এটি ভারতের রাজস্থানের পিপালান্ত্রি গ্রামের গল্প। যে রাজস্থান রাজ্যের এখনো অনেক জায়গায় কন্যা সন্তানকে অভিশাপ এবং বোঝা হিসেবে দেখা হয়। সেই রাজস্থানের পিপালান্ত্রি গ্রামে কন্যা সন্তান বয়ে আনে আর্শিবাদ। গ্রামবাসী এমনই এক প্রথা চালু করেছে যে পশ্চাপদ সমাজের জন্য এই গ্রাম এখন একটি দৃষ্টান্ত। এই গ্রামে একটি কন্যা সন্তান জন্মালেই তার নামে লাগানো হয় ১১১টি গাছ।
গ্রামবাসীরা বলছেন, এই প্রথা চালু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় আড়াই লক্ষ নতুন গাছ লাগানো হয়েছে গ্রামে এবং আশপাশে। এই দারুন প্রথাটি শুরু করেন শ্যাম সুন্দর পালিওয়াল নামের এক গ্রামপ্রধান।

একটি দুঃখের গল্পের ভেতর দিয়েই শুরু হয় এই কাজটি। বহু বছর আগে শ্যামসুন্দর পালিওয়ালের কন্যাসন্তান খুব অল্প বয়সে মারা যায়। প্রিয় শিশুকন্যার স্মৃতির উদ্দেশ্যে তিনিই চালু করেছিলেন এই প্রথা। চরম মানসিক যন্ত্রণা থেকে এই কাজ করলেও, তা সুফল দিয়ে চলেছে আজও। পরিবেশবান্ধব এই ঐতিহ্যটি আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ভবিষ্যৎ নির্মাণ করে চলেছে নিঃশব্দে।
কন্যাসন্তানদের জন্ম উদযাপন করতে একটি বিশেষ তহবিলও গঠন করেন ওই গ্রামের বাসিন্দারা। নিয়ম করা হয়েছে, গ্রামে কোনো কন্যাসন্তানের জন্ম হলেই সেই পরিবারের তরফ থেকে ১০,০০০ টাকা লগ্নি করতে হবে তহবিলে। আর ২১ হাজার টাকা চাঁদা তুলবে গ্রামবাসীরা। সেই ৩১ হাজার টাকা জমা করে রাখা হবে ব্যাংকে। ২০ বছর পরে সুদ-সহ ফেরত পাওয়া যাবে পুরো টাকাটা। তখন তার উচ্চশিক্ষার জন্যই হোক বা কোনো কাজে হোক বা বিয়েতে হোক, সে টাকা খরচ করতে পারবেন মা-বাবা। তারা যেন কোনো ভাবেই মেয়েকে বোঝা মনে না করেন, সে উদ্দেশেই এই নিয়ম বলে মনে করা হয়।

এই তহবিলে লগ্নি করতে হলে বা টাকাটি পেতে হলে আরও দু’টি বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে যায় পরিবার। প্রথমত, প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত মেয়ের বিয়ে দিতে পারবেন না তারা এবং দ্বিতীয়ত, বিয়ে দেয়ার আগে মেয়েকে যথেষ্ট পড়াশোনা করাতে হবে।
এ সবের পাশাপাশি গাছ লাগানো তো আছেই। তবে শুধু গাছ লাগিয়েই থেমে থাকেন না গ্রামবাসীরা। নিয়মিত করেন পরিচর্যাও। উইপোকা বা অন্যান্য কীটপতঙ্গের হাত থেকে রক্ষা করতে গাছের চারপাশে ঘৃতকুমারী গাছ লাগান তারা। নিয়মিত জল দেন, সার দেন। গাছ বড় হলে, তাতে ফুল বা ফল ধরলে সেসব বিক্রি করে অর্থও উপার্জন করেন তারা।




