শহরের ফুটপাতেও এবার নোভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন শহরের দু’প্রান্তের দুই ফুটপাথবাসী ভিক্ষুক। আর তাতেই ঘুম নেই রাজ্যের স্বাস্থ্য ভবনের।
বিদেশ যাত্রা, আন্তর্জাতিক উড়ান, রাষ্ট্রনায়ক, সেলিব্রিটি, চলচ্চিত্র শিল্পী থেকে শুরু করে এবার করোনার থাবা ফুটপাথেও। শহরের দুই প্রান্তের ২ ফুটপাথবাসীর শরীরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ মিলতেই উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্য ভবন। কারণ শহর কলকাতায় লক্ষাধিক মানুষ ফুটপাথে বাস করেন। সেই সংখ্যাটা কতটা বিশাল, তার হিসেবে রয়েছে স্বাস্থ্য ভবনের কাছে। আর তাতেই নতুন আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সব মিলিয়ে চক্ষু চড়কগাছ স্বাস্থ্য ভবনের।
বউবাজার থানার সাব-ইনসপেক্টর ফুটপাথবাসী এক ব্যক্তিকে নিয়ে ৩ এপ্রিল এন আর এস মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল আসেন। ফুটপাথবাসী ওই ব্যক্তির শরীরে ভাইরাসের সংক্রমণ হয়ে থাকতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকেই তাঁকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন ওই সাব-ইনসপেক্টর।
জানা গেছে, ফুটপাথবাসী ওই ভিখারি কথা বলতে পারেন না। সোমবার (৬ এপ্রিল) তার লালারসের পরীক্ষার রিপোর্ট আসে। রিপোর্ট পজেটিভ। অর্থাৎ ফুটপাতবাসী ওই ভিক্ষুকের শরীরে নোভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মিলেছে। এরপরই মঙ্গলবার স্বাস্থ্য ভবনের নির্দেশে ওই ভিখারিকে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এখানেই শেষ নয়। উত্তর কলকাতার পর দক্ষিণ কলকাতার গার্ডেনরিচ এলাকার টুকরা বস্তির বাসিন্দা ৫৫ বছরের এক ভিখারির শরীরেও মিলেছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। উপসর্গ দেখে তাকে ভর্তি করা হয়েছিল এম আর বাঙ্গুর হাসপাতাল। তারও লালারস পরীক্ষার রিপোর্ট পজেটিভ এসেছে সোমবার। স্বাস্থ্য ভবনের নির্দেশে আজ তাকেও বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য ভবনের এক আধিকারিকের কথায়, বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগের। কীভাবে এই দুজন ফুটপাথবাসী করোনায় সংক্রামিত হলেন, সেটাই আমরা খুঁজছি। তারা কোথায় গিয়েছিলেন, তাদের সঙ্গে কারা কারা সংস্পর্শে এসেছেন, তারা যে জায়গায় থাকেন সেখানে ফুটপাথে আর কারা কারা বাস করেন, সব বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। কীভাবে এরা সংক্রমিত হলেন, আমরা সেটা নিয়ে চিন্তিত।




