বিবিধশিরোনাম

ভ্যাকসিন ছাড়াই দুর্বল হচ্ছে করোনা, আশার খবর শোনালেন চিকিৎসক

করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন কবে নাগাদ আসবে সেই চিন্তা আপাতত না করলেও চলবে। কারণ ইতালিয়ান সংক্রমক রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মাত্তেও বাসেত্তি বলেছেন, করোনাভাইরাস দুর্বল হয়ে পড়েছে, এমনকি ভ্যাকসিন ছাড়াই এটি নির্মূল হতে পারে। তার দাবি, করোনাভাইরাস এক সময় ছিল ‘আক্রমণাত্মক বাঘ’, তবে মহামারী ভাইরাসটি এখন দুর্বল হয়ে বন্য বিড়ালে পরিণত হয়েছে।
অধ্যাপক মাত্তেও বাসেত্তি জানান, তিনি নিশ্চিত যে ভাইরাসটির ‘তীব্রতা পরিবর্তিত হচ্ছে’ এবং সংক্রমণের যে পর্যায়ে রোগীরা আগে মৃত্যুবরণ করতেন সেখান থেকে রোগীরা এখন বেঁচে ফিরে আসছেন।
ভাইরাসটি যে দুর্বল হচ্ছে এটা সত্য। এমনকি কোভিড-১৯ কোন ভ্যাকসিন ছাড়াই নির্মূল হতে পারে। বিশেষ করে করোনাভাইরাস এতটাই দুর্বল হয়ে পড়ছে যে নিজে থেকেই মারা যাবে।
তিনি বলেন, মহামারীর শুরুতে ইতালিতে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের যেভাবে ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়েছে এখন সে রকমটা দেখা যাচ্ছে না।
মহামারীর এ পর্যায়ে করোনাভাইরাসে মৃত্যুঝুঁকি ও সংক্রমণের পরিমাণ কমে এসেছে বলে জানান অধ্যাপক বাসেত্তি। ভাইরাসটির জিনগত রূপান্তর, উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং মানুষের সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার প্রবণতাই এর কারণ বলে তিনি মনে করছেন।
কিন্তু, অন্যান্য বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, করোনাভাইরাসের দুর্বল হওয়ার বিষয়ে এখনও বৈজ্ঞানিক কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
ইতালির সান মার্টিনো জেনারেল হাসপাতালের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বাসেত্তি দাবি করেন, মার্চ-এপ্রিল থেকে করোনাভাইরাসের জিনগত পরিবর্তন হচ্ছে।
তিনি বলেন, মার্চ-এপ্রিলে করোনাভাইরাস আক্রমণাত্মক বাঘের মতো ছিল এখন এটি বন্য বিড়ালে পরিণত হয়েছে। যেখানে ৮০-৯০ বছর বয়সীরা দুই তিন দিনের মধ্যে মারা যেতেন এখন তারা কোনো ধরনের কৃত্রিম সাহায্য ছাড়া শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছেন এবং উঠে বসতে পারছেন।
তিনি জোর দাবি করে বলেন ‘আমার কাছে যে কেসগুলো রয়েছে তা পর্যবেক্ষণে বলতে পারি ভাইরাসটির তীব্রতা হ্রাস পাচ্ছে’।
তবে অন্যান্য বিজ্ঞানীরা অধ্যাপক বাসেত্তির এই ধারণাটিকে স্বাগত জানাননি, কারণ তিনি এখনও এটার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দিতে পারেননি।
অস্ট্রেলিয়ার ওলংগং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডা. গিদিওন মেয়ারোভিটস-কাটজ বলেছেন, ভাইরাসটি নির্মূল হয়ে যাবে বলে বাসেত্তির যে ধারণা তা ‘সন্দেহজনক’ বলে মনে হচ্ছে’।
এর আগেও করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে সংক্রামক রোগের অনেক চিকিৎসক এ ধরনের দাবি করেছিলেন তবে পরবর্তীতে এসব নিয়ে অনেক সমালোচনাও হয়েছে।
সূত্র : ডেইলি মেইল

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button