slider

অসহায় নারীকে ভিকটিমাইজ করে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার ষড়যন্ত্র ফাঁস। নারীকে উদ্ধার করে পুলিশ

জাহিদ হাসান,বান্দরাবন প্রতিনিধি : লামা উপজেলার দুর্গম গয়ালমারা গ্রামে এক অসহায় নারীকে ভিকটিমাইজ করে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার গোপন ষড়যন্ত্র ফাঁস। খবর পেয়ে লামা থানার পুলিশ ওই নারীকে উদ্ধার করে নিরাপত্তা হেফাজতে নিয়ে আসেন। স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, শারমিন আক্তার(কলি) নামের এই নারীকে চকরিয়া হাসের দীঘির বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন এর ছেলে বেলাল বিয়ে করে গয়ালমারা গ্রামে একটি পলিথিন দিয়ে তৈরি ছাল-বেড়ার ঘরে নিয়ে রাখেন। শারমিন আক্তার(কলি) জানায়, তার বাড়ি লামা রুপসিপাড়া ইউপির ঠান্ডাঝিরি গ্রামে। তার বাবা মৃত শামসুল আলম, মা বেঁচে নেই, ভাই বোন আত্মীয় স্বজন কেউ নেই। বেওয়ারিশ এই পলিকে কেন বেলাল বিয়ে করে জন মানব শুণ্য যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন গয়ালমারা গ্রাম নিয়ে পলিথিন মোড়ানো ঝুপড়িতে রেখে বসবাস করছেন(?)। এসব প্রশ্নের আগে জানা যাক, কেন শারমিন আক্তার(কলি) নামের এই নারী নিজেই বা কারো মাধ্যমে পুলিশকে নিরাপত্তা শঙ্খার খবর দিলেন। এ সব ব্যাপারে পুলিশের বক্তব্য হচ্ছে খবর পেয়ে নিরাপত্তা হেফাজতে নিয়ে আসা হয়। ২৪ জুলাই ২০২২ইং তার স্বামী বেলালসহ তাকে শশুর দেলোয়ার হোসেনের জিম্মায় দিয়ে দেয়া হয়। এদিকে স্থানীয় একটি সূত্রে জানাযায়, এই অসহায় নারীকে ধর্ষণ কিংবা হত্যা করে, অন্যের উপর দোষ ছাপানোর গোপন ষড়যন্ত্র হয়। কোনো ভাবে বলি হওয়ার ভয়ঙ্কর নিল নকসা আঁছ করতে পেরে পলি নিজে বা স্থানীয় কেউ পুলিশকে ৯৯৯ এ খবর দেয়। ২৩ জুলাই লামা থানার পুলিশ ফাঁসিয়াখালী ইউপির গয়ালমারা গ্রামের একটি পলিথিনের ঝুপড়ি ঘর থেকে স্বামী বেলালসহ তাকে নিয়ে আসেন। এ সময় পুলিশের সাথে ঘটনার খলনায়ক মনিরের দেখা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মনিরের আচরণ ছিল ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসীর ন্যয়। শারমিন আক্তার(কলি) ও তার স্বামী, দু’জনকে নিয়ে এসে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য লামা হসপিটালে নেয়া হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদ করে জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়। শারমিন আক্তার(কলি) জানান, তার স্বামী একজন মাদকাশক্ত, সে ইয়াবা সেবন করে। কারা পলিকে ব্যবহার করে এমন নিষ্ঠুর ও ভয়ানক ষড়যন্ত্র করছে(!)। এমন প্রশ্নের সদুত্তর মিলেনি, তবে একটি অসমর্থিত সূত্রে জানাযায়, জিন্নত আলী কতুবী ও মনির সেখানে একটি সঙ্ঘবদ্ধ অপরাধ চক্র গড়ে তোলেন। এই চক্রটি বিভিন্ন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের ভূমি গ্রাস, সৃজিত গাছগাছালি কেটে বিক্রি করা, মিথ্যা নাটক সাজিয়ে মামলা দেয়াসহ ইত্যাদি অপকর্মে লিপ্ত। গত কয়েক মাস আগেও এই চক্রের মূল হোতা জিন্নত আলী কুতুবী ও মনির মিলে, চকরিয়া ফাঁসিয়াখালী ইউপির অচিতাপাড়ার এক ষোড়শীকে দিয়ে কক্সবাজার মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করান। মামলায় ৭ জনকে আসামী করা হয়। ৪ নং আসামী করা হয় মাওলানা আনিছুর রহমানকে। কেন মাওলানা আনিছুর রহমানকে আসামী করা হলো(?)। এ ব্যপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, মাওলানা আনিছ সাহেবকে মামলা দিয়ে এলাকা ছাড়া করে, তাদের জমি দখল ও সৃজিত বাগানের লক্ষ লক্ষ টাকা সম মূল্যের গাছগাছালি কেটে নিয়েছে।
শারমিন আক্তার(কলি) জানান, তার স্বামী ইয়াবা সেবন করে তাকে মারধর করেন। তার স্বামী বেলাল জানায়, গত এক সাপ্তাহ আগে সে স্ত্রী শারমিন আক্তার(কলি)কে নিয়ে গয়ালমারায় অবস্থান করে। চকরিয়া হাসের দীঘি নিজ বাড়ি ছেড়ে দুর্গম গয়ালমারা গ্রামে কেন যায়, এই প্রশ্নের জবাবে সে জানায়, জিন্নত আলী ও মনির তাদেরকে সেখানে নিয়ে যায়। বেলালের বাবা জিন্নত আলীদের সমিতির সদস্য, সে জন্য যেতে হয়েছে। প্রসঙ্গত: জিন্নত আলী গং ইতিপূর্বে একটি ভূমিহীন সমিতি গঠন করে। মহেশখালী, কুতুবদিয়া, চকরিয়াসহ আশপাশের গরিব মানুষকে পার্বত্য লামায় খাস ভূমির মালিক করবেন বলে টাকা নিয়ে ভূমিহীন সমিতির সদস্য করেছে। গত কয়েক বছর ধরে জিন্নত আলী কুতুবী প্রকাশ আলুগোলা লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউপির বিভিন্ন মৌজায় বিভিন্ন প্রজা ও প্রতিষ্ঠানের নামীয় ভোগ দখলীয় জমি দখল করে শান্তি শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে যাচ্ছে। স্থানীয়রা জানায়, এই জিন্নত আলী ও মনির মিলে সাম্প্রতিক সময়ে গয়ামলমারায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে চলছে। কিছুদিন আগে এই চক্রটি সেখানকার একটি অস্থায়ী নিরাপত্তা ক্যাম্প দখল করে নিয়েছিল। পরে অবশ্যই বিজিবি তাদরেকে ক্যাম্প ছাড়তে বাধ্য করেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button