উপমহাদেশশিরোনাম

এনআরসি থেকে বাদ পড়াদের জন্য বন্দি শিবির তৈরি করছে ভারত

ভারতে জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন বা এনআরসি নিয়ে বিতর্ক ও সমালোচনার শেষ নেই। তারপরও এনআরসি থেকে বাদ পড়া ১৯ লাখ মানুষের জন্য বন্দি শিবির তৈরি কাজ শুরু করেছে বিজেপির নেতৃত্বাধীন নরেন্দ্র মোদির সরকার। দেশটির উত্তর-পূর্বের আসাম রাজ্যটির এক বনাঞ্চলে গড়ে উঠছে প্রথম বন্দি শিবির।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হচ্ছে, সবাইকে এই শিবিরে থাকতে হবে না, যারা নাগরিকত্ব প্রমাণ করার কাগজপত্র দেখাতে চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হবেন শুধু তাদেরই রাখা হবে বন্দি শিবিরে। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে এমন খবর প্রকাশ করেছে ডয়েচে ভেলে।

এর মধ্যেই আসামের গোয়ালপাড়ার পাশে বিশাল বনাঞ্চলে গাছ কেটে বন্দি শিবির তৈরির কাজ শুরু হয়ে গেছে। চা-শিল্পের জন্য এই এলাকাটির বিশেষ খ্যাতি রয়েছে। এনআরসি থেকে বাদ পড়া অনেক দরিদ্র মানুষ শ্রমিকের কাজ করছেন সেখানে। হিন্দু-মুসলিম দুই সম্প্রদায়ের মানুষই এই বন্দি শিবির তৈরির কাজে শ্রম দিচ্ছেন।

শিবিরের চারপাশে থাকবে ১০ ফুট উঁচু দেয়াল। ভেতরে গড়ে তোলা হবে একটি স্কুল, একটি হাসপাতাল, একটি বিনোদনকেন্দ্র এবং অবৈধ অভিবাসী আর নিরাপত্তাকর্মীদের জন্য আলাদা আবাসন। নারী এবং পুরুষদের (অবৈধ অভিবাসী) জন্য গড়ে তোলা হবে আলাদা ঘর।

বন্দি শিবিরের শ্রমিক এবং ঠিকাদারদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, গোলাপাড়ার এই শিবিরে থাকতে পারবেন তিন হাজার অবৈধ অভিবাসী। ইতোমধ্যে আসামের জেলে রাখা হয়েছে ৯০০ জনকে। প্রথমে তাদের নিয়ে আসা হবে এই শিবিরে।

বন্দি শিবির নির্মাণের ঠিকাদারির প্রতিষ্ঠানের মালিক শফিকুল হক জানান, বন্দি শিবির তৈরির কাজে লোকের অভাব হচ্ছে না। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘আশপাশের গ্রামগুলো থেকে প্রতিদিন অনেকে এসে কাজ চাইছেন।’

দুই আদিবাসী নারী শেফালি হাজং এবং মালতি হাজংও সেখানে কাজ পেয়েছেন। এনআরসি থেকে দু’জনই বাদ পড়েছেন। বাদ পড়ার কারণ তারাও জানেন। দু’জনেরই জন্মনিবন্ধন হয়নি। নিজের বয়স বলতে পারেন না তারা। নিজের বাড়ির দলিলও নেই তাদের কাছে। ফলে নিজেদের হাতে গড়া বন্দি শিবিরে তাদেরও ঠাঁই হতে পারে।

তা জেনেও তারা কেনো কাজ করছেন? এর জবাবে শেফালি হাজংয় বলেন, ‘পেট তো ভরতে হবে আমাকে!’

এনআরসি’র সমালোচকরা শঙ্কা প্রকাশ করেন, হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি এনআরসি’র মাধ্যমে আসলে মুসলমানদের একাংশের নাগরিকত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে রাজনৈতিক ফায়দা নিতে চায়। ভারতের বিরোধীদলগুলো সরকারের এ উদ্যোগের সমালোচনায় মুখর। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বেশ কিছু মানবাধিকার সংগঠনও এনআরসি’র সমালোচনা করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button