আন্তর্জাতিক সংবাদ

ওরা ভাড়াটে, উসকে দিচ্ছে মিডিয়া : ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। নিউ ইয়র্ক, শিকাগোসহ অন্তত সাতটি বড় শহরে শুরু হওয়া ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ দ্বিতীয় দিনে আরো জোরালো হয়ে অন্তত ২৫টি শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডেনাল্ড ট্রাম্প এই বিক্ষোভকে খুবই অন্যায্য এবং বিক্ষোভকারীদের ভাড়াটে বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বিক্ষোভে উসকানি দেয়ার জন্য মিডিয়াকে দোষারোপ করেছেন। খবর বিবিসি, রয়টার্স ও গার্ডিয়ান-এর।
ট্রাম্পের মালিকানাধীন বিভিন্ন স্থাপনার সামনেও চলছে বিক্ষোভ। ইতোমধ্যে গ্রেফতার হয়েছে বেশ কয়েকজন।
ক্যালিফোর্নিয়া শহরে প্রায় ৪০টি অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার দুপুরে ২০০-এর বেশি বিক্ষোভকারী ম্যানহাটনের ইউনিয়ন স্কয়ার এলাকা থেকে ওয়াশিংটন স্কয়ার পার্ক এলাকার দিকে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যায়। এ সময় তারা ‘ট্রাম্প ও পেন্সের বোধশক্তি নাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করে। পরে পুলিশ তাদের আটকে দেয়।
নিউ ইয়র্কে ট্রাম্পের মালিকানাধীন ট্রাম্প টাওয়ারের সামনে বিক্ষোভে অংশ নেয় প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ। এ সময় বিক্ষোভে পপ তারকা লেডি গাগা উপস্থিত ছিলেন। তিনি এবারের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের সমর্থক ছিলেন।
অকল্যান্ড পুলিশ জানিয়েছে, একদল বিক্ষোভকারী কয়েকটি ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে বেশ কিছু জায়গায় ভাঙচুর করেছে। বৃহস্পতিবার সকালে ক্যালিফোর্নিয়ার প্রায় ৪০টি জায়গায় লাগানো আগুন নেভায় স্থানীয় দমকল কর্মীরা। এ সময় বিশৃঙ্খলা তৈরি, পুলিশ কর্মকর্তাদের হয়রানি করা, বেআইনি কর্মকাণ্ড সংঘটিত করা ও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র বহনের অভিযোগে অন্তত ৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরাও বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে। বার্কলি হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে। সান ফ্রান্সিসকোতে এক হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী হাইস্কুল থেকে বের হয়ে বিক্ষোভে সামিল হয়েছে। ওয়াশিংটন, নিউ ইয়র্ক, বোস্টন, অস্টিন, সিয়াটল, ওকল্যান্ড, কালিফ, ফিলাডেলফিয়া, অরিগন, ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলি, পিটার্সবার্গ, ফিলাডেলফিয়া, টেক্সাসসহ প্রায় ২৫টি শহরে চলছে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ।
এ দিকে চলমান এ বিক্ষোভকে ‘খুবই অন্যায্য’ বলে দাবি করেছেন ৪৫তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক টুইটার বার্তায় তিনি বলেন, ‘মাত্রই একটি স্বচ্ছ ও সফল প্রেসিডেন্ট নির্বাচন শেষ হয়েছে। এখন গণমাধ্যমের সমর্থনে পেশাদার বিক্ষোভকারীরা বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। এটা খুবই অন্যায্য।’
বৃহস্পতিবার করা টুইটে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘মাত্র একটি খোলামেলা ও সফল প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সম্পন্ন হলো, আর এখন মিডিয়ার উসকানি পাওয়া ভাড়াটে বিক্ষোভকারীরা বিক্ষোভ করছে। খুবই বাজে!’ অথচ চার বছর আগে বিক্ষোভকারীদের ব্যাপারে ভিন্ন অবস্থান দেখিয়েছিলেন ট্রাম্প। সে সময় বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার কাছে হেরে গিয়েছিলেন রিপাবলিকান প্রার্থী মিট রমনি। আর তাতে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন ট্রাম্প। সে সময় টুইটারে ট্রাম্প লিখেছিলেন, ‘আমরা এমনটা হতে দিতে পারি না। এ দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের ওয়াশিংটনের রাস্তায় মিছিল করা উচিত। আমাদের জাতি পুরোপুরি বিভক্ত হয়ে গেছে!’
মার্কিন নির্বাচনে ইলেক্টোরাল কলেজ সিস্টেম নিয়েও ট্রাম্পের দ্বিমুখী অবস্থান প্রকাশ পেয়েছে। যে নির্বাচন ব্যবস্থার বদৌলতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী হতে সক্ষম হলেন, তিনি নিজেও তার বিরোধী ছিলেন। কেবল বিরোধিতা নয়, ইলেক্টোরাল ভোটকে গণতন্ত্রের বিপর্যয় বলে মনে করতেন তিনি। যেসব মার্কিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন তাদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠরা পছন্দ করেছেন হিলারি ক্লিনটনকে। জনগণের দেয়া রায়ে হিলারির প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ট্রাম্পের চেয়ে দুই লাখ বেশি। তবু কম পাওয়ার পরও যে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হতে পারলেন তার নেপথ্যে রয়েছে সঙ্কটময় ও বিতর্কিত মার্কিন নির্বাচন ব্যবস্থা। ২০১২ সালের নির্বাচনের পর সে ব্যবস্থার সমালোচনা করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১২ সালে এ নিয়ে ট্রাম্প একটি টুইট করেছিলেন। ২০১২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল আসা শুরু হওয়ার পর শোনা যাচ্ছিল মিট রমনি পপুলার ভোটে এগিয়ে আছেন, তবে ইলেক্টোরাল ভোটে হেরে যাচ্ছেন। আর তা জানার পর ক্ষুব্ধ ট্রাম্প ইলেক্টোরাল সিস্টেমকে ‘গণতন্ত্রের জন্য বিপর্যয়’ উল্লেখ করে টুইট করেন। ট্রাম্প লিখেছিলেন, ‘ইলেক্টোরাল কলেজ গণতন্ত্রের জন্য একটি বিপর্যয়।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button