আন্তর্জাতিক সংবাদশিরোনাম

অভিবাসন প্রশ্নে ইউরোপে বিদ্রোহ, পথ খুঁজছে ইইউ

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের(ইইউ) সদস্য দেশগুলোতে আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদনের সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত তাদেরকে ইউরোপের বাইরে অন্য কোন দেশে রাখার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার এমনটা জানিয়েছেন, ইউরোপীয় কমিশনের অভিবাসন বিষয়ক কমিশনার দিমিত্রিস আভরামোপালাস। খবর বিবিসি’র।
খবরে বলা হয়, ইইউ’র জন্য বহু বছর ধরেই অভিবাসন এক বিতর্কিত ইস্যু। সাম্প্রতিক সময়ে তা চরম আকার ধারণ করেছে। এই ইস্যুকে ঘিরে ইইউ’র ভেতরে বৃহত্তর ক্ষমতার দ্বন্দ্ব শুরু হয়ে গেছে। আশ্রয়প্রার্থীদের জায়গা দিতে একের পর এক সদস্য দেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সিদ্ধান্ত মানতে খোলাখুলি অস্বীকৃতি জানাচ্ছে।
পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে উঠেছে যে, আশ্রয়প্রার্থীদের ইউরোপের বাইরে অন্য কোনো দেশের রাখার সম্ভাবনা খতিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যারা স্থলপথে বা নৌপথে ইইউ’তে ঢোকার চেষ্টা করবে, তাদেরকে পথে থামিয়ে অন্য কোন দেশে আশ্রয় কেন্দ্রে রাখা যায় কিনা, সেটা বিবেচনা করা হচ্ছে।
দিমিত্রিস আভরামোপালাস জানিয়েছেন, আলজেরিয়া, মরক্কো, লিবিয়া, এবং মিশরের সঙ্গে তারা এধরণের আশ্রয় কেন্দ্র স্থাপনের ব্যাপারে কথা বলেছিলেন, কিন্তু কেউ এখনো রাজি হয়নি।
অস্ট্রেলিয়া বেশ কয়েক বছর ধরে এই নীতি অনুসরণ করছে। এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে।
আভরামোপালাস অবশ্য বলছেন, তারা জেনেভা কনভেনশন এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক আইনকানুন মেনেই এই কাজ করতে চাইছেন, তারা শরণার্থীদের জন্য কোন ‘গুয়ানতানামো শিবির’ তৈরি করতে চান না।
ইইউ’কে ইউরোপের বাইরে আশ্রয় শিবির করার কথা ভাবতে হচ্ছে, কারণ একের পর এক দেশ অভিবাসন প্রসঙ্গে বিদ্রোহীর মত আচরণ করছে।
গত সপ্তাহে ইতালির নতুন সরকার বহু অনুরোধের পরও সাগর থেকে উদ্ধার করা ৬,০০ আফ্রিকান অভিবাসী বহনকারী জাহাজ তীরে ভিড়তে দেয়নি। তারা বলে দিয়েছে, আর আশ্রয়প্রার্থীকে তারা জায়গা দেবেনা।
অভিবাসন প্রশ্নে রবিবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের ১০ টি দেশ ব্রাসেলসে একটি জরুরী বৈঠককে বসছে। কিন্তু ইতালির নতুন সরকার বলে দিয়েছে, তাদের উদ্বেগ প্রতিফলিত না হলে, কোনো চুক্তিতে সই করা হবেনা।
এছাড়া, হাঙ্গেরি বুধবার নতুন এক আইন করেছে যাতে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের সমর্থনে যে কোনো তৎপরতা অপরাধ হিসাবে গণ্য করা হবে।
হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড আর চেক প্রজাতন্ত্রের মতো দেশগুলো, যাদের সঙ্গে এখন যোগ দিয়েছে অস্ট্রিয়া আর ইটালিতে ক্ষমতায় আসা নতুন সরকার। জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেলের নেতৃত্বে জার্মানি আর ইউরোপীয় ইউনিয়ন অভিবাসনের ব্যাপারে এতদিন পর্যন্ত যে উদারনীতি অনুসরণ করে এসেছে, দেশগুলো এখন সে নীতির বিরুদ্ধে রীতিমত বিদ্রোহ করেছে। এই পাঁচটি দেশ দেশ আজ বৃহস্পতিবার হাঙ্গেরিতে একটি বৈঠকে বসছে তাদের কৌশল ঠিক করতে। বিবিসি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button