প্রকল্প সভাপতির কারণে আটকে আছে অনুদানের দ্বিতীয় কিস্তির অনুদানের অর্থ

রংপুর প্রতিনিধি : রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ বাওচণ্ডি হাজীপাড়া জামে মসজিদের প্রকল্প সভাপতির কারণে আটকে আছে অনুদানের দ্বিতীয় কিস্তির অনুদানের অর্থ। এনিয়ে এলাকায় একাধিক বৈঠকেও কোন সুরাহা হয়নি। ফলে এলাকার লোকজনের মাঝে চাপা উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, গত অর্থবছরে ওই মসজিদের উন্নয়নে টিআর কর্মসুচির আওতায় এক লাখ ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রকল্প কমিটি প্রথম কিস্তিতে ৬৫ হাজার ২৫০ টাকা বরাদ্দ পান। ওই অর্থসহ এলাকার
লোকজনের অর্থায়নে মসজিদে দু’লাখ ৩০ হাজার টাকার উন্নয়ন কাজ সংঘটিত হয়। এরপর মসজিদ কমিটি দ্বিতীয় কিস্তির টাকা উত্তোলনের জন্য মাস্টার রোল, ভাউচার ও কার্যবিবরণী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসে জমা দেন। কিন্তু দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও রহস্যজনক কারণে দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ উত্তোলন করছেননা প্রকল্পের সভাপতি মনছার আলী। এনিয়ে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতিসহ এলাকার লোকজন সভাপতির কাছে গেলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন- ‘ওই টাকা উত্তোলনের কথা যে বলবে তারই পা ভেঙে দেয়া হবে।’ লোকজনের দাবী- দ্বিতীয় কিস্তির টাকা আত্মসাতের জন্য প্রকল্প সভাপতি নানা টালবাহানার আশ্রয় নিয়েছেন। এনিয়ে এলাকার লোকজনের মাঝে চাপা উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি সুরাহার জন্য মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যসহ এলাকার লোকজন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহদী হাসান বলেন, বিষয়টি তদন্তসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কুতুবপুর ইউপি চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে।
কুতুবপুর ইউপি চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান দুলু বলেন, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সেখানে বৈঠক করেছি। ইতোমধ্যে এলাকার লোকজন মসজিদের উন্নয়নে বেশকিছু কাজ করেছেন। তাদের মধ্যে অর্থ আত্মসাতের কোন মানসিকতা পরিলক্ষিত হয়নি। কিন্তু মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুকুল মিয়া দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ হাতে রাখতে চান বলে টাকা উত্তোলনে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। এনিয়ে এলাকার লোকজনের মাঝে চাপা উত্তেজনার সৃষ্টি হয়ৈছে। তবে লোকজনকে শান্ত থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে।
এদিকে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুকুল মিয়া জানিয়েছেন- আমি একাই কেন টাকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব। মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যসহ এলাকার লোকজন সিদ্ধান্ত নেবেন ওই
টাকায় কি হবে।
প্রকল্প কমিটির সভাপতি মনছার আলী বলেন, বর্তমানে মসজিদ পরিচালনায় পক্ষে বিপক্ষে দু’টি গ্রুপ হয়েছে। একটি গ্রুপ চায় টাকা নিয়ে মসজিদের কাজ করবে। আবার আরেকটি গ্রুপ চায় কাজ না করে
মসজিদ ফাণ্ডে টাকা জমা রাখবে। একারণে আমি টাকা উত্তোলন থেকে নিজেকে বিরত রেখেছি। সবাই একমত হলে আমি অবশ্যই টাকা উত্তোলন করব- এর বাইরে নয়।




