
ভারতের টালমাটাল অর্থনৈতিক খাতকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে ইয়েস ব্যাংক। কয়েক দিন ধরে চলা নানান কাণ্ডের এবার আর্থিক তছরুপের অভিযোগে শনিবার রাতে মুম্বাই থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ব্যাংকটির প্রতিষ্ঠাতা রানা কাপুরকে।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এক প্রতিবেদনে জানায়, ইয়েস ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ও কর্ণধার রানা কাপুরকে গ্রেপ্তার করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি।
শনিবার রাতে রানা কাপুরকে দীর্ঘক্ষণ জেরা করেন ইডি’র কর্মকর্তারা। জেরায় ইয়েস ব্যাংকের কর্ণধার সহযোগিতা করেননি বলেই অভিযোগ। তারপরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রবিবার রানা কাপুরকে আদালতে পেশ করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আরজি জানাবে ইডি।
তদন্তকারীরা জানায়, ডিএইচএফএল, ডিওআইটিইউভি-সহ বেশ কয়েকটি করপোরেট সংস্থাকে ঋণ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে রানা কাপুরের স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে ঘুষের টাকা জমা পড়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার ইয়েস ব্যাংকে লেনদেনের আর্থিক মূল্য বেঁধে দেয় রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া। নির্দেশ দেওয়া হয় যে, ৫০ হাজার টাকার বেশি তোলা যাবে না। এক মাসের জন্য এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি আরবিআইয়ের নির্দেশনায় ব্যাংকের সমস্ত অনলাইন এবং মোবাইল ব্যাংকিং পরিষেবা বন্ধের কথাও জানানো হয়।
ইয়েস সংকটের পর পরই শুক্রবার কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণ জানান, টাকা তোলার ওপরে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও আমানতকারীদের অর্থ সুরক্ষিত থাকবে। দ্রুত এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি মিলবে।
তবে ইয়েস ব্যাংকের দুরবস্থা প্রসঙ্গে কংগ্রেস অবশ্য মোদি সরকারকেই দুষছে। টুইটারে রাহুল গান্ধী লেখেন, ‘‘নো ইয়েস ব্যাংক, মোদি ও তার ভাবনা দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করছে।’’
এ দিকে ইয়েস ব্যাংককে বাঁচাতে আসরে নেমেছে স্টেট ব্যাক অব ইন্ডিয়া বা এসবিআই। ব্যাংকের ৪৯ শতাংশ শেয়ার কিনতে চলেছে তারা। শনিবার এই সিদ্ধান্তের কথা জানান এসবিআইয়ের চেয়ারম্যান রজনীশ কুমার। সমস্যা জর্জরিত ইয়েস ব্যাংকের শেয়ার কিনতে ব্যয় হবে ২, ৪৫০ কোটি রুপি।




