
সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা, বিএমআরসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোদাচ্ছের আলী বলেছেন, চিকিৎসকেরা আজকাল প্রেসক্রিপশান অনেক বড় করেন। তাদের ডায়গনস্টিকের তালিকা অনেক লম্বা। ডাক্তারের প্রেসিক্রপশনে ভয় পেয়ে রোগীরা নিজেই ওষুধ কিনে খেলে কিছু বলার থাকে না।
তিনি বলেন, আমাদের দেশে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ রোগীর কোনো ওষুধ লাগে না। রোগীর সাথে সুআচরণের সাথে ডাক্তার কিছু পরামর্শ দিলে রোগী এমনিতেই সুস্থ হয়ে যায়। ডাক্তার নিজের স্বার্থে অনেক ডায়গনস্টিক দিয়েছেন রোগী তা বুঝতে পারলে তারা আস্থা হারিয়ে ফেলেন ডাক্তারের ওপর।
আজ রোববার মহাখালীর ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরে ‘গ্লোবাল প্র্যাকটিস অন ওটিসি ড্রাগ রেগুলেশন : এ ওয়ে ফরোয়ার্ড ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে অধ্যাপক মোদাচ্ছের আলী একথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, আমাদের দেশের সব ওষুধই প্রেসক্রিপশন ছাড়া (ওটিসি) বিক্রি হয়। চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ বিক্রি নিরুৎসাহিত করতে হবে কিন্তু তা একদিনেই হয়ে যাবে না। এটা নিয়ে কাজ করতে হবে, সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। শুধু আইন করলেই হবে না।
অধ্যাপক মোদাচ্ছের আলী আরো বলেন, বাংলাদেশের ওষুধ নীতি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে অনেক ভালো। তিনি প্রেসক্রিপশন ছাড়া বিক্রয়যোগ্য ওষুধ ভিন্ন ধরনের রং করে বাজারে ছাড়ার পরামর্শ দেন। তাহলে ওষুধ বিক্রেত সহজেই বুঝতে পারবে কোনটা ডাক্তারের প্রেসক্রিপশান ছাড়া বিক্রি করা যাবে এবং কোনটা বিক্রি করা যাবে না।
গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোস্তাফিজুর রহমান।
এতে আরো বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. ইসমাইল হোসেন খান, বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির সাধারণ সম্পাদক এস এম শফিউজ্জামান, ফার্মেসি কাউন্সিলের সহসভাপতি মোসাদ্দেক আলী।
স্বাগত বক্তব্য দেন, ওষুধ প্রশাসনের পরিচালক মো: রুহুল আমিন।
মেজর জেনারেল মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ২১৮টি মডেল ফার্মেসি করা হয়েছে। এসব ফার্মেসিতে একজন ফার্মাসিস্ট সব সময় বসেন ওষুধ ক্রেতাদের সহায়তা করার জন্য।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা ৩৯টি ওষুধকে ওটিসি’র তালিকায় রেখেছি। এসব ওষুধ প্রেসক্রিপশন ছাড়াই কেনা যাবে।
এস এম শফিউজ্জামান বলেন, ওটিসি ওষুধ সম্বন্ধে গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। ওষুধের সব দোকানকেই লাইসেন্সের তালিকায় আনতে হবে।




