
শাহীন রাজা : লোকটা কবি হতে চেয়েছিলেন। সত্তরের অগ্রজ কবিদের সাথে ছিল তাঁর সখ্যতা। তাই কবি হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কবি হওয়া শেষ পর্যন্ত আর তাঁর হয়নি। কবি মনটা সাথে সাংবাদিকতা শুরু করেন। লোকটা আর একটা পরিচয় সাথে সাথে রাখতেন। তা হলো, উনি একজন সফল ক্রিকেটার। লোকটা হলেন জালাল আহমেদ। আজ তাঁর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী।
এই প্রজন্মের ক্রিকেটার প্রেমিদের অনেকেই হয়তো তাকে চিনবেন না। আমার তাঁকে চেনার এবং জানার সুযোগ হয় আমরা দুজনেই একই ভবনে কাজ করতাম। উনি ছিলেন ‘বাংলাদেশ টাইমস’-এ। আমি দৈনিক বাংলায়। ঐ সময় পেশায় উনি জ্যেষ্ঠ। আমি কনিষ্ঠ। উনি ইংরেজিতে রিপোর্ট করেন আর আমি বাংলায়। ঐ সময়ে দৈনক বাংলা’র ক্রিয়া প্রতিবেক বন্ধু কামাল আহমেদ এবং স্নেহভাজন মালেক আল এমরানের মাধ্যমে পরিচয়। পরে জামান ভাই এবং রুমি ভাইয়ের কল্যাণে ঘনিষ্ঠতা। এবং হৃদ্যতা।
ইংরেজি সাংবাদিকতা করলেও বাংলায় হাত ছিল অসাধারণ। উনি পাকিস্তানের ক্রিকেটার জাভেদ মিয়ানদাদকে নিয়ে অসাধারন লেখা লিখেছেন। একটা গদ্য কাব্য। মিয়ানদাদ কিভাবে করাচি শহরের হতদরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এলেন। বিদেশে ম্যাচ খেলতে গেলে, অভিজাত পরিবারের খেলোয়াড়রা তাদের খাবার টেবিলে জায়গা দিত না। একদিন ভারতীয় কিংবদন্তি ক্রিকেটার মিয়ানদাদকে তাঁর সাথে একই টেবিলে খেতে ডাকেন। নানা বর্নে রঙিন হয়ে ওঠে জাভেদ মিয়ানদাদ। জালাল ভাই মানেই, চা সিগারেট ফ্রী।
জালাল ভাইয়ের বড় কৃতিত্ব হচ্ছে ১৯৯৭ আইসিসি ট্রফি বিজয়ী দলটিও তাঁর হাতেই গড়া। প্রাথমিক প্রস্তুতি তাঁর অধীনেই হয়েছিল। পরে কোচ হিসেবে যোগ দেন গর্ডন গ্রিনিজ। এবং গ্রিনিজের সাথে ‘কো কোচ’ হিসেবে তিনি কাজ করেন। বাংলাদেশ আইসিসি ট্রফি বিজয়ে তিনি অন্যতম নায়ক ছিলেন।
আজকে ‘সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়ন’ মেয়ে ফুটবলারদের সাথে অনিয়ম নিয়ে যে সব লেখা হচ্ছে। ১৯৯৭-এ জালাল ভাইয়ের সাথেও ক্রিকেট বোর্ড আরও অন্যায় করেছিল। মানিক মিয়া আইসিসি ট্রফি বিজয়ী ক্রিকেটারদের সম্বর্ধনা প্রদান করা হয়। ক্রিকেট টিমের সাথে যারা জড়িত ছিল তাদের সকলকেই ঐ সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে ডাকা হয়। বাদ পরে বিজয়ী টিমের কো-কোচ। জালাল ভাই এই কষ্ট সহ্য করতে না পেরে যুক্তরাজ্যে পাড়ি দেন। বেশ কয়েকবছর পর আবারও ফিরে এসেছিলেন। কিন্তু ক্রিকেট বোর্ডের সাথে আর কোন সম্পর্ক রাখে নাই। আগামী প্রজন্মকে ক্রিকেট খেলা শেখাতে শুরু করেন। দেশ তাঁকে কোন প্রকার স্বীকৃতি দেয়নি। অভিমান নিয়ে ওপারে যাত্রা।
তাঁর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁকে শ্রদ্ধা এবং শুভকামনা।
ছবিটি বন্ধু মলয়ের ওয়াল থেকে নেয়া। মলয়কে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ।




