
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত পুলিশ সদস্যের সংখ্যা পাঁচ হাজার ছাড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরো ২৬১ পুলিশ সদস্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। পুলিশে একদিনে সর্বোচ্চ আক্রান্তের সংখ্যা এটিই। এ নিয়ে পুলিশে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ১২৯।
আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সদস্য ১ হাজার ৬৫৮ জন। যাদের মধ্যে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যই বেশি। পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
এর আগে ১৬ মে একদিনে সর্বোচ্চ ২৪১ পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন।
পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, করোনায় আক্রান্ত হওয়া ২০৯৩ জন সদস্য সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তাদের অনেকেই জনগণের সেবায় নিজেকে নিযুক্ত করতে আবারও কাজে যোগ দিয়েছেন। বাংলাদেশ পুলিশের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হাসপাতালগুলোর উন্নত ও মানসম্মত চিকিৎসা ও সেবায় সুস্থতার হার দ্রুততার সঙ্গে বাড়ছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা দেশ রূপান্তরকে জানান, সুস্থ হওয়া বেশিরভাগ পুলিশ সদস্য পুনরায় দেশ মাতৃকার সেবায় নিয়োজিত হয়েছেন। পুলিশ সদস্যদের সুস্থতার হার ৩৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ। আক্রান্তদের মধ্যে মাঠপর্যায়ের সদস্যই বেশি। করোনায় আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার একজন, পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার আটজন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) পদমর্যাদার ১৯ জন, সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ২০ জন, ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার ৯৮ জন রয়েছেন। বাকিরা এসআই, এএসআই এবং কনস্টেবল।
সারা দেশের পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের তথ্য-উপাত্ত থেকে জানা গেছে, করোনা আক্রান্ত সন্দেহে আরও ১ হাজার ২০৬ জনকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসায় ৫ হাজার ১৬২ জন কর্মকর্তাকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। করোনাভাইরাসমুক্ত হয়ে ১ হাজার ৮৭৬ পুলিশ সদস্য বাড়ি ফিরেছেন। মৃত্যুবরণ করেছেন ১৫ জন পুলিশ সদস্য।
করোনা আক্রান্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের দেখভালে উচ্চপদস্থ পরিদর্শন টিম গঠন করেছেন আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ। তারা নিয়মিত পুলিশ সদস্যদের খোঁজখবর রাখছেন।
পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা দেশ রূপান্তরকে বলেন, মাঠে নিয়োজিত সদস্যরা যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে ও সুরক্ষিত থাকতে পারেন, সে জন্য সচেতনতার পাশাপাশি সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি জানানো হচ্ছে। সিনিয়র অফিসাররাও বিভিন্ন ইউনিটে গিয়ে তাদের সঙ্গে এসব নিয়ে কথা বলছেন। সুরক্ষা সামগ্রী ও পর্যাপ্ত জীবাণুনাশক সরবরাহ ও ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে।




