sliderস্থানীয়

ঠাকুরগাঁওয়ে ‘সত্যপীর ব্রিজে’র কাজে অনিয়মের অভিযোগ

মোঃ মজিবর রহমান শেখ, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁও-ঢাকা মহাসড়কের পৌর শহরের বিজিবি ক্যাম্পের সামনে সত্যপীর ব্রিজের কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। ব্রিজের কাজে নিম্নমানের সামগ্রী, পুরাতন মালামাল দিয়ে অ্যাপ্রোচের কাজ করাসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ব্রিজের নির্মাণ সংক্রান্ত তথ্য চাইলে সড়ক ও জনপদ বিভাগকে দেখিয়ে দেয়। আবার সড়ক ও জনপদের কাছে গেলে তারা বলে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে সব তথ্য আছে। এমন দায়সারা আচরণে জনগণের কাছে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী এবং ওয়েস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্পের পরিচালকের মধ্যে বার্ষিক কর্মসম্পাদক চুক্তি হয়েছে। সেখানে উল্লেখ আছে, সরকারি দফতর/সংস্থা সমূহের প্রতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতা জোরদার করা, সুশাসন সুসংহতকরণ এবং সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে রুপকল্প-২০২১ এর যথাযথ বাস্তবায়ন। কিন্তু এই প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বিষয়টি উল্টোটা লক্ষ্য করা গেছে। সড়ক ও জনপদ বিভাগের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, জাইকা’র অর্থায়নে জুলাই-২০১৯ থেকে জুন-২০২০ অর্থ বছরের জন্য ওয়েস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্পের আওতায় দেশের পশ্চিমাঞ্চলের ২৬টি জেলায় জাতীয়, আঞ্চলিক ও জেলা মহাসড়কে ৮২টি ব্রিজ নির্মাণের নিমিত্তে ২০১৯ সালের ১৮ জুন সরকারের সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে চুক্তি হয়। চুক্তি মোতাবেক ৭টি প্যাকেজে কাজটি বাস্তবায়ন হচ্ছে। ২০১৯ সালের ২৫ এপ্রিল দরপত্র আহ্বান করা হয় এবং ২০২১ সালের জুন মাসের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। সাইনবোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, প্যাকেজ পিডাব্লিউ-০৬ এন এর আওতায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কনকর্ড প্রগতি কনসোর্টিয়াম লিমিটেড ২০২০ সালের ১২ অক্টোবর ব্রিজের কাজ শুরু করে। যা দুই বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা কিন্তু ৩ বছর পেরিয়ে গেলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফলতির কারণে কাজ শেষ হচ্ছে না। এতে করে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে এবং অনেকে দুর্ঘটনারও শিকার হয়েছেন। এই জনদুর্ভোগ থেকে রক্ষা পেতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা। ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের কলোনি এলাকার বাবুল হোসেন বলেন, ‘এই ব্রিজের কাজ যেভাবে করা হচ্ছে, তা কয়েক বছরের মধ্যে নষ্ট হয়ে যাবে। জনগণের কোটি কোটি টাকা গচ্চা যাচ্ছে।’ব্রিজের দায়িত্বে থাকা কনকর্ড প্রগতি কনসোর্টিয়াম লিমিটেডের অ্যাসিটেন্ট ইঞ্জিনিয়ার সাব্বির আজিজ বলেন, ‘এই ব্রিজের স্টিমেট দেওয়া সম্ভব নয়। এই প্যাকেজের আওতায় ৮টি ব্রিজ হচ্ছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের কাছে গেলে সব তথ্য পাবেন।’ঠাকুরগাঁও সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাফিউল ইসলাম বলেন, ‘এই তথ্য আমাদের কাছে নেই। এই পেতে হলে বগুড়া অফিসে যেতে হবে।’ওয়েস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্পের পরিচালক খান মো. কামরুল আহসান বলেন, ‘এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বললে, সবকিছু জানতে পারবেন।’

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button