আদালতের স্থগিতাদেশ উপেক্ষা করে ইউপি নির্বাচনের ফল তড়িঘরি করে প্রকাশের চেষ্টা

মোঃ মাসুদ, কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি : ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার হযরতপুর ইউনিয়নে গত ২৮নভেম্বর ভোটগ্রহন শেষ হলেও চেয়ারম্যান প্রার্থীদের ভোটের ফলাফলে একটি কেন্দ্রে ফলাফলের শীটে কাটা ছেড়া ও গড়মিল থাকায় ফল প্রকাশ স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। পরবর্তিতে বিষয়টি সুরাহা করতে প্রার্থী ও রিটার্নি অফিসারদের মতামতে ওই কেন্দ্রের ভোট পুন:গনণা করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়।
উপজেলা নির্বাচন কমিশন অফিস থেকে জানা গেছে, হযরতপুর ইউনিয়নের লংকারচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নৌকা প্রতিকের প্রার্থীর ৮২০ ভোটের স্থানে ৬২৩ ভোট জোর পূর্বক লিখিয়ে নেন ঘোড়া প্রতিকের প্রার্থী। ফলে ফলাফলের শীটে কাটাছেড়া ও গড়মিল দেখা যায়। এ কারণে ওই কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। কেন্দ্রটির ফলাফলের গড়মিলের মিমাংশা করতে পরে ঢাকা জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তাকে প্রধান করে ১ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তিতে তদন্ত কমিটি কেরানীগঞ্জ উপজেলা সভা কক্ষে হযরতপুরের লংকারচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে সম্পৃক্ত সকলের সাথে গন শুনানী করেন।
এবিষয়ে নৌকা প্রতিকের প্রার্থী মোঃ আনোয়ার হোসেন আয়নাল জানান,তার ১ টি কেন্দ্রের ফলাফল পুণ:গনণা করা হলেও সে এগিয়ে থাকবেন কিন্তু নির্বাচন কমিশন পরবর্তিতে উদেশ্য প্রনোদিতভাবে তিনটি কেন্দ্রের ভোট পুন:গনণার সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছে, আমার প্রতিপক্ষ ( ঘোড়া প্রতিকের প্রার্থী) হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশণ দায়ের করেন, যার কোন আদেশ নির্বাচন কমিশন পায়নি শুধুমাত্র একটি উকিল সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে তারা তিনটি ভোট কেন্দ্রের ভোট পুন:গণনার আদেশ দিয়েছেন, কয়েকজন অসাধু নির্বাচন কমিশনের যোগসাজসে উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে তারা এই কাজ করছে,আমি এই পুন:ভোট গণনাকে চেলেঞ্জ করে মহামান্য হাই কোর্টে রীট পিটিশন দায়ের করেছি (রীট পিটিশন নাম্বার ৮১৯/২০২২)। এতে হাইকোর্ট বিভাগ রীট পিটিশন তিনমাসের জন্য ভোট গননা স্থগিত করেন, পরবর্তিতে আগামি ২০ ফেব্রুয়ারী আপিল শুনানীর জন্য দিন ধার্য করেন,কিন্তু গত ১৩ ফেব্রুয়ারী নির্বাচন কমিশনের মেয়াদের শেষ মুহুর্তে হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে ভোট গণনা করে তরিঘড়িভাবে ফল পাঠানোর নির্দেশ দেয়, ১৪ ফেব্রুয়ারী নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও অদৃশ্যচাপে ১৫ ফেব্রুয়ারী মাত্র কয়েকঘন্টার নোটিশে প্রিজাইডিং অফিসার ও প্রার্থীদের প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়, যদিও আগামি ২০ ফেব্রুয়ারী আপিল শুনানীর জন্য দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট আপিল বিভাগ।




