জাতীয়শিরোনাম

কবি নজরুলের ১১৯ তম জন্মজয়ন্তী উৎসব ২৫ মে শুরু

নাজমুস সাকিব : ২৫ থেক ২৭ মে পর্যন্ত তিনদিন ব্যাপী ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৯ তম জন্মজয়ন্তীর উৎসব পালিত হবে ।
প্রতিবছরের মতো এবারো কবির জন্মজয়ন্তীতে অগনিত ভক্ত, দেশবরেন্য কবি,সাহিত্যিক,বুদ্ধিজীবী,নজরুল গবেষক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের আগমন ঘটবে ত্রিশালে ।
তিনদিন ব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নজরুল গ্রামীন মেলা ও বই মেলা উপভোগ করতে বাড়িতে বাড়িতে দুর দুরান্তের স্বজন ও নজরুল ভক্তদের ভিড় জমবে
ত্রিশালের নজরুল একাডেমি স্কুলের মাঠের দক্ষিন পার্শ্বে নির্মিত নজরুল মঞ্চে দেশবরেন্য কবি, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, নজরুল গবেষকরা আলোচনায় অংশ নেবেন। মাঠের একদিকে মেলা সংলগ্ন নজরুল মঞ্চে চলবে আলোচনা সভা আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অন্য পাশে হবে নজরুল গ্রামীণমেলা।
১৯৬৫ সাল থেকে প্রতি বছর স্থানীয় ভাবে নজরুলের জন্মজয়ন্তী পালন শুরু করে ত্রিশালবাসী ।১৯৯০ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ সর্ব প্রথম ত্রিশালে ৭ দিনব্যাপী সরকারিভাবে নজরুল জন্মজয়ন্তী পালনের সিদ্ধান্ত নেন।এরপর থেকে প্রতি বছর জাতীয় পর্যায়ে অথবা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে তিনদিন ব্যাপী নজরুলের জন্মজয়ন্তী উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের উদ্যোগে কাজী রফিজউল্লাহ দারোগা বাড়ীর আঙ্গিনায় নির্মান করা হয়েছে নজরুল পাঠাগার ও জাদুঘর, সংরক্ষন করা হয়েছে নজরুল যে খাটে শয়ন করতেন সেই খাটটি।
পৌর শহরের মাত্র দেড় কিলোমিটার দূরে বিচুতিয়া বেপারী বাড়ীর আঙ্গিনায় নির্মিত হয়েছে নজরুল স্মৃতিকেন্দ্র, নজরুল ইনষ্টিটিউট এবং সেমিনার কক্ষ। স্মৃতিকেন্দ্র সংলগ্ন যে পুকুরে কবি গোসল করতেন, মাছ ধরতেন, সেই পুকুর ঘাট পাকা করণসহ একটি মনোরম পরিবেশে রুপান্তরিত করা হয়েছে।
বিচুতিয়া বেপারী বাড়ীর অদূরে শুকনি বিলের পাড়ে নির্মিত হয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়। শুকনি বিলের পাড়ে যে বটবৃক্ষের নিচে বসে কবি তন্ময় হয়ে বাঁশি বাঁজাতেন তা সংরক্ষিত রয়েছে।
সংরক্ষন করে রাখা হয়েছে নজরুল একাডেমীর (সাবেক দরিরামপুর হাইস্কুল) সপ্তম শ্রেণির ওই কক্ষটি, যে কক্ষে কবি নজরুল অধ্যয়ন করেছেন। কক্ষটির সামনে প্রধান শিক্ষক বিপিন চন্দ্রের স্বরণে লেখা নজরুলের একটি উক্তি মোজাইক করে রাখা হয়েছে।
“আমি এক পাড়াগাঁয়ে স্কুল পালান ছেলে, তার উপর পেটে ডুবুরি নামিয়ে দিলেও “ক” অক্ষর খুঁজে পাওয়া যাবে না। স্কুলের হেড মাষ্টারের চেহারা মনে করতেই আজও আমার জল তেষ্টা পেয়ে যায়”।
ত্রিশালের বিভিন্ন স্থানে কবির গৌরবগাঁথা স্মৃতিকে ধারন করে কবির নামে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে নজরুল একাডেমী (নজরুলের বাল্য বিদ্যাপিঠ), নজরুল ডিগ্রি কলেজ, নজরুল উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, দুখুমিয়া বিদ্যানিকেতন, কাজীর সিমলা নজরুল উচ্চ বিদ্যালয়, নজরুল মেমোরিয়াল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, নজরুল সেনা স্কুল, দুখু চাইল্ড কেয়ার স্কুল, কবি নজরুল ওয়েল ফেয়ার ফাউন্ডেশন,বিদ্রোহী কবি নজরুল স্মৃতি পাঠাগার,কবি নজরুল স্মৃতি সংসদ,কবি নজরুল কবিতা পরিষদ,দুখুমিয়া থিয়েটার সহ আনাচে কানাচে অসংখ্য সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন গড়ে উঠেছে। ত্রিশাল ও ময়মনসিংহের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো কয়েকদিন আগে থেকেই ব্যস্ত সময় কাটায় নাটক, গান, কবিতা ও নৃত্যের চর্চা নিয়ে।
১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৪ মে (১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জৈষ্ঠ) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ।
বর্ধমানের আসানসোলের একটি রুটির দোকানে কাজ কাজ করতেন তিনি। ১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দে ময়মনসিংহের ত্রিশালের কাজীর সিমলা গ্রামের কাজী রফিজউল্লাহ দারোগা কবি নজরুলকে নিয়ে আসেন বাংলাদেশে ।
সে সময় কাজীর সিমলায় কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল না। তিনি প্রতিভাবান নজরুলকে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি করে দেন দরিরামপুর হাইস্কুল (বর্তমান নজরুল একাডেমীতে)।
ত্রিশাল সদর ইউনিয়নের নামাপাড়া গ্রামের বিচুতিয়া বেপারীর বাড়ীতে থাকার ব্যবস্থা হয় কবির। কবি নজরুলের পদচারনায় ত্রিশাল আজ গৌরবান্বিত। নয়া দিগন্ত।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button