
করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেই ভারতের কীভাবে ভোট নেয়া হবে, তা নিয়ে শুক্রবার বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করেছে দেশটির নির্বাচন কমিশন।
বিহার রাজ্যে নভেম্বরে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা আর ২০২১ সালের এপ্রিল-মে মাসে ভোট নেয়ার কথা পশ্চিমবঙ্গ, আসামসহ কয়েকটি রাজ্যে। এছাড়াও উপনির্বাচন রয়েছে।
ভোটগ্রহণের পুরো প্রক্রিয়াতেই করোনা মোকাবিলার ব্যবস্থা করার কথা বলেছে। এর জন্য রাজ্য স্তরে এবং প্রতিটি বিধানসভা স্তরে একেকজন করে নোডাল অফিসার নিয়োগ করা হবে। বাড়তি ভোট কর্মী নিয়োগ করতে হবে এবং সামাজিক দূরত্ববিধি মেনে যাতে তারা যাতায়াত করতে পারেন, তার জন্য বাড়তি গাড়িও যোগাড় করার কথা বলা হয়েছে নির্দেশিকায়।
শুক্রবারের নির্দেশিকায় নির্বাচন কমিশন বলেছে :
– নির্বাচন সংক্রান্ত সব কাজের সময়ে আবশ্যিকভাবে মাস্ক পড়তে হবে।
– প্রতিটি বুথ ভোটের আগের দিন জীবানুমুক্ত করতে হবে। বাছতে হবে এমন জায়গা, যা যথেষ্ট বড়, যাতে সামাজিক দূরত্ববিধি মেনে চলা যায়।
– বুথে ঢোকার আগে প্রত্যেক ভোটারের তাপমাত্র মাপা হবে। যাদের তাপমাত্রা বেশি থাকবে, তাদের ফিরিয়ে দিয়ে ভোটগ্রহণ পর্বের একেবারে শেষ ঘন্টায় আসতে বলা হবে। প্রত্যেক ভোটারকে গ্লাভস দেওয়া হবে। সেটা পড়েই তাকে নাম সই করতে হবে এবং ই ভি এমের বোতাম টিপতে হবে।
– যাদের বয়স ৮০-র বেশি, যারা করোনা মোকাবিলার জন্য জরুরি পরিষেবার সাথে যুক্ত এবং যাদের করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছে, তাদের জন্য পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা করা হবে।
– মনোনয়ন দাখিল করার পুরো প্রক্রিয়াই অনলাইনে করা যেতে পারে। যদি সশরীরে হাজির হয়ে কোনও প্রার্থী মনোনয়ন পত্র দাখিল করতে চান, তাহলে মাত্র দুজন সঙ্গীকে নিয়ে পূর্ব নির্ধারিত সময়ে তাকে রিটার্নিং অফিসারের কাছে যেতে হবে।
– প্রচারের জন্য রোড শো করা যেতে পারে, কিন্তু সর্বাধিক ৫টি গাড়ি ব্যবহার করা যেতে পারে। বাড়ি বাড়ি ঘুরে প্রচার করতে হবে প্রার্থীর সাথে সর্বাধিক ৫ জন ব্যক্তি থাকতে পারবেন।
– নির্বাচন কর্মীদের জন্য ফেসমাস্ক, স্যানিটাইজার, ফেসশিল্ড এবং গ্লাভস দেয়া হবে। বাড়তি কর্মীও নিয়োগ করা হবে, যাতে কারো করোনা লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত পরিবর্ত কর্মীকে কাজে লাগানো যায়।
যদিও বিহারের ক্ষমতাসীন জোট ছাড়া প্রায় সব বড় রাজনৈতিক দলই ভোট পিছিয়ে দেয়ার আবেদন করেছিল। কিন্তু নির্বাচন কমিশন আজ নতুন নির্দেশিকা জারি করার ফলে মনে করা হচ্ছে যে সময় মতোই হয়তো ভোট হবে।
বিহারে সোয়া এক লাখ করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছে, মৃত্যু হয়েছে ৫৭৪ জনের।
সূত্র : বিবিসি




