
আন্তর্জাতিক জরিপকারী সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারের হিসাব অনুযায়ী, ৩৪ লাখ করোনা আক্রান্তের প্রায় ১১ লাখ মানুষ সুস্থ হয়ে উঠেছেন। মারা গেছেন ২ লাখ ৪৩ হাজার। বাকিরা সুস্থ হওয়ার পথে। যারা মারা গেছেন তাদের ডেটা বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা জানার চেষ্টা করছেন কোন বয়সী মানুষদের কী সমস্যা থাকলে মৃত্যুঝুঁকি বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির হেলথ ইকুইটি বিভাগ থেকে বলা হয়েছে, ‘বয়সের একটা পার্থক্য সব দেশে দেখা যাচ্ছে। তরুণেরা জীবন-যাত্রার ধরনের কারণে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। তবে তাদের তুলনায় বয়স্কদের সার্বিক মৃত্যুহার বেশি।’
মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে গত মার্চে বিশ্বখ্যাত মেডিকেল জার্নাল ল্যানসেটে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে ৩৮টি দেশের ডেটা বিশ্লেষণ করে জানানো হয়েছে, করোনায় ৮০ কিংবা তার বেশি বয়সী মানুষদের মৃত্যুহার ১৩.৪ শতাংশ।
সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের তথ্য অনুযায়ী, যেসব করোনা রোগীর অন্য কোনো শারীরিক অসুস্থতা নেই তাদের মৃত্যুর হার মাত্র ০.৯ শতাংশ। যাদের হৃদরোগের সমস্যা আছে তাদের ক্ষেত্রে এই হার আবার ১০.৫ শতাংশ। যাদের শ্বাসকষ্ট আছে তাদের ক্ষেত্রে ৬.৩ শতাংশ। হাইপারটেনশনের রোগীদের ক্ষেত্রে এটি ৬ শতাংশ।
এই যে হিসাব বলা হচ্ছে এর মানে কিন্তু এই না যে এসব রোগ থাকলেই আপনি মারা যাবেন। সহজ কথায়, যেসব করোনা রোগীর হৃদরোগ আছে, তাদের ১০০ জনের মধ্যে ১০ জনের মতো মারা যাচ্ছেন। গড়ে ৮৯ জনের মতো সুস্থ হচ্ছেন।
সংক্রমণ ঠেকাতে তরুণদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছে উন্নত দেশগুলো। এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর প্রচার হয় যে তরুণ ও শিশু-কিশোররা এই রোগে আক্রান্ত হয় না। মূল ঝুঁকি ৪০-এর বেশি বয়সী মানুষ। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালির স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদন বলছে, তরুণেরাও এই ভাইরাসের ঝুঁকিতে রয়েছেন।
১৭ মার্চ ইতালির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন বলছে, ইতালিতে করোনায় আক্রান্ত যারা মারা গেছেন, তাদের ৯০ শতাংশ আগে থেকেই অন্য রোগে ভুগছিলেন। ৭৫ শতাংশ উচ্চ রক্তচাপের রোগী ছিলেন।
শিশুদের নিয়ে চীন বলছে, তাদের দেশে ১১ শতাংশের অবস্থা বেশ খারাপ ছিল, যাদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। বাকিরা সুস্থ হয়ে যায়।



