
রতন ঘোষ, কটিয়াদী প্রতিনিধি: ধানক্ষেতের কথা ভাবলেই চোখের পর্দায় ধরা দেয়, দিগন্ত জোড়া সবুজের সমারোহ। কৃষকের আগামী সোনালি স্বপ্ন, লুকিয়ে আছে সবুজ ধান ক্ষেতের মাঝে। চারিদিকে এক নয়নাভিরাম দৃশ্য। ফসলের মাঝে কোথাও ফাঁকা নেই, যতদূর দৃষ্টি যায় সবুজ আর সবুজ, নীল আকাশের সাদা মেঘের ভেলা যেন সবুজের গারো রঙে একাকার হয়ে গেছে।
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে মাঠে মাঠে হাওয়ায় দুলছে সবুজ ধানি জমি আর, আনন্দে ভরে উঠেছে কৃষকের মন। সবুজ এ ঘেরা রুপা আমনের মাঠ দেখে মাঝে মাঝে থমকে দাঁড়ায় কৃষক। নতুন সাজে সেজেছে বাংলার প্রকৃতি। এবার বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে রুপা আমন লাগাতে কৃষকের বিরম্বনায় পড়তে হয়েছে। আষাঢ় মাসের মাঝামাঝি সময় আমন ধান চাষ করার নিয়ম থাকলেও বৃষ্টি না হওয়ায়, সময় মত রোপন করতে পারেন নি কৃষকরা। দেরিতে বৃষ্টি হলেও ইতিমধ্যে আমন রোপন লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে।
কটিয়াদী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায় যে এ বছর কটিয়াদী উপজেলায় ১টি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়নে মোট ৪ হাজার ৫শত হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হলেও চাষ বেশি হয়েছে। এ পর্যন্ত উপজেলায় আমন ধান চাষ হয়েছে ৫ হাজার ৫ শত ৫০ হেক্টর জমিতে যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ৫০ হেক্টর বেশি জমিতে ধান চাষ হয়েছে। তাছাড়া যদি এবার, আমনের জমিতে কোন রোগ বালাই না হয়, তবে বাম্পার ফলন হবে বলে কৃষকরা আশা করছেন।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ফসলের মাঠ ঘুরে দেখা যায়, আমন ধানের ক্ষেত প্রকৃতির খেয়ালে আরো সবুজ রং ধারণ করেছে। সবুজে ঘেরা রোপা আমনের মাঠে কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন, ধান গাছ ভালো রাখতে ও ধানের উৎপাদন বাড়াতে কৃষকরা খেতে ঘাস পরিষ্কার, সার ও বালাইনাশক ঔষধ প্রয়োগ, পারচিং সহ সার্বক্ষণিক পরিচর্যা করছেন। মাঝেমধ্যে বৃষ্টি আমাদের আমনের জন্য আবহাওয়া ছিল অনুকূলে। ধানের চারা গুলো থেকে অচিরেই বের হবে থুর। তাই ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে কৃষকরা। কটিয়াদী উপজেলার চরপুকিয়া এলাকার কৃষক ইউনুস ফকির জানান, পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় প্রথমদিকে জমিতে সেচ মেশিন দিয়ে চাষ করে আমরা যারা আমন রোপন করেছি এদের এবার খরচ ও বেড়েছে। তদুপরি সার ও ডিজেলের দাম ও কিন্তু বেরেছে। চিন্তা হচ্ছে ধানের খরচ উঠে লাভ করতে পারব কিনা? উপজেলার মসুয়া ইউনিয়নের মুগদিয়া গ্রামের কৃষক জহির উদ্দিন বলেন,এবার তীব্র খরার কারণে দেরিতে রুপা আমন ধান লাগাতে হয়েছে। কিন্তু আবহাওয়া ভালো থাকায় ফসল এখন অনেক ভালো হয়েছে। বোয়ালিয়া গ্রামের কৃষক তাইজুদ্দিন বলেন কয়েকদিনেই আমাদের ফসলের মাঠ অনেক সুন্দর হয়েছে। এখন চারিদিকে শুধু সবুজ আর সবুজ।
জালালপুর ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন বলেন, বর্তমানে রোপা আমন ধানের ক্ষেত সবুজে ভরে উঠেছে । কৃষি অফিস থেকে আমরা সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছি। কৃষি অফিসার স্যারের নির্দেশে মাঠ পর্যায়ে আমরা কৃষি কর্মকর্তাগণ কৃষকদের সময় মত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি এবার ধানের বাম্পার ফলন হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন ইতিমধ্যে উপজেলার রোপা আমনের রোপন শত ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন কটিয়াদী উপজেলায় এ বছর ৪ হাজার ৫ শত হেকটর জমিতে আমন ধানের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল, কিন্তু এ পর্যন্ত উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ৫০ হেক্টর বেশি জমিতে রোপা আমন ধান চাষ হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ফলন যাতে ভাল হয় এজন্য মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। আশা করা হচ্ছে এবার রোপা আমনের বাম্পার ফলন হবে।




