বিবিধশিরোনাম

করোনা থেকে শিশুদের ডায়াবেটিস হতে পারে: গবেষণা

শিশুদের টাইপ-১ ডায়াবেটিসের কারণ হতে পারে চীন থেকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া নতুন রোগ নভেল করোনাভাইরাস বা কভিড-১৯। লকডাউনের দিনগুলোতে উত্তর-পশ্চিম লন্ডনে ডায়াবেটিসের সমস্যা সংক্রান্ত শিশু-রোগীদের সংখ্যা দ্বিগুণ হওয়ায় ইমপেরিয়াল কলেজ লন্ডনের বিশেষজ্ঞারা এ বিষয়ে একটি গবেষণা করেছেন।
ডায়াবেটিস জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা নিবন্ধে বলা হয়েছে, মার্চের ২৩ তারিখ থেকে জুনের ৪ তারিখ পর্যন্ত এনইচএস ট্রাস্টের চারটি হাসপাতালে টাইপ-১ ডায়াবেটিসের ৩০ শিশুকে পাওয়া যায়, যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ।
ওই শিশুদের তিন চতুর্থাংশের মধ্যে জটিল ডায়াবেটিক কিটোএসিডোসিসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘শিশু যদি ক্লান্তি অনুভব করে, পানিশূন্যতায় ভোগে, বারবার প্রস্রাব করে কিংবা ওজন হারাতে থাকে তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।’
নভেল করোনাভাইরাসের স্পাইক প্রোটিন অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন তৈরির কোষকে আক্রমণ করে ধ্বংস করে দিতে পারে বলে ধারণা বিজ্ঞানীদের।
গবেষকেরা জানিয়েছেন, ‘৩০ শিশুর মধ্যে মাত্র পাঁচজনের কভিড-১৯ ধরা পড়লেও অন্যদের নিয়ে সন্দেহ আছে। তাদের ক্ষেত্রে হয়তো শনাক্ত হয়নি।’
ইমপেরিয়াল কলেজ লন্ডনের গবেষকেরা বলছেন, করোনাভাইরাস থেকেই যে শিশুদের ডায়াবেটিস হচ্ছে সেটি এখনো শতভাগ প্রমাণিত না হলেও এর সঙ্গে একটা সম্পর্ক আছে বলে আমরা ধারণা করছি।
গবেষক দলের প্রধান কারেন লোগানের ভাষায়, ‘কভিড-১৯ এবং কিছু শিশুর টাইপ-১ ডায়াবেটিসের সঙ্গে একটা লিংক আছে বলে আমাদের বিশ্বাস। সেটা এই গবেষণায়ই প্রথম দেখা গেল।’
ইংল্যান্ডের পাশাপাশি গত কয়েক মাসে ইতালি এবং চীনেও টাইপ-১ ডায়াবেটিসে পড়া শিশুদের সংখ্যা বেড়েছে।
ব্রিস্টল ইউনিভার্সিটির ডায়াবেটিস এবং মেটাবোলিক এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের প্রফেসর জুলিয়ান হ্যামিল্টন-শিল্ড মনে করেন, ‘গত কয়েক মাসে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাওয়া এই ফলাফল অকল্পনীয় প্রমাণকে সামনে এনেছে।’
গ্লুকোজ অথবা বেশি মাত্রার সুগারের কারণে ডায়াবেটিস হয়। রোগটি একবার হলে সারা জীবন থেকে যায়।
টাইপ-১ ডায়াবেটিস সাধারণত ছেলেবেলায় অথবা ৪০ বছর বয়সের আগে হয়। এর সঙ্গে স্থূলতার কোনো সম্পর্ক নেই।
রোগটি প্রতিরোধের জন্য ইনসুলিন ইনজেকশন অথবা ইনসুলিন পাম্প দিয়ে চিকিৎসা করা হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button