
কাঞ্চন রায় : অধ্যায়-০২ (গতি) (ভৌত রাশি এবং পরিমাপ)
জ্ঞানমূলক
১। তাৎক্ষনিক দ্রুতি কাকে বলে?
উত্তরঃ গতিশীল কোনো বস্তুর কোনো একটি বিশেষ মুহূর্তে দ্রতি জানতে চাওয়াকে তাৎক্ষনিক দ্রুতি বলে।
২। মন্দন কাকে বলে?
উত্তরঃ সময়ের সাথে বেগ হ্রাসের হারকে ঋণাত্মক ত্বরণ বা মন্দন বলে।
৩। ত্বরণ কাকে বলে?
উত্তরঃ সময়ের সাথে অসমবেগের পরিবর্তনের হারকে ত্বরণ বলে।
৪। সুষম ত্বরণ কাকে বলে?
উত্তরঃ কোনো বস্তুর বেগ যদি নির্দিষ্ট দিকে সবসময় একই হারে বাড়তে থাকে তাহলে সে ত্বরণকে সুষম ত্বরণ বলে।
৫। স্কেলার রাশি কাকে বলে?
উত্তরঃ যে সকল রাশির শুধু মান আছে ,দিক নেই তাদেরকে স্কেলার রাশি বলে।
৬। ভেক্টর রাশি কাকে বলে?
উত্তরঃ যে সব রাশিকে প্রকাশ করার জন্য মান ও দিক উভয়েরই প্রয়োজন হয় তাদেরকে ভেক্টর রাশি বলে।
৭। বেগ কাকে বলে?
উত্তরঃ সময়ের সাথে কোনো বস্তুর সরণের হারকে বেগ বলে।
৮। পর্যায়বৃত্ত কাকে বলে?
উত্তরঃ কোনো গতিশীল বস্তুকণার গতি যদি এমন হয় যে এটি এর গতিপথের কোনো নির্দিষ্ট বিন্দুকে নির্দিষ্ট সময় পর পর একই দিক থেকে অতিক্রম করে তাহলে সেই গতিকে পর্যাবৃত্ত গতি বলে।
৯। পড়ন্ত বস্তুর ৩য় সূত্রটি লিখ।
উত্তরঃ স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু নির্দিষ্ট সময়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তা ঐ সময়ের বর্গের সমানুপাতিক।
অনুধাবনমূলক / সংক্ষিপ্ত প্রশ্নঃ
১। সকল সরল স্পন্দন গতি পর্যাবৃত্ত গতি, কিন্তু সকল পর্যাবৃত্ত গতি সরল স্পন্দন গতি নয়-ব্যাখ্যা কর।
উত্তরঃ যে গতি একটি নির্দিষ্ট সময়ের ব্যব্ ধানে পুনরাবৃত্ত হয় তাকে পর্যাবৃত্ত গতি বলে। কোনো পর্যাবৃত্ত গতিসম্পন্ন বস্তুকনার গতি তখনই সরল স্পন্দন হয় যখন বস্তুকণার ত্বরণ সাম্যাবস্থান থেকে বস্তুকণাটির সরণের সমানুপাতিক এবং সর্বদাই সাম্যাবস্থান অভিমুখী হয়। সুতরাং সরল স্পন্দন গতি এক বিশেষ ধরনের পর্যাবৃত্ত গতি। কিন্তু সব পর্যাবৃত্ত গতি সরল স্পন্দনের বিশেষ শর্তগুলো মেনে চলে না।তাই সব পর্যাবৃত্ত গতি সরল স্পন্দন গতি হতে পারে না। যেমন-ঘড়ির কাটার গতি বা সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর গতি হলো পর্যাবৃত্ত গতি, কিন্তু সরল স্পন্দন গতি নয়। তাই বলা যায়,সকল সরল স্পন্দন গতি পর্যাবৃত্ত গতি, কিন্তু সকল পর্যাবৃত্ত গতি সরল স্পন্দন গতি নয়।
২। অভিকর্ষজ ত্বরণ সমত্বরণ কেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তরঃ কোনো বস্তুর বেগ যদি নির্দিষ্ট দিকে সবসময় একই হারে বাড়তে থাকে তাহলে সে ত্বরণকে সুষম ত্বরণ বা সমত্বরণ বলে। অর্থাৎ বেগ বৃদ্ধির হার সমান হলেই তা সুষম ত্বরণ, অভিকর্ষের প্রভাবে মুক্তভাবে পড়ন্ত বস্তুর ত্বরণ সুষম ত্বরণ। কারণ বস্তুটি যখন ভূপৃষ্ঠের দিকে আসবে তখন এর বেগ প্রতি সেকেন্ডে 9.8ms-2 করে বাড়তে থাকবে।
৩। কম্পনশীল সুরশলাকার গতিকে স্পন্দন গতি বলা হয় কেন?
উত্তরঃ পর্যাবৃত্ত গতিসম্পন্ন কোনো কণা যদি পর্যায়কালের অর্ধেক সময় একদিকে চলে বাকি অর্ধেক সময় পূর্বগতির বিপরীত দিকে চলে,তবে তার গতিকে স্পন্দন গতি বলে। সুরশলাকা তার গতিপথের মধ্যবিন্দু হতে উভয়দিকে সরণের জন্য সমান সময় নেয় এবং দিক প্রথম দিকের বিপরীত হয়। সুতরাং বলা যায়,কম্পনশীল সুরশলাকার গতি স্পন্দন গতি।
৪। বৃত্তাকার পথে গতিশীল কোনো বস্তুর ত্বরণ ব্যাখ্যা কর।
উত্তরঃ বৃত্তাকার পথে গতিশীল বস্তুর বেগের দিক সর্বদা পরিবর্তিত হয়। তাই সমদ্রুতিতে বৃত্তপথে ঘর্ণ্নশীল বস্তুরও সর্বদা ত্বরণ থাকে।এই ত্বরণ বৃত্তের কেন্দ্র বরাবর ক্রিয়া করে বিধায় একে কেন্দ্রমুখী ত্বরণ বলে। আবার বৃত্তপথে অসম দ্রুতিতে চলমান বস্তুর বেগের মানও পরিবর্তিত হতে পারে যাকে কৌণিক ত্বরণ বলে। একক সময়ে বৃত্তপথে ঘূর্ণ্নশীল কণার কৌণিক বেগের পরিবর্তনের হারই কৌনিক ত্বরণ। অথাৎ বৃত্তাকার পথে গতিশীল বস্তুর গতির সাথে দুইধরনের ত্বরণ জড়িত যারা যথাক্রমে কেন্দ্রমুখী ত্বরণ ও কৌণিক ত্বরণ নামে পরিচিত।
৫। স্কেলার রাশি ও ভেক্টর রাশির মধ্যে পার্থক্য লিখ।
উত্তরঃ স্কেলার রাশি ও ভেক্টর রাশির মধ্যে পার্থক্য নিম্নরূপঃ
স্কেলার রাশি
ভেক্টর রাশি
১। স্কেলার রাশিকে প্রকাশের জন্য শুধু মানের প্রয়োজন।
১। ভেক্টর রাশিকে প্রকাশের জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন।
২। স্কেলার রাশির যোগ-বিয়োগ সাধারণ বীজগাণিতিক নিয়মে হয়।
২। ভেক্টর রাশির যোগ-বিয়োগ সাধারণ বীজগাণিতিক নিয়মে হয় না।
৬। সমবেগে হলেই সমদ্রুতি নিশ্চিত হয় কিন্তু সমদ্রুতি হলেই সমবেগ নিশ্চিত হয় না কেন-ব্যাখ্যা কর।
উত্তরঃ আমরা জানি, বেগ একটি ভেক্টর রাশি।ফলে এর মান ও দিক উভয়ই আছে। সুতরাং কোনো গতিশীল বস্তুর বেগের মান ও দিক অপরিবর্তিত থাকলে সেই বস্তুর বেগকে সুষম বেগ বলে। যেমন বৃত্তাকার পথে চলমান বস্তুর বেগের মান অপরিবর্তিত থাকলেও বেগের দিক প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হয়। ফলে বেগ সুষম হয় না। অর্থাৎ সমবেগ হলে সমদ্রুতি নিশ্চিত হয় কিন্তু সমদ্রুতি হলেই সমবেগ নিশ্চিত হয় না।
৭। বস্তুর সরণ তার গতিপথের উপর নির্ভর করে না-ব্যাখ্যা কর।
উত্তরঃ নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট দিকে পারিপাশ্বিকের সাপেক্ষে বস্তুর অবস্থানের পরিবর্তনকে সরণ বলে। সরণ হলো একটি ভেক্টর রাশি। আদি অবস্থান ও শেষ অবস্থানের মদ্যবর্তী সরলরৈখিক দূরত্বই হলো সরণ। অর্থাৎ বস্তু কোনো পথে আদি অবস্থান থেকে শেষ অবস্থানে পৌঁছালো তার সাথে সরণের সম্পর্ক নেই। এজন্য সরণ বস্তুর গতিপথের উপর নির্ভর করে না।
৮। উপরের দিকে নিক্ষিপ্ত কোনো ঢিলের উত্থান ও পতনের সময় সমান কেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তরঃ কোনো বেগে একটি ঢিলকে উপরের দিকে নিক্ষেপ করা হলে অভিকর্ষজ ত্বরণের জন্য বেগের মান প্রতি সেকেন্ডে 9.8ms-1 হারে কমে এক সময় শূন্য হয়। অপরদিকে, পতনের ক্ষেত্রে বেগের মান প্রতি সেকেন্ডে 9.8ms-1 হারে বাড়তে থাকে এবং নিক্ষেপণ বেগের সমান বেগে ভূমিতে পতিত হয়। তাই উভয়ক্ষেত্রে একই সময় লাগে। মনে করি, ঢিলের নিক্ষেপন বেগ , u এবং অনিকর্ষজ ত্বরণ,g বস্তুর উত্থান ও পতনের সময়, t1=t2=
লেখক: সহকারী শিক্ষক (বিজ্ঞান)
সাদিপুর উচ্চ বিদ্যালয়,ফরিদপুর সদর, ফরিদপুর।




