বিনোদন

ঋতুর উত্তম উৎসব

সকালে কেক কাটা রাতে জমকালো পার্টি। ঠিক যেন মায়ের মতো করে ছেলের জন্মদিনের প্ল্যানিং। গতকাল ছিল মহানায়কের ৯২ তম জন্মদিন। সকাল সকাল ২০ পাউন্ডের কেক কেটে উত্তম কুমারকে শ্রদ্ধা জানালেন অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। নায়িকার কথায়, “আজ আমাকে যে গুরু দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সেটা পেয়ে নিজেকে মায়ের সমান লাগছে।” একই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, উত্তমকুমার যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেটাই হচ্ছে। তাতে আমি খুশি”।

৩রা সেপ্টেম্বর সকালবেলা উত্তম স্মৃতি সংসদের পক্ষ থেকে টলিগঞ্জে আয়োজন করা হয়েছিল অনুষ্ঠানের। আর বিকালে রবীন্দ্র সরবরে ছিল জলসা। মহানায়কে শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে হাজির ছিলেন অনীক, দেবাশিস কুমার, অরিন্দম গাঙ্গুলি, অন্বেষা সহ অনেকেই।উত্তমকুমার আসলে বাংলা সিনেমার একটা যুগ। ইন্ডাস্ট্রির হাল ধরতে গিয়ে বহু পরিচালকের সঙ্গে কাজ করেছেন।নড়বড়ে স্টোরি লাইন, পরিচালকের দক্ষতার অভাব, এমন ছবিতেও অভিনয় করেছেন শুধু ইন্ডাস্ট্রির সহশিল্পীদের রুজি রোজগারের কথা মাথায় রেখে। এককথায় বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির যথার্থ অভিভাবক হিসেবে তাঁর জুড়ি মেলা ভার। তাঁর ভুবন ভোলানো হাসি, বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, সাবলীল অভিনয়, নিখুঁত অ্যাকসেন্ট ও যে কোনও বিষয়ে পারফেকশনে পৌঁছনোর অদম্য চেষ্টা আম বাঙালিকে

সিনেমাহল মুখো করে তুলেছে। ইন্ডাস্ট্রির প্রতি ভালবাসা, সাহশিল্পী, কলাকুশলীদের পাশে দাঁড়ানোর মতো মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই উত্তমকুমার ইন্ডাস্ট্রির একান্ত আপনজন হয়ে উঠেছেন। পরিবারের কর্তা যেমন সুখে দুঃখে সমস্ত দায়িত্ব পালন করেন, ইন্ডাস্ট্রির সুখে দুঃখে উত্তমকুমারও দায়িত্ব সচেতন অভিভাবক ছিলেন।

এদিকে বাংলা ছায়াছবিতে নায়িকাদের আকাশে প্রথম তারকার দ্যুতি ছড়িয়েছিলেন কাননদেবী। তাঁর তৈরি পথকে শক্তপোক্ত রাজপথের চেহারা দিয়েছিলেন সুচিত্রা সেন। সুচিত্রা পরবর্তী বাংলা ছবিতে নায়িকাদের দিকে তাকালে অনেকের নামই ঝলমল করে উঠবে, তবে ওই রাজপটির সংস্কার করে যিনি সমসময়ের ইতিহাসে সেটিকে চালিত করেছেন তিনি নিঃসন্দেহে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত।

বর্তমানে বাংলা ছবিতে তিনি অদ্বিতীয়া৷ সাম্প্রতিক অতীতে নারীকেন্দ্রিক বাংলা সিনেমার মুখ যদি বলা হয় তবে ঋতুপর্না প্রায় একক৷ ছবির ব্যবসা যেমনই হোক না কেন, ছবিতে নারীদের নিজের কথা তুলে ধরা থেকে থেমে থাকেননি তিনি৷ বাংলা সিনেমায় সাম্প্রতিক সাফল্যের দিনকালে যদি ইন্ডাস্ট্রিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কৃতিত্ব কোনও কোনও নায়কের কাঁধে পড়ে, তবে সমান কৃতিত্ব তাঁরও৷

বাংলা বাণিজ্যিক ছবিতে একের পর এক কাজ করে ইন্ডাস্ট্রির চাকা সচল যেমন রেখেছেন, তেমনই ‘পারমিতার একদিন’ থেকে ‘দহন’ এ প্রমাণ করে দিয়েছেন তথাকথিত অন্যধারার সিনেমাতেও সমান সাফল্য ডেকে আনতে পারেন তিনি। এবং অন্তত এ ক্ষেত্রে তাঁর সাফল্যের রেকর্ড বাংলা ছবির নায়কদের কাছেও ঈর্ষণীয়।

তবুও মহানায়কের জন্মদিন তিনি ভোলেননি। টাইট শিডিউলের মাঝে সময় বার করে ঠিক মহানায়কে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করলেন তিনি। যা সবার শিক্ষণীয়। কোলকাতা২৪X৭।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button