
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এক রোগীর সংস্পর্শে যাওয়ার কারণে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিকিৎসকসহ ৪২ জনকে কোয়ারেন্টিনের পাঠানো হয়েছে। একই কারণে রাজশাহী মেডিকলে কলেজ হাসপাতালের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রোগীর সংস্পর্শে যাওয়া চিকিৎসক, নার্স ও সহায়ক কর্মচারীকে কোয়ারেন্টিনের পাঠানো হয়। হাসপাতালের উপপরিচালক সাইফুল ফেরদৌস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি ও ক্যাজুয়াল্টি বিভাগ ও করোনা পর্যবেক্ষণ ইউনিট, রেডিওলজি বিভাগে দায়িত্বরত ২১ জন চিকিৎসক, ১২জন নার্স ও ৯ জন সহায়ক কর্মচারী এই রোগীর সংস্পর্শে আসেন। এ জন্য তাদের কোয়ারেন্টিনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীদের নমুনা নিয়ে বুধবার ও বৃহস্পতিবার পরীক্ষা করা হবে। পরীক্ষায় কেউ করোনা পজিটিভ না হলে তাদের কর্মস্থলে ফেরানো হবে।
এই রোগী বর্তমানে আইসোলেশন ইউনিটে রয়েছেন। সেখানে যে চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরা দায়িত্বে রয়েছেন। তাদেরও কোয়ারেন্টিনে নেওয়া হবে। তবে নির্দেশনা অনুযায়ী যে দল সেখানে সাত দিন দায়িত্ব পালন করবে, তাদের পরবর্তী ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে রাখা হবে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার জেলার বাঘা উপজেলা থেকে ৮০ বছর বয়সী একজন রোগী জ্বর ও প্রসাবের যন্ত্রণার কথা বলে হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনি দুইদিন সেখানে ভর্তি থাকেন। এই রোগীর এক্স-রে করার পরে চিকিৎসকদের সন্দেহ হয়। তখন তাকে হাসপাতালের করোনা পর্যবেক্ষণ ইউনিটে নেওয়া হয়। গত রোববার তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরের দিন সোমবার সন্ধ্যায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজের করোনা ল্যাবে তার নমুনা পরীক্ষায় জানা যায়, তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। ওই দিনই তাকে রাজশাহী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে প্রস্তুত আইসোলেশন ইউনিটে পাঠানো হয়।
মঙ্গলবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেয়, এই রোগীর চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় জড়িত থেকে যারা তার সংস্পর্শে গেছেন তাদের সবাইকে কোয়ারেন্টিনে নেওয়া হবে।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালের সামনে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে করোনা চিকিৎসক দলের আহবায়ক আজিজুল হক আজাদ সাংবাদিকদের বলেন, এই রোগীর ঢাকা ফেরত কোনো ব্যক্তি সংস্পর্শে যাওয়ার কোনো ‘হিস্ট্রি’ ছিল কি না আগে তা জানাননি। তার জ্বর ও প্রসাবের যন্ত্রণার কথা জানিয়েছিলেন। এ জন্য প্রথমে তাকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী বলে সন্দেহ করা হয়নি।
হাসপাতালের উপপরিচালক সাইফুল ফেরদৌস জানান, এই রোগী বাইরে থেকে আসা কোনো ব্যক্তির সংস্পর্শে এসছিলেন কি না তার চেয়ে বড় কথা হচ্ছে তার শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়েছে। এখন তার সংস্পর্শে যারা এসেছেন তাদের কোয়ারেন্টিনে পাঠিয়ে পর্যায়ক্রমে পরীক্ষা করা হবে।
এই প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কোনো রোগী রাজশাহীতে সরাসারি হাসপাতালে এলেন। এর আগে শুধু নমুনা নিয়ে আসা হয়েছে। হাসপাতালের উপপরিচালক সাইফুল ফেরদৌস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।




