sliderস্থানিয়

একটি ব্রিজের অভাবে, আর কত জীবন গেলে টনক নড়বে কর্তৃপক্ষের?

পতাকা ডেস্ক : সাভারের তুরাগ নদীতে কাউন্দিয়া ইউনিয়ন ঘাট প্রাঙ্গণে শাহ সিমেন্ট কোম্পানির একটি ভলগেট এর পেছনে মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮টায় এক নৌকাডুবির ঘটনায় রিপা (৩৩) নামে এক নারী যাত্রী নিখোঁজ হয়েছেন। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও স্থানীয় লোকজন তার উদ্ধারে তৎপরতা চালালেও এখনও কোনো সন্ধান মেলেনি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, মাঝি জাকিরের নৌকায় কাউন্দিয়া থেকে মিরপুরের দিয়াবাড়ি ঘাটে যাওয়ার পথে রিপাসহ মোট পাঁচজন যাত্রী (চার পুরুষ) উঠেছিলেন। নদীর মাঝপথে শাহ সিমেন্টের ভলগেটের কাছে নৌকাটি ধাক্কা খেয়ে উল্টে গেলে সবাই নদীতে পড়ে যান। পুরুষ যাত্রীরা সাঁতার কেটে রক্ষা পেলেও রিপা তৎক্ষণাৎ নিখোঁজ হন।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়েছে। বাসিন্দা মো.আলী আজগর অভিযোগ করেন,মাত্র কয়েকদিন আগেও একই স্থানে ট্রলার ও নৌকার ধাক্কায় দুটি শিশু ও এক নারী প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, “ভলগেটের কাছে সাবধান হওয়ার জন্য যাত্রীরা মাঝিকে বললেও তারা কাউকে তোয়াক্কা করে না, উল্টো আজেবাজে কথা বলে।”

অন্য বাসিন্দা ফয়সাল নৌপথের নিরাপত্তাহীনতার চিত্র তুলে ধরে বলেন, ব্রিজ না থাকায় প্রতিদিন কাউন্দিয়া ঘাট থেকে দিয়াবাড়ি ঘাটে ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষ নৌকায় যাতায়াত করেন। তিনি দাবি করেন, “প্রতিবছরই এমন দুর্ঘটনা ঘটে, মানুষ মারা যায়। সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার না হওয়ায় মাঝিরা চরম বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।”

এলাকাবাসী দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে তুরাগ নদীতে জরুরি ভিত্তিতে ব্রিজ নির্মাণ এবং বেপরোয়া নৌকাচালকদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জুয়েল মিয়া জানান, তারা প্রাথমিকভাবে বিষয়টি জেনে নৌ থানাকে অবহিত করেছেন এবং নিখোঁজ নারীর উদ্ধারকাজ চলছে। তিনি বলেন, “আমার উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের সাথে কথা বলে নৌকার মাঝিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসবো।” একইভাবে আমিনবাজার নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাসিবুর রহমানও বেপরোয়া মাঝিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের কথা জানিয়েছেন। নিখোঁজ রিপার সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
রিপার মেয়ে আফরোজা সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী কাউনদিয়া শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় পড়ুয়া মায়ের ভেনেটিব্যাগ দেখে সনাক্ত করেছেন যে আফরোজার মা রিপা ।

নিখোঁজ রিপার মেয়ে আফরোজা ও তার স্বামী ফার্নিচার ব্যবসায়ী আনোয়ার সহ তার স্বজনরা নৌকার মাঝি জাকিরের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন। নৌকার মাঝি জাকির পলাতক রয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button