জাতীয়শিরোনাম

কমিউিনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যকর্মীরা লাগাতার অবস্থান ধর্মঘটে

চাকরি জাতীয়করণের দাবি
চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে কমিউিনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যকর্মীরা লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন।
শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে কমিউনিটি ক্লিনিকের কয়েক হাজার স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারী (সিএইচসিপি) অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন। আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে তাদের চাকরি জাতীয়করণ না হলে ১ ফেব্রুরয়ারি থেকে অনশন কর্মসূচি পালন করবেন। সিএইচসিপি অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বানে সকাল থেকে সবুজ রঙের এপ্রোন পড়ে সিএইচসিপিরা রাজপথে অবস্থান নিয়েছেন।
অ্যাসোসিয়েশনের দাবি আদায় বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দফতরে ১৪ হাজার সিএইচসিপি’র চাকরি জাতীয়করণের জন্য ধরনা দিয়ে আসছি। কিন্তু সেসব আবেদনে কাজ না হওয়ায় আজ আমরা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছি। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো।
চাকরি রাজস্ব খাতে নেয়াসহ বিভিন্ন দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে সিএইচসিপিরা আন্দোলন করে আসছে। কর্তৃপক্ষ দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দিলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নেয়ায় তাদের মধ্যে বিরাজ করছে হতাশা ও ক্ষোভ। দাবি আদায়ের লক্ষ্যে গত ১৮ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় কমিটি সংবাদ সম্মেলন করে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করে। কর্মসূচি অনুযায়ী ২০ জানুয়ারি থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর পর তিন দিন অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন তারা এবং ২৩ জানুয়ারি থেকে জেলা সিভিল সার্জন অফিসের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। ওই কর্মসূচি মধ্যে সরকার থেকে কোনো ধরণের আশ্বাস না পেলে আজ থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন সিএইসিপিরা।
সিএইচসিপি অ্যাসোশিয়েশনের সহ-সভাপতি এবং দাবি আদায় বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সুমন মাতব্বর বলেন, অনেকের অনেক আশ্বাস পেয়েছি কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। এখন প্রধানমন্ত্রী ছাড়া আর কারো আশ্বাসের উপর আমরা আস্থা রাখতে পারছি না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি চলবে।
প্রসঙ্গত; দেশের গ্রামীণ জনগণের দোরগোড়ায় মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে কমিউনিটি ক্লিনিক সেবা কার্যক্রম ১৯৯৬ সালে গৃহীত হয় এবং বাস্তবায়ন শুরু হয় ১৯৯৮ সালে। ১৯৯৮-২০০১ সময়ের মধ্যে ১০ হাজারের বেশি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করে অধিকাংশই (প্রায় আট হাজার) চালু করা হয়। কিন্তু ২০০১ সালে সরকার পরিবর্তনের পর এ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় এবং এ অবস্থা ২০০৮ পর্যন্ত চলামান থাকে। ২০০৯ সালে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ছয় বছর প্রকল্প মেয়াদ বৃদ্ধিসহ মেয়াদের আরসি এইচসিবি শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে কমিউনিটি ক্লিনিক কার্যক্রম পুনঃরুজ্জীবিতকরণ কার্যক্রম শুরু হয়।
সিএইচসিপিরা জানিয়েছেন চাকরি রাজস্বকরণ হচ্ছে না, গত ছয় বছর ধরে ইনক্রিমেন্ট নেই, কল্যাণ তহবিল নেই, অর্জিত ছুটির ছুটি নেই, উন্নত প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা নেই, নিয়মিত বেতনও হয় না।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button