিয়ে লাকড়ি তৈরি করে একশ্রেণির লোক। কারন তেঁতুল গাছের লাকড়ি না শুকিয়ে কাঁচা অবস্থায় জ্বালানি হিসেবে সহজেই ব্যবহৃত হয়। সেদিন একজন সিনিয়র সাংবাদিক বললেন, ফিচার সংক্রান্ত প্রতিবেদন আজকাল খুব কমই লিখা হয়- তার কারন হলো কপি কারকদের তথ্য চুরির কারনে।বাংলাদেশের একমাত্র পঞ্চগড় জেলার তেতুলিয়া উপজেলায় শতশত বছর পূর্বের তেঁতুল গাছ উপজেলার ঐতিহ্য ধরে রেখেছে, এমনকি ওখানকার প্রশাসন গাছটি সংরক্ষণও করেছেন। তেঁতুলিয়ার তিন রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে কালের স্বাক্ষী হয়ে ওই তেঁতুল গাছ। পরিবেশবিদ সহ অসংখ্য দর্শনার্থী ওই তেঁতুল তলার প্রাঙ্গণে ক্ষনিকের সুখের স্বাধ গ্রহণ করে, আর সান বাধানো মার্বেলে লিখার সংরক্ষণ মুলক নাম ফলক পড়ে অভিজ্ঞতার ভান্ডার সমৃদ্ধ করে। ছবিতে প্রদর্শিত তেঁতুল গাছটি পঞ্চগড় জেলার তেতুলিয়ার নয়, এটি কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার একটি রাজকীয় নাম রাজার হাট গ্রামে। চেয়ারম্যান বাড়ি সংলগ্ন পুকুর পাড়ে সর্বশক্তি প্রয়োগ করে দাড়িয়ে আছে হেলে পরা শতবছরের এই তেঁতুল গাছটি, একসময় এ গাছটির গোড়ায় পঞ্চায়েত বৈঠক বসতো। গ্রামের পাড়া প্রতিবেশী বসে আড্ডা দিতেন, আবার কেউ কেউ মনের ভাবাবেগ প্রকাশ করতেন বাঁশির সূরে পল্লী গীতি ও ভাটিয়ালি গান গেয়ে। বর্তমানে বসেনা পঞ্চায়েত, আসেনা দর্শনার্থী, বংশিবাদকও নয়। পুকুর পাড় ভেঙে সংকীর্ণ হয়ে গেছে গাছের গোড়া, এতে সর্বশক্তি প্রয়োগ করে জীবন টিকিয়ে রেখেছে হেলে পরা গাছটি। তাই কৃষক সহ পাড়া প্রতিবেশিদের হাঁটাচলা দুষ্কর। প্রশাসন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঐতিহাসিক এ গাছটি বাঁচিয়ে রাখতে এবং পরিবেশ বান্ধব হিসেবে নিজেদের নাম সংরক্ষন করতে এগিয়ে আসা দরকার বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন সুশীল সমাজের লোকজন।




