sliderখেলাশিরোনাম

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিলেন তামিম ইকবাল

পতাকা ডেস্ক : চোখের জলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন বাংলাদেশ দলপতি তামিম ইকবাল খান। বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টায় চট্টগ্রামের হোটেল টাওয়ার ইনে সংবাদ সম্মেলন ডেকে অবসরের ঘোষণা দেন তামিম।

এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এ বাঁহাতি ব্যাটার, কথা বলতে গিয়ে চোখের পানি আটকে রাখতে পারেননি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায়ী জানানো সংবাদ সম্মেলনে তামিম বলেন, ‘আজ এই মুহূর্ত থেকে আমি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘নরমালি এমন সময়ে যে কোনো ক্রিকেটারই স্পিচ লিখে নিয়ে আসে, কিন্তু এমন কিছু আমি করিনি।’ আফগানিস্তানের বিপক্ষে শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে ফেলেছেন জানিয়ে পুরো ক্যারিয়ারে সৎ থেকে খেলার চেষ্টা করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তামিম।

তিনি যোগ করেন, আমি গত কিছুদিন ধরেই সিদ্ধান্তটা নিয়ে রেখেছি। এমন না যে সিদ্ধান্তটা হুট করে নেওয়া। পরিবার, বন্ধুদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করেছি। সবকিছু মিলিয়েই আমার এই সিদ্ধান্ত।

নিজের বাবার স্বপ্নপূরণের জন্যই ক্রিকেট খেলেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, আমি সব সময় বলেছি ক্রিকেট খেলেই বাবার স্বপ্ন পূরণ করেছি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে গিয়ে অনেক পরিস্থিতির মুখে পড়েছি, সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমার ছোট চাচার হাত ধরেই ক্রিকেটে এসেছি। যারা আমাকে এই পর্যায়ে আনতে ভূমিকা রেখেছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

১৬ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে পাশে থাকার জন্য তামিম ধন্যবাদ জানান কোচ, বিসিবিসহ সতীর্থদের। আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তামিম বলেন, ‘ক্যারিয়ারের এই দীর্ঘ পথচলায় আমার সব সতীর্থ, সব কোচ, বিসিবির কর্মকর্তাগণ, আমার পরিবার ও যারা আমার পাশে ছিলেন, নানাভাবে সহায়তা করেছেন, ভরসা রেখেছেন এবং আমার ভক্ত-সমর্থক, বাংলাদেশ ক্রিকেটের অনুসারী, সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনাদের সবার অবদান ও ভালোবাসায় আমি চেষ্টা করেছি সব সময় দেশের জন্য নিজের সবটুকু উজাড় করে দিতে।’

অবসর–পরবর্তী জীবনের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তামিম, ‘জীবনের নতুন অধ্যায়ের জন্য সবার কাছে দোয়া চাই। সবাইকে আবারও ধন্যবাদ।’

এর আগে, ২০২২ সালের জুলাইতে আকস্মিক ফেসবুক পোস্ট দিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে বিদায় নিয়েছিলেন।

দীর্ঘ ১৬ বছরের ক্রিকেট ক্যারিয়ার তামিম ইকবালের। ২০০৭ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি কেনিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় তার। আফগানিস্তানের বিপক্ষে নিজের ঘরের মাঠে এই সংস্করণেই শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেললেন তিনি। ২৪১ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ৩৬.৬২ গড়ে ৮৩১৩ রান করেছেন, সেঞ্চুরি ১৪টি, ফিফটি ৫৬টি।

টেস্টে ৭০ ম্যাচে ৩৮.৮৯ গড়ে তার সংগ্রহ ৫১৩৪ রান। ৩১ ফিফটির সঙ্গে করেছেন ১০ সেঞ্চুরি।

টি-টোয়েন্টিতে ৭৮ ম্যাচে করেছেন ১৭৫৮ রান। দেশের একমাত্র সেঞ্চুরির সাথে আছে ৭টি ফিফটিও।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button