বিনোদন

কনসার্ট নেই, শ্রেয়া এখন ইউটিউবে

করোনাভাইরাসের কারণে বন্ধ রয়েছে কনসার্ট। সিনেমা, অডিও রেকর্ডিংয়েরও একই অবস্থা। বলিউডের অধিকাংশ গায়ক-গায়িকাই এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গান শোনাচ্ছেন শ্রোতাদের।
ঘরবন্দী শ্রেয়া ঘোষালও সেই পথে। বর্তমানে দেশের এক নম্বর গায়িকা ফ্যানদের মনোরঞ্জন করছেন সোশ্যাল মিডিয়া লাইভে। সব রকমের সোশ্যাল মিডিয়ায় শ্রেয়া সক্রিয় অনেক দিন। এখন লাইভ শো করছেন। গান গাইছেন শ্রোতাদের অনুরোধ মতো। বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে কয়েক দিন অন্তর লাইভ গান শোনানোর ব্যবস্থা করতে চান তিনি। শ্রেয়ার নতুন গান ‘না ও ম্যায়’ মুক্তি পেয়েছে কিছুদিন আগে। সেই গানের মিউজিক ভিডিয়ো শুটিংয়ের বেশ কিছু দৃশ্য তিনি তুলে ধরেন তার সোশ্যাল মিডিয়ায়। এই নতুন গান নিয়েও তিনি শ্রোতাদের বিভিন্ন প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেন। অন্য ধরনের এই গান করার কথা কী ভাবে মাথায় এল শ্রেয়ার? এক ভক্ত জানতে চাইলে শ্রেয়ার উত্তর, ‘আমার ভাই এই গান গাইতে অনুপ্রাণিত করেছে আমায়। অন্যরকম কিছু করার কথা ওই প্রথম আমাকে বলে। আমি তখন বলি, তা হলে তুমি এই গানটার প্রযোজক হও। সেই থেকেই এই গানের শুরু’।
এক একজন এক এক জায়গায় থাকার জন্য অবিরাম ভিডিও কল, কনফারেন্স কল ছিল একমাত্র ভরসা। গল্প করতে করতে সেই কথা ভক্তদের সামনে তুলে ধরেন গায়িকা।
তিনি রীতিমতো ভক্তদের কাছ থেকে গানের অনুরোধও নিচ্ছেন তার ইউটিউব চ্যানেলের লাইভ শোয়ে। কেউ তাকে পুরোনো জনপ্রিয় কোনও গান গাইতে অনুরোধ করছেন। আবার কেউ তাকে তার নতুন কোনও জনপ্রিয় গান গাইতে বলছেন। আবার অনেকে নানা রকম প্রশ্ন করছেন শ্রেয়াকে।
এই লকডাউনে তিনি কীভাবে সময় কাটাচ্ছেন? এক ভক্তের প্রশ্নে শ্রেয়ার জবাব, ‘গান রয়েছে। গান গেয়ে সময় দিব্যি কেটে যায়। বাড়ি থেকে বেরোতে হচ্ছে না বলে রেওয়াজ করার আরও অনেক বেশি সময় পাচ্ছি। এ ছাড়া নানা রকম খাবার রান্না করছি। জিম করছি বাড়িতে যতটা সম্ভব। এ ভাবেই আমার সময় দিব্যি কেটে যাচ্ছে’। তিনি তার ভক্তদের বাড়িতে থাকার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানান। ‘চিকিৎসক, নার্সদের জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত সব মানুষকে বাইরে যেতে হচ্ছে। তাই যারা জরুরি পরিষেবার আওতায় নেই, তারা যদি বাড়িতে থাকেন তা হলেও অনেক উপকার হবে দেশের। আর বোর হলে তার গান শোনার ব্যবস্থা তো রয়েছেই।’
তবে এর মধ্যে সামান্য বিতর্কেও জড়ালেন। যখন তিনি ইনস্টাগ্রামে জানান, টিক টক লাইভে আসবেন, ভক্তদের মধ্যে বেশ কয়েকজন আপত্তি তোলেন। অনেকে বলেন, তাদের এই অ্যাপ নেই। আবার অনেকে বলেন, ‘এই চীনা অ্যাপ ব্যবহার করার কোনো মানে নেই। তার মতো জনপ্রিয় গায়িকার এই অ্যাপ ব্যবহার করা উচিত নয়।’ এর অবশ্য কোনো উত্তর দেননি শ্রেয়া। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে একা হাতে মাইক্রোফোন, কীবোর্ড সামলে হাসিমুখে শ্রোতাদের একটার পর একটা অনুরোধে গান গেয়েছেন। তাই বলা যেতেই পারে বড় কনসার্ট বন্ধ হলেও ঘরোয়া জলসা কিন্তু দিব্যি চলছে গায়ক-গায়িকাদের লাইভ সোশ্যাল মিডিয়া শোয়ে।
শ্রেয়ার মতো মুর্শিদাবাদ কানেকশন রয়েছে ভারতের এক নম্বর পুরুষ শিল্পী অরিজিৎ সিংয়ের। তাকে অবশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় একেবারেই পাওয়া যায়নি। দিল্লির কনসার্ট বন্ধ হওয়ার খবরই তার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেষ আপডেট। তিনি এখানে অত সক্রিয়ও নন। তবে সোশ্যাল ডিস্টেন্সিংয়ের বাজারে শ্রেয়ার সিদ্ধান্ত বোঝাচ্ছে, সোশ্যাল মিডিয়াই শিল্পীদের ভবিষ্যৎ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button