মহেড়া পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে করোনার হানা, মির্জাপুরে আক্রান্ত ৩৫

সংবাদদাতা, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) : টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মহেড়া পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের (পিটিসির) মেডিকেল এ্যাসিন্ট্যান্টসহ নতুন করে দুইজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর আগে স্বামী-স্ত্রীসহ একই পরিবারের ৫ জন আক্রান্ত হন।
বুধবার নতুন ২ জনসহ মোট ৩৫ জন আক্রান্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাকসুদা খানম।
মঙ্গলবার করোনায় আক্রান্ত হয়ে ইঞ্জিনিয়ার খলিলুর রহমান তোতা (৬২) নামে এক ব্যক্তি মারা গেছেন। এর আগে রেনু বেগম নামে এক বৃদ্ধা মারা যান।
বুধবার নতুন আক্রান্তরা হলের মহেড়া পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের মেডিকেল এ্যাসিন্ট্যান্ট (৩০), তার বাড়ি নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ নন্দিপুর গ্রামে এবং অপরজন হলেন পাকুল্যা-সাটিয়াচড়া গ্রীনটেকর কারখানার নারী শ্রমিক (৪৩), তার বাড়ি নরসিংদী জেলার রায়াপুরা থানায়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, গত ২৫ মে পর্যন্ত আক্রান্ত ছিলেন মহেড়া পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার (পিটিসির) একজন কনস্টেবল (২৮), কুরনি গ্রামের এক যুবক (২৩), কামারপাড়া গ্রামের এক ব্যক্তি (৩০), আড়াইপাড়া গ্রামের এক ব্যক্তি (৩০), আনাইতারা ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামের এক ব্যক্তি (৪০) এবং বানাইল ইউনিয়নের কাওয়ালীপাড়া গ্রামের এক ব্যক্তি (৩০)। নতুন করে ১২ জন আক্রান্ত হওয়ায় উপজেলা প্রশাসন ফতেপুর এলাকায় একটি মাদ্রাসাসহ আক্রান্তদের বাড়ির আশপাশে ২০০ শ বাড়ি লগডাউন ঘোষণা করেছেন।
বুধবার পর্যন্ত বাবা মেয়েসহ ৩৫ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন যা টাঙ্গাইল জেলার ১২ উপজেলার মধ্যে সর্বাধিক।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুবায়ের হোসেন এবং মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সায়েদুর রহমান বলেন, এখানে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, সাভার ও গাজীপুর থেকে লোকজন বিভিন্ন কৌশলে প্রবেশ করছেন। এছাড়া গোড়াইতে রয়েছে শিল্পাঞ্চল। বিপুল সংখ্যক লোকজনকে সচেতন করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এবং স্বাস্থ্য বিধি মেনের চলার জন্য প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দিন রাত মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, মির্জাপুর পৌরসভা ও ১৪ ইউনিয়নে করোনা ভাইরাস সন্দেহে ৭৫০ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ৭৫০ জনের মধ্যে স্বাস্থ্য কর্মী, ইউএনও অফিস ও কৃষি অফিসের চারজন কর্মচারী এবং একজন সাংবাদিকসহ ৩৫ জন করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হয়েছেন। গতকাল (২ জুন) গোহাইলবাড়ি গ্রামের ইঞ্জিনিয়ার খলিলুর রহমান তোতা (৬২) এবং গত ২৬ এপ্রিল কামারাপাড়া গ্রামের রেনু বেগম ৫৫ বছরের বৃদ্ধা করোনায় মারা গেছেন। আক্রান্ত ব্যক্তিরা বিভিন্ন হাসপাতাল ও নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে রয়েছেন। টাঙ্গাইল জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশী নমুনা সংগ্রহ হয়েছে মির্জাপুর উপজেলায় বলে স্বাস্থ্য সহকারী মৃদুল জানিয়েছেন। এ পর্যন্ত ৩৫জন আক্রান্ত ও দুইজন মারা যাওয়ায় এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পরেছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. যুবায়ের হোসেন বলেন, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে পুলিশ সদস্যকে ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে আইসোলেশনে পাঠানো হয়েছে। অন্যরা নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে রয়েছেন। একটি মাদ্রাসাসহ দুই শতাধিক বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ বাহিনী এবং স্বাস্থ্য বিভাগ সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে করোনা ভাইরাস নির্মূলে জনগণকে সচেতন করতে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।




