পহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

সুনামগঞ্জে অবিরাম বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ক্রমেই বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। বাড়ছে নদ-নদী ও হাওরের পানি। প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। তলিয়ে গেছে হয়েছে পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকা।
এছাড়া জেলার ৭টি উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতিরও অবনতি হয়েছো। জেলার বিভিন্ন উপজেলার লাখো মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। দুই দফা বন্যায় ভোগান্তিতে লাখো মানুষ।
শনিবার দুপুরে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ৫১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। সুরমা নদীর পানি তীর উপচে প্লাবিত হয়েছে শহরের বেশিরভাগ এলাকা। পানি ঢুকেছে বাসাবাড়ি ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। পুরো শহরজুড়ে থইথই করছে পানি।
এদিকে পানিতে সড়ক তলিয়ে সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর-তাহিরপুর সড়কে সরাসরি যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। বন্ধ রয়েছে সুনামগঞ্জ-ছাতক সড়কের যানচলাচল। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত করা হয়েছে আশ্রয় কেন্দ্র।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জে গত ৩ দিন থেকে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। একইভাবে সুনামগঞ্জের উজানে ভারতের চেরাপুঞ্জিতে গত ২৪ ঘন্টায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ৫২৩ মিলিমিটার। আর সুনামগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা ২৫২ মিলিমিটার।
ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জেলার সদর, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, ছাতক ও দোয়ারাবাজার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ও দিরাই উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এসব এলাকার নিম্নাঞ্চলের লাখো মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়ছেন। তাহিরপুর উপজেলার কয়েক শতাধিক গ্রামের মানুষ নতুন করে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এছাড়া প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা।
এ দিকে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলঘর, বিলপাড়, নবীনগর, বড়পাড়া, মল্লিকপুর, ওয়েজখালী কালীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় সুরমা নদীর তীর উপচে ঢলের পানি প্রবেশ করেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সবিবুর রহমান জানান, সুনামগঞ্জ ও ভারতের মেঘালয়ে এখনও বৃষ্টিপাত অব্যহত। নদী ও হাওরের পানি বেড়েই চলছে। যেভাবে পানি বাড়ছে তাতে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হতে পারে।
জেলা প্রশাসক মো.আব্দুল আহাদ জানান বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া পানিবন্দি মানুষদের জন্য শুকনো খাবার, ত্রাণ সহায়তা ইতিমধ্যে সকল উপজেলায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবেলার সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সুত্র : দেশ রূপান্তর




