প্রবৃদ্ধি এখন রাজনৈতিক সংখ্যায় পরিণত হয়েছে: সিপিডি

সরকারের সফলতা দেখাতে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি এখন রাজনৈতিক ‘স্পর্শকাতর’ সংখ্যায় পরিণত হয়েছে বলে মনে করে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
এ জন্য স্বাধীন পরিসংখ্যান কমিশন গঠনের দাবি করে সংস্থাটি বলছে, সদ্য বিদায়ী ২০১৯-২০ অর্থবছরে তাদের হিসাবে প্রবৃদ্ধি ৫.২৪ শতাংশ নয়, ২.৫ শতাংশ বা তার কাছাকাছি হওয়ার কথা।
রবিবার এক অনলাইন বিফ্রিংয়ে সিপিডি জানায়, এ ধরনের পরিসংখ্যান দেওয়ার কারণে বাংলাদেশের পরিসংখ্যান বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষণে বলা হয়, গণমাধ্যমে প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে মনে হচ্ছে, অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসের হিসাব করেই জিডিপি প্রবৃদ্ধির হিসাব দেওয়া হয়েছে। করোনা সময়কালীন অর্থ বছরের শেষ তিন মাসের (এপ্রিল-জুন) তথ্য-উপাত্ত প্রাক্কলিত জিডিপিতে হিসাব করা হয়নি।
সিপিডি জানায়, পাকিস্তানের প্রবৃদ্ধি হয়েছে -০.৪ শতাংশ, ভিয়েতনামের ১.৮১ শতাংশ। সেখানে বাংলাদেশের ৫.২৪ শতাংশ!
সিপিডি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এখন রাজনৈতিক স্পর্শকাতর সংখ্যায় পরিণত করা হয়েছে। আগের পাঁচ বছরের চেয়ে কত বাড়লো সরকারের সে সাফল্য হিসেবে এটা দেখানো হয়।’
‘কিন্তু অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি শুধু সংখ্যা নয়। যদি দারিদ্র্য না কমে, বৈষম্য যদি বেড়ে চলে এবং কর্মসংস্থান তৈরি না হয়, তাহলে উচ্চ প্রবৃদ্ধি দিয়ে কোনো কাজ হয় না’ যোগ করেন তিনি।
এছাড়া প্রবৃদ্ধি এখন রাজনৈতিক সংখ্যা হওয়ায় তথ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতাও খর্ব করা হচ্ছে বলে মনে করেন ফাহমিদা খাতুন।
তথ্য উপাত্তের দুর্বলতা দূর করতে পরিসংখ্যান ব্যুরোকে আরও শক্তিশালী করার সুপারিশ করেছে সিপিডি। প্রতি তিন মাস পর জিডিপি’র হিসাব করা ও সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য অঞ্চলভিত্তিক জিডিপি’র হিসাব দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
বিশ্বাসযোগ্য তথ্য উপাত্তের জন্য আলাদা একটি কমিশন গঠনের সুপারিশ করে সিপিডি’র ফেলো ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে সরকার চাইলে সিপিডি সব ধরনের সহায়তা করবে।’
সিপিডি বলছে, এই ধরনের প্রবৃদ্ধি হিসাব সরকারের নীতি প্রণয়নে বিভ্রান্তি তৈরি করবে। এছাড়াও বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রয়োজনে যুক্ত দেশগুলোও বিভ্রান্তিতে পড়তে পারে।




