আন্তর্জাতিক সংবাদশিরোনাম

করোনাইভাইরাস: বিদেশি কূটনীতিকেরা দক্ষিণ কোরিয়া ছাড়ছেন

ভয়াবহ করোনাভাইরাস আতঙ্কে দক্ষিণ কোরিয়া ছাড়ছেন বিদেশি নাগরিকেরা। তাদের মধ্যে রয়েছেন দেশটিতে নিযুক্ত বিদেশি রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকেরাও।
বিবিসি জানায়, করোনা সংক্রমণের আশঙ্কায় ৩৮০ বিদেশি নাগরিকদের এক মাসেরও বেশি সময় ধরে কোয়ারান্টিনে রাখা হয়েছিল। মার্চের এক তারিখ তাদের সবাইর পর্যবেক্ষণ শেষ হয়। তবে তাদের মধ্যে কূটনীতিকদের সংখ্যা কত, সেটি নিশ্চিত করা যায়নি।
দক্ষিণ কোরিয়া ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এনকে নিউজ জানায়, শুক্রবার থেকে বিদেশি নাগরিকেরা দক্ষিণ কোরিয়া ছাড়তে শুরু করবেন। প্রথম ফ্লাইটে ৬০ জন যাত্রী থাকবেন বলে জানা গেছে। তারা সবাই কূটনীতিক বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এক কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা এয়ার কোরিয়োর একটি বিশেষ ফ্লাইট পিয়ংইয়ং থেকে রুশ শহর ভ্লাদিভস্তকে যাত্রা করবে। ফ্লাইটটিতে বিদেশি কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মীরা থাকবেন।
এ দিকে শুক্রবারের আগ পর্যন্ত নিজ কমপাউন্ডের বাইরে যেতে পারবেন না বিদেশি নাগরিকেরা। তাদের চলাচল সীমিত রাখা হয়েছে।
চীনের বাইরে করোনাভাইরাসের সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ঘটেছে দক্ষিণ কোরিয়ায়। দেশটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৪৮১২ জন। মারা গেছেন ২৯ জন। ১ লাখ ২৫ হাজার ব্যক্তিকে পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে।
দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় পাশাপাশি দুটো শহরে দেগু এবং চোংডো থেকে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ছে। ভাইরাসে আক্রান্তদের অধিকাংশই অঞ্চলটির শিনচিওঞ্জি নামে ক্ষুদ্র একটি খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের লোকেরা।
দাবি করা হচ্ছে, ধর্মীয় গোষ্ঠীটির কয়েকশ সদস্য ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার উপসর্গের কথা জানানোর পরই তাদের অনেকের শরীরেই প্রথম করোনাভাইরাস পাওয়া যায়।
এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের ৬২ শতাংশই শিনচিওঞ্জি সম্প্রদায়ের লোক। কীভাবে সম্প্রদায়টির মধ্যে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে, বিষয়টি এতদিন নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছিল না।
তবে দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে জানা গেছে, ধর্মীয় গোষ্ঠীটির দুই সদস্য উহান ভ্রমণ করেছিলেন। যাদের মধ্যে একজন শরীরে করোনাভাইরাস নিয়ে দেশটিতে ফিরে এসেছিলেন।
এদিকে সারা বিশ্বে করোনায় মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ১১৫ জনে দাঁড়িয়েছে। চীনে সোমবার আরও ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চীনে মৃতের সংখ্যা ২ হাজার ৯৪৩ জনে দাঁড়িয়েছে।
ডিসেম্বরের শেষের দিকে দেশটির হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহানে ভাইরাসটির উৎপত্তি। পরবর্তীতে যার নাম দেয়া হয় কভিড-১৯।
চীনের বাইরে মারা গেছে ১৭২ জন। এদের মধ্যে ইরানে ৬৬ জন, ইতালিতে ৫২ জন, দক্ষিণ কোরিয়ায় ২৯ জন, জাপানে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
চীনে নতুন করে ১২৫ জন আক্রান্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮০ হাজার ১৫১ জনে। সারা বিশ্বে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯০ হাজার ৫০৬ জনে।
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস এখন বিশ্বের ৭০টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে সিএনএন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button